চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশের কোনো মানুষই গৃহহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীন দেশে কোন মানুষই গৃহহীন থাকবে না। এটা শুধু শহর পর্যায়ে নয়, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলছে। প্রত্যেকটা মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার ১ হাজার ৪৪০ জন সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ও মূল অধিবাসীকে তিন কাঠা আয়তনের একটি করে প্লটের বরাদ্দপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রোববার সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বরাদ্দপত্র তুলে দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। সেসময় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন শহরের সব সুবিধা পায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানো ও এর বাসযোগ্যতা বজায় রাখাতে ১৯৯৫ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯৬-২০০৯ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৬২২৭.৩৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ অধিগ্রহণের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ আশ্রয়হীন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এসব মানুষ তাদের যথাযোগ্য পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সাথে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় যা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সেই সময় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় অধিবাসীদের সংঘর্ষে একজন প্রাণ হারান। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখনকার জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে আন্দোলনকারীদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর পরই তিনি তার প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে জোর তৎপরতা শুরু করেন।

রোববার ১৪৪০ জন মূল অধিবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তকে প্লটের বরাদ্দপত্র প্রদানের মাধ্যমে মোট ৭৮৮২ জনকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে তার সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলো।