চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যম কি স্বপ্রেম বাড়িয়ে তুলছে

বছর পনের [১] আগে এটার অস্তিত্ব বলতেই কিছু ছিল না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম এখন আমাদের জীবনে এবং আমাদের শিশুদের জীবনের বড় একটা অংশ দখল করে নিয়েছে। দিন দিন বাড়ছে এ মাধ্যমের ব্যবহার।

উদাহরণস্বরূপ, প্রতিদিন একশ কোটি ব্যবহারকারী সক্রিয় থাকে শুধু ফেসবুকেই। [২]

বিজ্ঞাপন

সামাজিক মাধ্যমের এই যে ব্যবহার-বিস্ফোরণ, এতে বড় ধরনের রূপান্তর দেখা যাচ্ছে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি আত্মপ্রেম বা স্বপ্রেম [৩] (নার্সিসিজম) তথা আত্মমুগ্ধ হয়ে নিজের গুণকীর্তন নিজেই করা। এই বিষয় নিয়ে গবেষণায় আগ্রহও বেশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এবং স্বপ্রেম চিন্তার একটা বিষয়ও বটে।

সামাজিক মাধ্যম কি আত্মপ্রেমী বা স্বপ্রেমী (নার্সিসিস্ট) ব্যক্তির নিজের ঢোল পেটানোর আঙিনা হয়ে উঠছে? সামাজিক মাধ্যম কি আমাদের আর শিশুদের স্বপ্রেমে রূপান্তর করে ফেলছে?

মনোযোগ আকর্ষণ
কেউ কেউ নিজেকে নিজেই প্রচারের জন্য বেছে নিচ্ছে সামাজিক মাধ্যম আঙিনাগুলোকে। এর মধ্য দিয়ে তারা অন্যের দৃষ্টি ও প্রশংসা আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। অন্যরা সামাজিক মাধ্যমের ফিডে বড় একটা অংশ দখল করে থাকে।

এসব ‘বন্ধু’ নিজেদের জীবন নিয়ে বড়াই করতেই ব্যস্ত। আত্মপ্রচারে থাকে হ্যাশট্যাগ আর ছবির ছড়াছড়ি। এটাকে কিছু মাত্রাই স্বপ্রেম তো বলতেই হয়।

এমনকি অনেক সামাজিক মাধ্যম সাইটের নাম ও স্লোগান স্বপ্রেমকেই যেন উদ্বুদ্ধ করে। কিংবা অন্তত ব্যক্তিত্ববাদীর ধারণাকেই প্রণতি জানায়।

যেমন স্লোগানের কথা যদি ধরা যায়। ইউটিউব বলছে, ‘ব্রডকাস্ট ইউরসেলফ’ (নিজেকে সম্প্রচার করো)। টুইটার বলে, ‘হোয়াট আর ইউ ডুইং?’ (তুমি কী করছ?) [৪]। আর নামের কথা যদি ধরা যায়, তাহলে উদাহরণ হতে পারে ‘আইপড’, ‘আইপ্যাড’ এবং ‘আইফোন’।

টাইম সাময়িকী ২০০৬ সালে বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছিল ‘ইউ’ বা ‘তুমি’কে এবং প্রচ্ছদে একটা আয়না ও একটা কম্পিউটারের ছবি যোগ করেছিল।

কিছু স্কুল আছে যারা ওই স্কুলে পড়ে এমন সবার নাম ও মুখচ্ছবি (ফেস) দিয়ে বই (বুক) প্রকাশ করে। আর এমন বইয়ের ধারণা থেকেই নামকরণ হয়েছিল ‘ফেসবুক’। ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক (লিংক) তৈরির লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে ‘লিংকডইন’।

আর এতে করে দিনকে দিন গড়ে উঠছে একটা আত্মকেন্দ্রিক সংস্কৃতি।

হার্ডওয়ার ডিজাইনাররা এমন ক্যামেরা তৈরি করেছেন যা তাদের মালিকের ছবি তুলে। কিন্তু সেলফি এসে সেই রাজত্ব কেড়ে নিয়েছে। ২০১৩ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি ‘সেলফি’কে ‘বর্ষসেরা শব্দ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। (সেলফি শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেছিলেন এক মাতাল অসি। ২০০২ সালে। সিঁড়িতে পড়ে গেলে পরে রক্তাক্ত ঠোঁটের ছবি তুলে বন্ধুদের দেখাতে গিয়ে অস্ট্রেলীয় ওই যুবক শব্দটি ব্যবহার করেন)। [৫]

এখন অ্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোয় ১০ কোটি মানুষ আছে যারা সেলফি তোলে, বাছাই করে কিছু সেলফি পাঠিয়ে দেয় বন্ধুদের কাছে।

গবেষকরা এসব প্রবণতার (ট্রেন্ড) বিষয়ে নজর রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা সবসময়ই বছর দুয়েক পিছিয়ে থাকেন।

স্বপ্রেমীরা নিজের ঢোল পেটান বেশি বেশি
স্বপ্রেম ও ফেসবুক নিয়ে ২০০৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি স্বপ্রেমী, ফেসবুকে তারা নিজের ঢোল বেশি পেটান এবং তাদের ‘বন্ধু’র সংখ্যাও বেশি। [৬]

এই গবেষণার মতোই অনেকে ভাবে, যে পরিবেশে সম্পর্কগুলো ভাসা-ভাসা, যেখানে নিজেকে প্রচার করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে স্বপ্রেমীরা ভালো করবেন।

এর মানে এই নয় যে, ফেসবুক শুধু স্বপ্রেমীদের জন্য। সামাজিক মাধ্যম এমন একটি ক্ষেত্র যা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এখানে নতুন নতুন বিষয়ে শেখা যায়। কিংবা এটা বিনোদনের একটা ক্ষেত্র। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম স্বপ্রেমীদের জন্যও একটা আকর্ষণীয় ক্ষেত্র।

একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে বিশ্বজুড়ে আরও অনেক গবেষণায়। আত্মপ্রচার ও সংযোগসংখ্যার (যেমন বন্ধুসংখ্যা বা অনুসারীর সংখ্যা) সঙ্গে স্বপ্রেমের যে একটা সম্পর্ক আছে, এসব গবেষণায় তারই আভাস মিলেছে। [৭]

স্বপ্রেম ও সেলফির মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক বিরাজ করে, অতিসম্প্রতি গবেষকরা এ বিষয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্বপ্রেমীরা বেশি সেলফি তুলে থাকেন [৮], তারা তুলনামূলক বেশি সময় কাটান সামাজিক মাধ্যমে [৯], আবার এ ব্যাপারে ভালো বোধ করেন এবং আত্মপ্রচার কিছুটা বেশিই করেন (যেমন শরীরের ছবি বেশি বেশি দেখান এবং সলো সেলফি বা একাকী সেলফি তোলেন)।

গবেষণায় এও দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যম নেটওয়ার্কগুলোয় স্বপ্রেমীদের সংহতি বেশি, তাদের বন্ধুসংখ্যা ও অনুসারী (ফলোয়ার) বেশি। মোটা দাগে, নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি স্বপ্রেমী। কিন্তু আমার দেখছি, নারী ও পুরুষ উভয়ই সামাজিক মাধ্যমকে একইভাবে ব্যবহার করছে।

সামাজিক মাধ্যম কি স্বপ্রেম বাড়ায়
ভাবনার তীরটা যদি উল্টো দিকে ছোঁড়া যায়, তাহলে ভারী মুশকিল একটা প্রশ্ন তৈরি হয়। সেটা হলো, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার কি স্বপ্রেম তৈরি করে?

এর সদুত্তর পাওয়া যে বেশ কষ্টসাধ্য তা মানতেই হবে। সময়ের সাথে সাথে স্বপ্রেম কীভাবে বদলে যায়, এ নিয়ে যখন আমরা প্রথম গবেষণা করি, তখন মনে হয়েছিল, স্বপ্রেম আর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার পরস্পরকেই বাড়িয়ে তুলে। [১০]

কিন্তু এই তথ্যটা আসলে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সম্পর্কে এটা আমাদের স্পষ্ট ধারণা দেয় না। ফলে সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করবে, এ গবেষণা থেকে সত্যিকার অর্থে তা নির্ধারণ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

গবেষকরা পরে ভিন্ন দুটো কৌশলে উত্তর অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন।

একটা হলো পরীক্ষণনির্ভর। যেমন ধরা যাক, দৈবক্রমে (র‌্যানডম) বেছে নেওয়া হলো দুটো দল। এক দল সামাজিক মাধ্যমে ব্যস্ত থাকল। আরেক দল কম্পিউটারেই, তবে ভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকল। এরপর দুটো দলের সদস্যদের স্বপ্রেমের তারতম্য কতটুকু তা যাচাই করে দেখা হলো আদৌ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বেলায় তা বেশি কি না। এই ধরনের গবেষণা থেকে মিশ্র ও অমিমাংসিত ফল পাওয়া গেল। [১১]

পর্যবেক্ষণধর্মী গবেষণাও হয়েছে। স্বপ্রেম আর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সময়সীমা- এই দুটোর মধ্যে সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা হয়েছে এ ধরনের গবেষণায়। জানার চেষ্টা, এ দুটো বিষয় কি পরস্পরকে আরও জোরদার করে কি না। মানে, স্বপ্রেম সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বাড়িয়ে তোলে এবং সামাজিক মাধ্যম উল্টো স্বপ্রেম আরও বাড়িয়ে তোলে। অন্তত একটা গবেষণায় [১২] এ ধরনের চিত্র উঠে এসেছে।

এটাও বোঝা গেল, যারা আগে থেকেই নিজের গুণগান গাইতে পছন্দ করেন, সামাজিক মাধ্যম তাদের স্বপ্রেম আরও বাড়িয়ে তোলে, অন্যদের ওপর এমন কোনো প্রভাব নেই।

সুতরাং, এটা বিশ্বাসযোগ্য বটে যে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার স্বপ্রেম বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু পর্যবেক্ষণধর্মী গবেষণায় [১৩] এটাও দেখা গেছে যে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার শিশুদের আরও বেশি ‘সমানানুভূতিশীল’ (এমপ্যাথি) করে তোলে। যেমন, যেসব শিশু সামাজিক মাধমে বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তারা বন্ধুর জীবনের চড়াই-উৎরাই সম্পর্কে বেশি দৃষ্টি রাখে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক বিজ্ঞানের অস্পষ্টতা এবং কার্যকারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার যে অসুবিধা। এ জন্য আমি মনে করি, আরও বেশি তথ্য-উপাত্তের জন্য আমাদের অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

সফল সামাজিক মাধ্যম নির্মাতা
স্বপ্রেমীরা সফল সামাজিক মাধ্যম নির্মাতা (ক্রিয়েটর)। অন্যদের মধ্যে তারা সেতুবন্ধন তৈরি করেন, আধেয় (কনটেন্ট) সৃষ্টি করেন। তারা হয়তো কখনো বিরক্তিকর ঠেকতে পারে, ইন্টারনেট আসক্তির যৎসামান্য ঝুঁকিও থাকতে পারে। [১৪] কিন্তু আজ আমরা যে বিস্তৃত পরিসরে সামাজিক মাধ্যম দেখছি, তা নির্মাণে স্বপ্রেমীরাই হয়তো বড় ভূমিকা রেখেছেন।

মূল লেখক: উইলিয়াম কিথ ক্যামবেল, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক।

তথ্যটিকা
[১] লেখকের এ লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালের অক্টোবরে। এর ১৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০১ সালের আগে সামাজিক মাধ্যমের অস্তিত্ব না থাকা বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, স্পষ্ট নয়। তবে ২০০১ সালে ‘লাইভ জার্নাল’ নামে রাশিয়ায় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাত্রা শুরু করেছিল। উল্লেখ ফেসবুক ২০০৪ সালে, ইউটিউব ২০০৫ সালে ও টুইটার ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে।

[২] ২০২০ সালের মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১৭৩ কোটি ব্যবহারকারী ফেসবুকে সক্রিয় থেকেছে।

সূত্র: zephoria.com/top-15-valuable-facebook-statistics। প্রবেশ : ২৯ এপ্রিল ২০২০।

[৩] ‘Narcissism’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ‘স্বপ্রেম’ কিংবা ‘আত্মপ্রেম, এবং ‘Narcissist’ শব্দের বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘স্বপ্রেমী’ কিংবা ‘আত্মপ্রেমী’ শব্দগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন সজীব সরকার।

[৪] ২০০৯ সালের নভেম্বরে টুইটার তাদের স্লোগান বদলে দেয়। পরিবর্তিত স্লোগানটি, যা এই অনুবাদটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত রয়েছে, বলছে, “হোয়াট’স হ্যাপেনিং?” (কী ঘটছে?)।

সূত্র: blog.twitter.com/en_us/a/2009/whats-happening.html। প্রবেশ : ২৯ এপ্রিল ২০২০।

[৫] সেলফির ইংরেজি বানান হিসেবে প্রথম দিকে ‘Selfy’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু পরে ‘Selfie’ বানানটিই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ২০১৩ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির সম্পাদকীয় প্রধান জুডি পিয়ারস্যাল বলেছিলেন, “[Self–এর সাথে] ‘ie’ ছোট্ট প্রত্যয়টির জুড়ে যাওয়ার একটা লক্ষ্যনীয় দিক আছে। এর ফলে স্নেহসঞ্চারের বদলে শব্দটি আসলে স্বপ্রেমের ধারনাকেই পাকাপুক্ত করে।”

সূত্র: www.theguardian.com/world/2013/nov/19/selfie-australian-slang-term-named-international-word-of-the-year। প্রবেশ : ২৯ এপ্রিল ২০২০।

[৬] লরা বুফারডি ও কিথ ক্যামবেলের ‘নার্সিসিজম অ্যান্ড সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েব সাইটস’ শিরোনামে গবেষণাপ্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশাল সাইকোলজি বুলেটিন জার্নালে (ভলিউম : ৩৪, ইস্যু : ১০, পৃ. ১৩০৩-১৩১৪)। doi.org/10.1177%2F0146167208320061

সূত্র: journals.sagepub.com/doi/abs/10.1177/0146167208320061। প্রবেশ : ২৯ এপ্রিল ২০২০।

[৭] ‘সোশাল নেটওয়ার্কিং অনলাইন অ্যান্ড পারসোনালিটি অব সেলফ-য়োর্থ: আ মেটা-অ্যানালাইসি’ শীর্ষক গবেষণাপ্রবন্ধে (জার্নাল অব রিসার্চ ইন পারসোনালিটি; ভলিউম : ৬৪, অক্টোবর ২০১৬, পৃ. ৭৯-৮৯) লিউ ও বুমিস্টার দেখিয়েছেন: এক. যাদের আত্মবিশ্বাস কম, কিন্তু আত্মপ্রেম বা স¦প্রেম বেশি এবং একাকীত্বও বেশি, তারা সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট (এসএনএস) বেশি ব্যবহার করেন; দুই. সব ধরনের এসএনএস তৎপরতায় অতি-আত্মপ্রেমের একটা সম্পর্ক রয়েছে; তিন. স্বপ্রেম ও এসএনএস ব্যবহারের মধ্যকার এই সম্পর্ক বেশি জোরদার দেখা গেছে এশিয়ার এবং সমষ্টিবাদী সংস্কৃতির দেশগুলোয়। doi.org/10.1016/j.jrp.2016.06.024

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0092656616300721। প্রবেশ : ২৯ এপ্রিল ২০২০।

[৮] ‘পারসোনালিটি অ্যান্ড সেলফিজ: নার্সিসিজম অ্যান্ড দ্য ডার্ক ট্রায়াড’ শীর্ষক প্রবন্ধে (কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়র; ভলিউম ৬৪, নভেম্বর ২০১৬, পৃ. ১২৬-১৩৩) ম্যাককেইন ও অন্যরা দেখিয়েছেন, বেশি বেশি সেলফি তোলা ও পোস্ট করার সঙ্গে কর্তৃত্বময় স্বপ্রেমের (গ্রান্ডিয়জ নার্সিসিজম) একটা সম্পর্ক রয়েছে। doi.org/10.1016/j.chb.2016.06.050

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0747563216304782। প্রবেশ : ২৯ এপ্রিল ২০২০।

[৯] “দ্য ডার্ক ট্রায়াড অ্যান্ড ট্রেইট সেলফ-অবজেক্টিফিকেশন অ্যাক প্রেডিক্টরস অব মেন’স ইউজ অ্যান্ড সেলফ-প্রেজেন্টেশন বিহেভিয়রস অন সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটস” শীর্ষক প্রবন্ধে (পারসোনালিটি অ্যান্ড ইনডিভিজুয়াল ডিফারেন্সেস; ভলিউম ৭৬, এপ্রিল ২০১৫, পৃ. ১৬১-১৬৬) ফক্স ও রুনি দেখিয়েছেন, স্বপ্রেমীরা এসএনএসে বেশি সময় ব্যয় করেন। doi.org/10.1016/j.paid.2014.12.017

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0191886914007259। প্রবেশ : ৩০ এপ্রিল ২০২০।

[১০] ক্যামবেল ও তার দল ‘ইগোজ ইনফ্লোটিং ওভার টাইম: আ ক্রস-টেম্পোরাল মেটা-অ্যানালাইসিস অব দ্য নার্সিসিস্টিক পারসোনালিটি ইনভেন্টরি’ প্রবন্ধে (জার্নাল অব পারসোনালিটি; ভলিউম ৭৬, আগস্ট ২০০৮, পৃ. ৮৭৫-৯০২) এ চিত্র উপস্থাপন করেছেন। doi.org/10.1111/j.1467-6494.2008.00507.x

সূত্র: onlinelibrary.wiley.com/doi/full/10.1111/j.1467-6494.2008.00507.x। প্রবেশ : ৩০ এপ্রিল ২০২০।

[১১] ক্যামবেল ও তার দল ‘দি ইফেক্ট অব সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটস অন পজিটিভ সেলফ-ভিউজ: অ্যান এক্সপেরিমেন্টাল ইনভেস্টিগেশন’ শিরোনামে ওই গবেষণার ফল প্রবন্ধাকারে প্রকাশ করেন (কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়র; ভলিউম ২৮, সেপ্টেম্বর ২০১২, পৃ. ১৯২৯-১৯৩৩)। doi.org/10.1016/j.chb.2012.05.012

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0747563212001409। প্রবেশ : ৩০ এপ্রিল ২০২০।

[১২] হলপার্ন, ভ্যালেনজুয়েলা ও কাৎজ “‘সেলফি-ইস্টস’ অর নার্সি-সেলফিয়ার্স’?: আ ক্রস-ল্যাগড প্যানেল অ্যানালাইসিস অব সেলফি টেকিং অ্যান্ড নার্সিসিজম” প্রবন্ধে (পারসোনালিটি অ্যান্ড ইনডিভিজুয়াল ডিফারেন্সেস; ভলিউম ৯৭, জুলাই ২০১৬, পৃ. ৯৮-১০১) দেখিয়েছেন: এক. স্বপ্রেমী ব্যক্তি বেশি বেশি সেলফি তোলেন; দুই. বেশি বেশি সেলফি তোলার কারণে স্বপ্রেমের মাত্রা বাড়ে। https://doi.org/10.1016/j.paid.2016.03.019

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0191886916301635। প্রবেশ : ৩০ এপ্রিল ২০২০।

[১৩] “ডু সোশাল মিডিয়া ফোস্টার অর কারটেইল অ্যাডোলেসেন্টস’ এমপ্যাথি? আ লংগিচিউডিনাল স্টাডি” প্রবন্ধে (কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়র; ভলিউম ৬৩, অক্টোবর ২০১৬, পৃ. ১১৮-১২৪) ভোসেন ও ভলকানবার্গ দেখিয়েছেন, এক বছরের সময় ধরে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সমানানুভূতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে সহানূভূতিশীলতার (সিমপ্যাথি) সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। doi.org/10.1016/j.chb.2016.05.040

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0747563216303673। প্রবেশ : ৩০ এপ্রিল ২০২০।

[১৪] ‘দ্য রিলেশনশিপ বিটুইন অ্যাডিকটিভ ইউজ অব সোশাল মিডিয়া, নার্সিসিজম, অ্যান্ড সেলফ-এসটিম: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ লার্জ ন্যাশনাল সারভে’ শিরোনামের প্রবন্ধে (অ্যাডিকটিভ বিহেভিয়রস; ভলিউম ৬৪, জানুয়ারি ২০১৭, পৃ. ২৮৭-২৯৩) আন্দ্রেসেন, প্যালেসেন ও গ্রিফিথস দেখিয়েছেন : এক. যারা কম বয়সী, নারী এবং সিঙ্গেল তারা সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়েন বেশি; দুই. সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে আসক্তির সাথে অতি-আত্মপ্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। doi.org/10.1016/j.addbeh.2016.03.006

সূত্র: www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0306460316301095। প্রবেশ : ৩০ এপ্রিল ২০২০।

[নাদ্রা নিটল সম্পাদিত “আমেরিকা’জ মেন্টাল হেলথ ক্রাইসিস” গ্রন্থে এ লেখাটি ঠাঁই পেয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত বইটিতে ‘নার্সিসিজম ইজ আ পার্ট অব ডেইলি লাইফ ডিউ টু সোশাল মিডিয়া’ শিরোনামে লেখাটি ছাপা হয়েছে। তবে লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য কনভারশেসন ডট কমে।]

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)