চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৈয়দ আশরাফের ‘কষ্ট’

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিতাকে চিনতাম, জানতাম, একান্তে সাক্ষাতও হয়েছে কয়েকবার। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ঘনঘোর অন্ধকারে সেই এপ্রিলে মুজিবনগরের আম্রকাননে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে ইতিহাসে ‘আলোর দিশারী’ গণ্য হয়েছেন তিনি এবং তাঁর সাথীরা।

স্বাধীন, মুক্ত স্বদেশে তিনি যখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, তখন বার কয়েক কথা বলার সুযোগ হয়েছে সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে। সহজ, সুন্দর, স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন তখন ‘লাখো শহীদের আত্মদানে মুক্ত স্বদেশ, এসো দেশ গড়ি’ রণধ্বনি তুলে দেশ জুড়ে স্বেচ্ছাসেবার এক বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর অদূরে রূপগঞ্জের কাঞ্চন জুট মিলে শ্রমিকসমাজের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা সংগ্রহের জন্য একদল ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী একমাসের স্বেচ্ছাসেবার যে কাজের পরিকল্পনা করেছিল, তার অনুমোদন নেয়ার জন্য, কাজের শেষে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য জাতীয় নেতা, কারাগারে দানবের হাতে প্রাণ দেয়া সৈয়দ নজরুলের কাছে এই যাওয়া।

সৈয়দ আশরাফ, আপনি সেদিন ছাত্রলীগকে নিয়ে কেউ মন্দ বললে ‘কষ্ট’ পাবার কথা বলেছেন অন্তর খুলে। আপনার ‘কষ্ট’ পাবার মর্মন্তদ বাস্তবতা অনুভব করি। আপনার অসাধারণ সংগঠন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রধান দলটির আপনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ সম্পাদক। একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের আপনি কর্ণধার ছিলেন অনেকদিন।

যে মন্ত্রণালয়ের ‘কর্ণ’ আপনি এতটুকু ছুঁয়েও দেখতে চাননি। সেখানে গোপনে গহনে কোনো নিভৃত ‘কষ্ট’ ছিল কিনা জানি না। আপনি পুনরায় রাষ্ট্রের আমলাবিন্যাস এর মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়ভার নিতে ‘সম্মত’ হয়েছেন, কী যে প্রীত হয়েছি, শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হাঁফ ছেড়ে স্বস্তি লাভ করেছি, আমাদের ‘সাধারণ’-এর এসব অনুভূতি, সুখ-দুঃখ আপনারা প্রকৃত উপলব্ধি করেন কিনা জানিনা।

এই সাধারণ-এর একটি মহাকষ্টের কথা বলি। পাকিস্তানের জঠর থেকে বাংলাদেশ-এর মতো একটি দেশের অভ্যুদয় সব মিলিয়েই এক ‘অত্যাশ্চর্য’ ঘটনা। আপনি ঠিকই বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা জন্ম না নিলে এই অপরূপ ঘটনাটি সংঘটিত হতোনা। অন্ততঃ একাত্তরেতো নয়ই।

একুশ বছরের স্বীয় জীবনের অমন সময়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের মহাসুখানুভূতিতে প্লাবিত হয়ে স্বীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটে যখন ফিরে আসি, আমার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যতঃ অখ্যাত আমাকেই ইউকসু-র সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে দিলো। মোটেও প্রস্তুত ছিলামনা অমন মনোনয়নের জন্য। তখন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুক্তিযুদ্ধ বনাম মুক্তিযুদ্ধ। ছাত্রলীগ বনাম ছাত্র ইউনিয়ন। 

সেসময়ে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সমর্থকদের যোগদান ঐতিহ্যগতভাবে স্বাভাবিক ছিল। স্বাধীন স্বদেশে ইউকসু-র প্রথম নির্বাচনে ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একটি মিছিল বুয়েটে ধ্বনিতরঙ্গ সৃষ্টি করে ছুটছিল।

ছাত্র ইউনিয়নের স্বাধীন দেশের মূল স্লোগানটিকে ব্যঙ্গ করে ছাত্রলীগের ঐ মিছিলে স্লোগানটি ছিল নিম্নরূপ: ‘আঁচলে আঁচল ধরি/এসো মোরা দেশ গড়ি’। স্লোগানের মূল কণ্ঠঃস্বরটি ছিলো জাতির পিতার সন্তান শেখ কামাল-এর। না সৈয়দ আশরাফ ভাই, এতটুকু ক্রোধ-আক্রোশ হয়নি, ক্ষোভ হয়নি, তবে নিদারুণ কষ্ট পেয়েছি।

১৯৬৬ সনে বঙ্গবন্ধু ৬-দফার সংগ্রামে যখন কারাগারে, তখন সেই জটিল কঠিন প্রহরে ঢাকা কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী শেখ শহিদুল ইসলাম এবং শেখ কামালের সাথে মিলে গোপনে সাইক্লোস্টাইল মেশিনে লিফলেট ছাপিয়ে সংগ্রামী কারাভাঁ অব্যাহত রেখেছি। 

শেখ কামালকে খুব কাছ থেকে দেখতাম, জানতাম, অসাধারণ গুণী, সাহসী, করিৎকর্মা, সংগঠক, অন্তরসমুদ্র। একই সঙ্গে লঘু চাপল্য, ঠুনকো বৈশিষ্ট্য। ঐ বয়সেই বাংলাদেশ যে কত অভাবনীয়, বিশাল অর্জন, তা অনুধাবন করে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শক্তির ছাত্র সংগঠনের মিছিল থেকে জাতিসত্ত্বার প্রধান পুরুষের সন্তানকণ্ঠ থেকে ‘দেশ গড়া’ স্লোগানকে পরবর্তী সময়ের জাসদ স্টাইলে ব্যঙ্গোক্তি করার ঐ দৃশ্যপটে অশেষ কষ্ট পেয়েছি, প্রমাদ গুনেছি। মাত্র তিন বছর। ক্ষমতাসীন দলের প্রমাদের ফাঁকে কিসিঞ্জার চক্রের সর্বনাশা ছোবল। ঐ ছোবলের জেরে আজকের বাংলাদেশে বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাঝেও ভয়ংকর আদর্শিক অবনতির এ কি চেহারা!

আর ঠিক সেখানেই সৈয়দ আশরাফ, আপনার ‘কষ্ট’। পৃথিবীতে যেখানে যতো দ্রুত অর্থনৈতিক উল্লম্ফন, পাশাপাশি দুর্নীতি-অনিয়মেরও অবাধ রাজত্ব নাচন। এমনি সুরেই প্রধানমন্ত্রীত্বের শেষ দিনগুলোতে কথা বলেছেন মনমোহন সিং। বিশাল সততার পার্বত্য উচ্চতা নিয়েও তিনি তাঁর দল এবং কোয়ালিশনের দুর্নীতির দুর্বৃত্তপনা ঠেকাতে পারেননি। স্বাধীন দেশের অভ্যুদয়ের সারবত্তাকে ধ্বসিয়ে দেবার জন্য বাংলাদেশের সেনানেতৃত্ব ব্যবহৃত হয়েছে বিশ্ব লুটেরা-সাম্প্রদায়িক-ধর্মবেনিয়াদের আন্তর্জাতিক চক্রান্তে। 

সারা দেশে ‘টোপ-প্রলোভন-ভীতি’ কৌশল ব্যবহার করে রাজনীতিবিদদের সুশীল সংস্কৃতি ও ভাবমূর্তির উপর মোক্ষম আঘাত হেনেছে দুই জেনারেলের শাসন। তারা সফল হয়েছে। আপনি অর্থবান না হলে এখন অন্ততঃ প্রধান তিনটি দলে মনোনয়ন পাবার প্রশ্নই ওঠেনা। রাজনীতি মানেই টাকা পয়সার মহাজন হওয়া।

সৈয়দ আশরাফ, আপনি নিজে আর্থিক সততার ব্যতিক্রমী উদাহরণ। অমন লোভনীয় মন্ত্রীত্বও আপনাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। কিন্তু তাতে কী! আপনার দলে সেই সততা বিস্তৃত হয়েছে? বেশী দূরে নয়, আপনার নিজ শহর কিশোরগঞ্জের পানে তাকান। যেখানে কারো জন্য কখনো আপনি তদবির করেন না, শোনেনও না। অথচ আপনার নামটুকু ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আর্থিক সেনাপতি সে শহরে এখন কারা কারা?

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৮ থেকে এখনো পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন এবং প্রধান প্রধান কয়েকটি অপরাধের বিরুদ্ধে অভাবনীয় বিচারিক অগ্রগতিকে বারংবার ধরার ধূলায় ধূলিস্মাৎ করে দিচ্ছে আওয়ামী ভুবনের কারা কারা? প্রতিপক্ষের বিএনপি-জামায়াত-‘আলোকিত’ সম্পাদক-মজিনা ক্রোড়ের সুভদ্র + সুশীল নানা মহাজনরাতো হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারকে ছারখার করে দিতে উদ্যত থাকবেই।

দু’টি প্রধান প্রধান আক্রমণ শাণিয়েছে তারা ২০১৩-২০১৫ সময়ে। এবং এক সময়ে তাদের পিছু হটতে হয়েছে। এখন তারা ব্যাকফুটে, দু’টি আক্রমণই ছিল সর্বাত্মক, জেদী এবং হিংস্র হিংসাত্মক। কিন্তু ব্যাকফুট থেকে বারংবার ঐ প্রতিপক্ষ যুদ্ধাপরাধী জোট, ‘আলোচিত’ মিডিয়াচক্র, সুশীল দেবদূতেরা ফ্রন্টফুটে চলে আসার সুযোগ পাচ্ছে কিভাবে?

বিজ্ঞাপন

এই খানেই কষ্ট। ২০০৮ সনের নির্বাচনে আশাপ্রদ বিপুল বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ যখন রাজনৈতিক এক চমৎকার অর্জনে, ঠিক সেদিনই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আত্মবিধ্বংসী আত্মঘাতী দুই গ্রুপের লড়াই। 

এই আত্মঘাতী লড়াই দেশ জুড়ে চলছেই। না, মতাদর্শিক লড়াই নয়। না, ভালো কাজের প্রতিযোগিতার দ্বন্দ্ব নয়। ময়দানে ছাত্রলীগ। টেন্ডারবাজি-লুটপাট-চাঁদাবাজির দ্বন্দ্ব। গডফাদার-মাদার-ব্রাদার দেশ জুড়ে। সর্বশেষ মাগুরা ফ্রন্ট।

দ্বন্দ্ব কার? ‘আলোকিত’ পত্রিকা ওয়ালারা এসব খবরের জন্য কতো আশা নিয়ে ‘প্রতীক্ষা’য়। একেবারে ফানা ফানা করে ফেলে। কিন্তু তাদের রিপোর্ট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার পথতো অবরুদ্ধ করে দিয়েছে আপনার ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূলের বাস্তবতা। যতোই পত্রিকা পুড়িয়ে ফেলুন আপনাদের তরুণ ক্যাডারেরা, বাস্তবতা ছাই হয়ে যাবে না।

মাগুরার দুই ক্ষমতা খেলোয়াড়। একজন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। একজন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণাদাতা পরিষদে। দ্বন্দ্ব কী নিয়ে? ‘টেন্ডারের ভাগ-বাটোয়ারা’ নামক এক আর্থিক ভজঘট ভাষা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে সেই জেনারেলদের আমল থেকেই। প্রতিপক্ষ সব শহর-গঞ্জে মালপানিওয়ালা। এবার আমাদের লোকদের হাতে মালপানির যোগান ঘটিয়ে দিতে হবে। ক্ষমতাসীন এই নীতির ‘ভাগাড়’ আজ বাংলাদেশ।

‘ছাত্রলীগ’ সম্পর্কে বললে কষ্ট পান আপনি। কিন্তু মূল মহাকষ্টের উৎস যে ক্ষমতাসীনদের ঐ অঘোষিত নীতি। মাগুরায় মাতৃজঠরে শিশুর উপর টেন্ডারবাজির দ্বন্দ্বের সহিংস আঘাতের মতো বর্বর-হীন-জঘন্য কাজের পটভূমিতে কোন কষ্টের কথা বলবেন আপনি? অথচ মায়ের পেটে শিশুর নিরাপত্তা প্রশ্নে, মাতৃমৃত্যুর হার প্রশ্নে বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালে অমর্ত্য সেনসহ কতোজন, কতো দেশ, কতো বিশ্ব প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা পেয়েছে।

এই অগ্রগতির মুখে এসব কি করছে গৌরব এবং ঐতিহ্যের ন্যায়সঙ্গত দাবীদার আপনার ছাত্র সংগঠনটি! অথচ ওরাতো লাঠিয়াল-পেটোয়া-অনুচর মাস্তান মাত্র। ওদের গডফাদার কারা? ওরা বেপরোয়া হলে যে সবই যায়! জানিনা, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা এমন কঠিন বাস্তবতাকে মোকাবেলা করার, অবনতি রোধ করার, পরিস্থিতি উন্নত করার কোন রোড ম্যাপ তৈরি করছেন কিনা! এমন নাজুক, জটিল, কঠিন প্রহরে ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ দেশে আপনার মন্ত্রীত্ব-পরিস্থিতি নিয়ে যা ঘটছিলো, তখন দেখছিলাম প্রতিপক্ষের বদনে, বচনে, ভাবভঙ্গীতে সে কী মুচকি উল্লাস-রিনঝিন বাদ্যবাদন।

শুধু মাগুরা নয়। দেখুন নারায়ণগঞ্জ দৃশ্যপট। ত্বকীর নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার হলো কী! সাগর-রুনী বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ক্লু না দিতে পারলো প্রশাসন, না পারলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। এমন কি প্রতিপক্ষ কিছু মুখরোচক অনুমান ছাড়া কিছুই দিতে পারলো না। ঘটনাটি এমন রহস্যময়তায় ঘেরা কেন?

সেসব পুরোনো কথা বাদ দিলাম। বলেন যুদ্ধাপরাধী জোট যখন ব্যাকফুটে, মুজাহিদ-সাকা যখন চূড়ান্ত বিচারে সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত, এমন সময় হঠাৎ ব্রাজিল থেকে আমদানী করা গম অমন ছত্রাকদুষ্ট কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করলো কেন? কেন ‘চিনি জাফর’ এর পর বাংলাদেশ ‘গমরুল’ নামে একটি নবশব্দে জব্দ হয়ে গেলো?

অথচ পৃথিবীর আনুষ্ঠানিক এক নম্বর শক্তিকে অনবদ্য এক চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বীয় তহবিলে পৃথিবীর অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ একটি সেতু নির্মাণের বিদ্রোহী অমিততেজ সৃষ্ট হয়েছে বঙ্গবন্ধু-কন্যার নেতৃত্বের গভীর থেকেই। এমনি উদাহরণ বিশ্বপটেই দুর্লভ এবং বিরল। বিশ্ব ব্যাংক কেড়ে নিয়েছে বাংলার গণমানুষের অগ্রগতির দুটি বছর। এবং এক সময় হার মানতে হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক নেতৃত্বকেই। ওভাবে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাজনী মহাষড়যন্ত্র-ঘোঁটের ইশারায় বিশ্বব্যাংকের পরিচালিত হওয়া ঠিক হয়নি। এমনটাই বলছে ওরা।

পদ্মা সেতুতে অবরোধ ঘটিয়ে ওরা শেখ হাসিনা সরকারকেই অবরুদ্ধ করার ওৎ পেতেছিল। সে অবরোধ ভেঙ্গেছে নেত্রী সাহসিকা। কিন্তু বিজয়িনী তিনি ক্ষমতাসীন সংগঠনের দেশজোড়া এই নেতিবাচক অবরোধ ভাঙ্গতে পারছেন না কেন?

এদিকে কয়েকজন তরুণকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করার রোমহর্ষক সিরিয়াল ঘটনাকে কিভাবে ‘আওয়ামী ওলেমা লীগ’ নামক একটি ঘোঁট ঐ ধর্মীয় মৌলবাদীদের মতোই হিংস্র-হীন-নোংরা ভাষায় চিত্রিত করে চলেছে! এমনি হত্যাকাণ্ডকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নৈতিক অনুমোদন দেয়া মানবিকতার চরম লংঘন।

যারা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া সরকার ও প্রশাসনের প্রধান কর্তব্য, আর রাষ্ট্রের আইনভঙ্গের উপযুক্ত বিচারতো সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে, বিপরীতে তাদেরকেও কুপিয়ে হত্যা করা উচিত এমনটাও কোনক্রমেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা চাই উপযুক্ত বিচার সর্বক্ষেত্রেই। এ প্রশ্নে সরকার প্রধানের সর্বশেষ বক্তব্য যথোপযুক্ত হয়েছে। এখন চাই প্রশাসনের যথোপযুক্ত কার্যকর পদক্ষেপ। কিন্তু সেই প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কথায় যে বিবেক ভর্তা হয়ে যায়!

জনাব সৈয়দ আশরাফ, আপনাকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় দেখে অনেককালের কষ্টের উপশম হয়েছে। একজন সক্রিয়, উদ্যোগী, মেধাবী ও বাকপটু বাগ্মী সাধারণ সম্পাদকের জন্য দল এবং দেশ অপেক্ষমান। শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বকে যা দেবে পুষ্টির যোগান।

যা সৈয়দ আশরাফ, আপনার কষ্ট, আমাদের অনেকের কষ্ট, মুক্তিযুদ্ধের মূল নির্যাসের অনুকূলশক্তি আর ব্যক্তির কষ্টকে কমাতে পারে। ছাত্রলীগকে ছাড়িয়ে ছাত্র লীগকে যারা লাঠিয়াল বানাচ্ছে, সেখানেই রাশ টেনে ধরুন জোড়েশোরে। এমন সৈয়দ আশরাফ নেতৃত্বের পাশে থাকবে একবিংশ শতাব্দীর মানবমুক্তির সাধকেরা।

আর এতে যদি সক্ষম না হন, তাতে বেজায় বিপদ। একথা আপনি নিজেই বলছেন বারংবার! বিপদ সংকেত, অশনিসংকেত চারপাশে। তবুও বাংলাদেশ আপনাদের প্রতি এখনও সব প্রত্যাশা মুছে ফেলেনি!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View