জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পেয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম ব্যাট-বলের অনুশীলন করালেন খালেদ মাহমুদ সুজন। কোচিংয়ে দায়িত্ব পালনের অনুভূতি প্রকাশের সময় চোখে-মুখে ছড়াল আনন্দের ঝিলিক। সেটি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। ‘সাব্বির রহমানের দর্শক পেটানো’ প্রসঙ্গ উঠতেই সুজনের চোখ-মুখ ছেয়ে গেল অন্ধকারে!
‘জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সবার রোল মডেল। ওদের দেখে কত মানুষ অনুপ্রাণিত হয়। কেউ সাব্বিরের মতো হতে চায়, কেউ রিয়াদের মতো হতে চায়। সেই ওরা যদি মাঠে কোনো ছেলের গায়ে হাত তোলে সেটি খুবই বিব্রতকর। এটি কোনভাবে মেনে নেয়ার মতো ব্যাপার নয়।’ মন্তব্য সুজনের।
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ম্যাচের সময় দর্শক পেটান সাব্বির। ২০-২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে প্রথম শ্রেণির ওই ম্যাচটি। ড্র হওয়া সেই ম্যাচে এক ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পান রাজশাহীর এ ক্রিকেটার। আউট হন রানের খাতা খোলার আগেই।
সুজন বলছেন, ‘ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট এসেছে। হয়তো সাব্বিরেরও এখানে আত্মপক্ষ সমর্থন করার কিছু আছে। বিষয়টি জানতে হবে যেহেতু আমরা সেখানে মাঠে ছিলাম না। যা হয়েছে সেটি ঠিক না। কারণ এত বড় লেভেলের একজন ক্রিকেটারের এমনটা মানায় না। আর বোর্ড তো এ সব এখন কোনোভাবেই মেনে নেয় না। এখন রিপোর্ট দেখে তদন্ত করেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

২১ ডিসেম্বর ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে গ্যালারি থেকে সাব্বিরকে কেউ গালি দিলে ফিল্ড আম্পায়ারদের অনুমতি নিয়ে তিনি কিছুক্ষণের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠ থেকে বেরিয়ে গালি দেয়া দর্শককে বাইরের কয়েকজনের সহযোগিতায় ডেকে এনে সাইডস্ক্রিনের পেছনে নিয়ে মারধর করেছেন। এ ঘটনার পরই ম্যাচ রেফারি মাঠের আম্পায়ারকে বিষয়টি অবহিত করেন। ম্যাচ রেফারি তার রিপোর্টে এমন অভিযোগ এনেছেন।
শুধু দর্শক পেটানো নয়; খেলা শেষে শুনানির সময় ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের সঙ্গেও বাজে আচরণ করেন সাব্বির। সেটিও ম্যাচ রেফারি তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন।
খালেদ মাহমুদ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে। তাদের সময় মাঠে দর্শকরা ছিলেন আরো ক্ষুব্ধ ও আবেগ প্রবণ। সেই সময়ে ক্রিকেটার ও ফুটবলাররা দর্শকদের ভয়ে আতঙ্কিত থাকতেন। দিন শেষে তারা সেই দর্শকদের দেখতেন ভাল করার অনুপ্রেরণা হিসেবে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা দর্শকদের মন্তব্য দুয়োধ্বনি কেন মেনে নিতে পারেন না? খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার বা যেকোনো খেলোয়াড় হল পারফর্মার। আর এটাই সত্যি যে পারফর্মাররা পচা ডিমও খায় আবার ভাল করলে হাততালিও পায়। যখন সে ভাল খেলবে মানুষ তখন তাকে ভালবাসবে, সম্মান দিবে ঘাড়ে উঠিয়ে নেবে। আর যখন খারাপ খেলবে দুটো কটু কথা বললে সেটি মনে নিতে হবে। আর সেটা করতে হয় নিজের সম্মানের জন্য। সাব্বির ছোট মানুষ, বয়সটাও কম। তাই হয়তো উত্তেজিত হয়ে গেছে। কিন্তু কারো গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা একেবারেই ঠিক না।’
সাব্বিরের দর্শক পেটানোর খবর বুধবার দিবাগত রাতে চ্যানেল আই অনলাইন ও একটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। সাব্বির সেটি জেনে আজ সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলেছেন। দুপুর ২টার দিকে বিসিবি একাডেমি ছাড়ার সময় গাড়িতে ওঠার আগে জিজ্ঞেস করা হয়, কী হয়েছিল সেদিন, না বোঝার ভান করে সাব্বির পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোন ঘটনা?’ মনে করিয়ে দেওয়া হলে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি এখনও এসব নিয়ে তেমন কিছু জানি না। জানলে জানাবো আপনাদের।’







