চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেন অস্থির স্বর্ণের দাম?

মহামারি করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়ে বিশ্বজুড়ে চাঙ্গা স্বর্ণের বাজার। রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে এখন প্রতি আউন্স (২.৪৩০৫ ভরি) স্বর্ণের দাম প্রায় ১ হাজার ৮৬৫ ডলার। যা গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ৭০ হাজার টাকা। কেন হু হু করে দাম বাড়ছে স্বর্ণের?

বিজ্ঞাপন

স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদরা এর কারণ হিসেবে বলছেন, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ স্থবিরতা, তেল ও ডলারের দরপতনে স্বর্ণের বাজার অস্থির। ফলে রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে এর।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও স্বর্ণের চাহিদার শীর্ষে থাকা দেশগুলোতে (যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারত) চলছে বাণিজ্যযুদ্ধ। এ কারণেও দাম বাড়ছে। এমনকি ভবিষ্যতে দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তাও এই তিনটি দেশের স্থিরতার উপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, করোনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এছাড়া ডলারেরও দর কমেছে। এসব কারণে মানুষ স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তাই দামও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, করোনার সংক্রমণের প্রতিরোধে নেওয়া লকডাউনের কারণে চাহিদা কমেছে তেলের। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিলের একপর্যায়ে শূন্যের নিচে নেমে যায় তেলের দাম। সে সময় ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম নেমে আসে মাইনাস ৩৭.৬৩ ডলারে।

ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরো বাড়বে উল্লেখ করে বাজুসের সভাপতি বলেন, চলতি বছরেই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলার অতিক্রম করতে পারে।

“মূলত আমেরিকা-চীন-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই ৩ দেশের স্থিরতার উপরই স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করছে।”

বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা হওয়ায় এখন বৈধপথে আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি চালান এসেছে বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

বৈধপথে স্বর্ণ আমদানি হওয়ায় দেশে দাম কমবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক খান বলেন, নীতিমালা হওয়ার আগেও প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ কেজি স্বর্ণ বিদেশ থেকে এসেছে। কারণ একজন প্রবাসী বাঙ্গালী শুল্ক ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণ আনতে পারে। কিন্তু দাম তো কমেনি। বরং বেড়েছে।

বর্তমানে করোনার কারণে বিদেশ থেকে মানুষ আসতে পারছে না। এ কারণে স্বর্ণও কম আসছে। ফলে দেশে দাম বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

“তবে নীতিমালা হওয়ায় ভবিষ্যতে আমদানি বাড়বে। তখন দাম কমতে পারে হয়তো।”

করোনার কারণে এই মূহুর্তে অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ নিরাপদ নয় মনে করেই মানুষ স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগের প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিনিয়োগ করার কতদিনের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারবে সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় উদ্যোক্তারা। তাই যাদের নগদ সঞ্চয় রয়েছে তারা নিরাপদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

তাছাড়া স্বর্ণ এমন একটা পণ্য যার দাম কমে না, বরং বাড়ে। সে কারণে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। যার প্রভাবে দামে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব স্বর্ণের বাজারে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এসব দেশের বিনিয়োগ মন্দায় স্বর্ণের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। যার প্রভাব পড়ছে দামে।

জানা গেছে, সর্বোচ্চ স্বর্ণ ব্যবহারের দিক থেকে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। বুধবার দেশটিতে ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ১০ গ্রাম (১ ভরির সামান্য কম) স্বর্ণের দাম পৌঁছায় ৪৯ হাজার ৯৯৬ রুপিতে (৬৭০.৩২ ডলার); বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা। এই দামের বৃদ্ধি ২০১৯ সালের দাম থেকে ২৮ শতাংশ বেশি।

বিশ্ববাজারেও বেড়েছে সোনার দাম। বুধবার প্রতি আউন্স (২.৪৩০৫ ভরি) সোনার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৬৫ দশমিক ৮১ ডলার, যা প্রায় গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশেও বর্তমানে দাম বাড়তি স্বর্ণের। গত ২৩ জুন থেকে প্রতি ভরি স্বর্ণে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৯ হাজার ৮৬৭ টাকা।