চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘তোমাকে দেখে ন্যূনতম একশো ছেলে ‘এসি আবিদ’ হতে চাইবে’

Nagod
Bkash July

৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর উন্মাদনা চলছে এখনও। দীপঙ্কর দীপনের পরিচালনায়, আরেফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, এ বি এম সুমন, কাজী নওশাবা কিংবা তাসকিনের আলোচনায় এখনও সবাই ব্যস্ত। কিন্তু পুরো চলচ্চিত্রের নেপথ্যের যে কারিগরের নাম উল্লেখ না থাকলে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তিনি সানী সানোয়ার।

Reneta June

‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের কাহিনীকার এবং বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট) সানী সানোয়ারের প্রতি কৃতজ্ঞ পুরো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ টিম। এবার ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর বিভিন্ন চরিত্র এবং এর অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে লেখা শুরু করেছেন সানী সারোয়ার। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সানী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই সিরিজ লেখা শুরু করলেন এসি আবিদ কে দিয়ে।

বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের ইনচার্জ এসি আবিদ চরিত্রের জন্য আরেফিন শুভকে প্রস্তাব দেয়ার গল্প, আবিদ চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে শুভ’র নিরন্তর প্রচেষ্টার গল্প সবকিছুই তুলে ধরেছেন সানী সানোয়ার।

চলচ্চিত্রটিতে শুভ এবং অন্যান্যদের চুল নিয়ে কিছু সমালোচনার জবাবে দায়ভারও নিজেদের কাঁধেই তুলে নিলেন তিনি। আর এও জানিয়ে দিলেন পরবর্তী পোস্ট আসবে এসি আশফাককে নিয়ে।

এসি আবিদকে নিয়ে সানী সানোয়ারের বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হল-
[কাহিনী বিনির্মাণে চরিত্রের আগমন ঘটে প্রকৃতির নিয়মের মতই। ঘটনার প্রয়োজনে লেখকের কল্পনায় চরিত্রগুলো ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। মায়ের গর্ভে একটি নবজাতক যেমন ধীরে ধীরে নাক-চোখ-মুখ নিয়ে বেড়ে উঠে, তেমনিভাবে যে কোন কাহিনীর চরিত্রগুলোও লেখকের কল্পনায় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে। আর এভাবেই আমার মনে বেড়ে উঠা একটি চরিত্রের নাম ‘এসি আবিদ’। ঢাকা অ্যাটাক সিনেমার ‘ডিকেটিভ কাম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের ইনচার্জ’ আবিদ।]

শুভকে কাস্ট করার জন্য ২০১৫ সালের কোন একদিন তার সাথে একটি মিটিং-এ বসলাম। পরিচালক দীপংকর দীপনও উপস্থিত। পুরো গল্পটা সে শুনতে চাইল। খুব আয়েশ করে তাকে গল্পটা বললাম। কিন্তু তার চোখেমুখে কোন তৃপ্তির ছটা দেখতে পেলাম না। চোখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে সে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিল-

– আচ্ছা সানী ভাই, আপনি বলেন তো দেখি, এই সিনেমাটা আমি কেন করব? প্রতিনিয়ত এমন নতুন নতুন গল্প নিয়ে অনেকেই তো আসে। কিন্তু ডেপথ পাই না বলে অনেককেই মানা করে দেই। তাহলে, আপনার এই সিনেমাটি আমি কেন করব?

আমি একটু ভরকে গেলাম। বুঝতে পারলাম সে দ্বিধাগ্রস্ত। হয়তো সে গল্পের ভিজ্যুয়ালটা পরিষ্কার নয়- পর্দায় আসলে দর্শকরা কি দেখতে পাবে?

– সিনেমাটি তুমি এজন্য করবা যে, তোমাকে দেখে ন্যুনতম ১০০ মেধাবী ছেলে ‘এসি আবিদ’ হতে চাইবে। পুলিশে মেধাবী অফিসারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। ফলে, ক্রিমিনালের থেকে পুলিশ বুদ্ধিতে, কৌশলে দু’কদম বেশী এগিয়ে থাকবে। এতে অপরাধ কম ঘটবে। দেশের মানুষ ভাল থাকবে। এভাবেই তুমি পরোক্ষভাবে দেশের মানুষকে সেবা দিতে পারবে, যা তুমি অন্য কোন সিনেমা থেকে এতটা পারবে না।

কথাটা শুনে সে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। এরপর টেবিল চাপড়ে হাস্যোজ্জল শুভ বলে উঠল
– সানী ভাই, আমি এই সিনেমাটি করছি।

ব্যস, এরপর থেকে শুরু হল এক সংগ্রাম। তার আচরণে দেখেছি অভূতপূর্ব পরিবর্তন। সত্যিকারের এসি আবিদ হয়ে উঠার জন্য সে আপ্রাণ প্রচেষ্টা শুরু করল। চরিত্রের অতল গিয়ে ৪/৫ বছর আগে বিসিএস(পুলিশ)-এ উত্তীর্ণ একজন অফিসারের রূপ ধারণ করল। তারা শ্রম, একাগ্রতা, মেধা, সময় আর ভালাবাসা সবটুকু সে ঢেলে দিল ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর জন্য। সে স্ক্রিপ্টের আলোকে এসি-বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট হয়ে উঠল।

কাজ পাগল একজন অফিসার, যার টিম মেম্বাররাই তার পরিবার আর অফিসটা তার ঘর। কাজের সময় তার টিম মেম্বারদের সাথে তার আচরণ, হৃদ্যতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি বিষয় ফুটিয়ে তুলতে আরিফিন শুভ এসি আবিদ চরিত্রে ঢুকে যেতে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করি। তাই এই চরিত্রে তার বিকল্প আর কাউকে ভাবতে পারি না।

একটা ভিন্ন প্রসঙ্গ:
দীর্ঘ দিন সুটিং বিরতি রাখার দায় আমাদের, শিল্পীদের নয়। তাই শুভসহ অন্যান্যদের মধ্যে লুকের যে পরিবর্তন ঘটেছে তার দায়ভার আমাদেরই নিতে হবে।

মূল্যায়ন:
সর্বোপরি একজন উঁচুমানের অভিনেতা হিসেবে পুরো গল্পের কেন্দ্রে বসে এসি আবিদ সিনেমাটিকে একটি অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার হাত ধরেই গল্পের শুরু তার হাত ধরেই শেষ। ঢাকা অ্যাটাক সিনেমার ক্লাইমেক্স আর এসি আবিদের কর্মতৎপরতা মানুষের মনে চরম অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এটা শুধুই সম্ভব হয়েছে আরিফিন শুভ এসি আবিদ হতে পেরেছে বলে। তাই আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।

আবিদার:
সিনেমা হলে চলছে ঢাকা অ্যাটাক। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরে আসুন। আশা করি ভাল লাগবে। ‘টাকাটুলি’র মোড়’ শিরোনামের আইটেম সং (যদিও এটি একটি মজমা সং) খুব সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র আইটেম যেটা ৪টি প্রজন্ম একসাথে বসে দেখলেও বিব্রত হবার নয়।

বিদেশী সিনেমার আগ্রাসনের মধ্যে নিজেদের চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে সিনেমা হলে সিনেমা দেখুন। তবেই না বছরব্যাপী ‘সিনেমা উৎসব’ হবে, যেমনটি হয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নিয়ে। অতীতে হয়েছিল আয়নাবাজি, মনপুরা ইত্যাদি নিয়ে।

সানী সারোয়ারের স্ট্যাটাস

সানী সারোয়ারের স্ট্যাটাস

সানী সারোয়ারের স্ট্যাটাস
সানী সারোয়ারের ফেসবুক স্ট্যাটাস
BSH
Bellow Post-Green View