চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পরে হত্যা: পুলিশের কাছে যা জানালো অভিযুক্ত দিহান

রাজধানীর কলাবাগানে ইংরেজি মাধ্যম পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগে আসামি ইফতেখার ফারদিন দিহানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন চাইবে পুলিশ।

ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও বন্ধুরা।

শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার নিজের সোবহানবাগের বাসা থেকে কলাবাগানে বন্ধু দিহানের বাসায় যায়। সেখানে যাওয়ার পর আমরা জেনেছি, স্কুলছাত্রীটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বন্ধুর ভাষ্যমতে, এরপর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করার আগেই স্কুলছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধারসহ দিহানকে নামের ওই ছেলেটিকে আটক করি। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক মেলামেশা হয়। এরপর ওভার ব্লিডিং হয়, এ কারণে স্কুলছাত্রীটি সেন্সলেস হয়ে যায়। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তবে দৈহিক মেলামেশার বিষয়টি পরীক্ষা-নীরিক্ষা সাপেক্ষে প্রমাণের বিষয়। এর বাইরে অন্য কোন কেমিকেল ব্যবহার করা হয়েছিলো কি-না, সেটি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিসি বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আল আমিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেখানে দিহান নামের ওই একজনই আসামি, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে বিনীত অনুরোধ করতে চাই, ভিকটিমের পরিবার বুঝে-শুনে মামলা করেছে। এরপরেও এর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিংবা অন্য কোন ইন্ধন থাকলে সেটা আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবো। তাই সকলকে একটিকে অন্যখাতে প্রবাহিত না করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

মামলায় বাদীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাদী বলেছেন, আমার মেয়েকে তার বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এটা তাদের দাবি। ধর্ষণ হয়েছে কি-না তদন্তের ব্যাপার, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়নাতদন্তের চিকিৎসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ধর্ষণ হয়েছে কি-না বা অন্যকোন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে কি-না পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাসায় ডেকে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ডেকে নেওয়া হয়েছে কি-না মামলাতেও উল্লেখ নেই বা তার বন্ধুও স্বীকার করেনি। দিহানের বাবা রাজশাহীতে চাকরি করেন ও ভাই নারায়নগঞ্জে চাকরি করেন। কলাবাগানের ওই বাসায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন দিহান। গতকাল সকালে তার মা বগুড়া যান। আমরা অনুমান করছি, বাসা ফাঁকা থাকায় আনুশকাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিলো।

বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা মো. আল-আমিন ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউ মার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) এহসানুল ফেরদৌস বলেন, ‘মেয়ের বাবা বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন এবং নারী নির্যাতন আইন ২০০৩ এর সংশোধিত আইনের ২ ধারায় মামলাটা করা হয়েছে।’

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিকেল মর্গে প্রেরণ করেছি। তারপর ময়নাতদন্ত হবে। তারপর ডাক্তার যে সনদপত্র প্রদান করবেন সেখানে মৃত্যুর কারণ লেখা থাকবে। তখন বোঝা যাবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মামলার পর জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য বের হয়ে আসবে।’

বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল থেকে নিহত ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সেখানকার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, আমাদের মেয়েকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তার মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষণের ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে কৌশলে বাসায় নিয়ে ওই দিহানসহ চারজন মিলে ধর্ষণ করেছে। হয়তো বাধা দেওয়ায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও কঠোর শস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও বন্ধুরা।

বিজ্ঞাপন