স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকেনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকেও বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালতের কোনো ভূমিকা নেই উল্লেখ করে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
যদিও গত বুধবার সাভারের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তাকে প্যারোলে মুক্তি পেতে হলে আদালতের মাধ্যমেই আসতে হবে। আর বিএনপির তরফ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকারের কাছে আসে নাই।
রোববার সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতি ভবনের নিজস্ব চেম্বারে সাংবাদিকদের খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বিগত কয়েকদিন বিভিন্ন মিডিয়া এবং সংবাদ পত্রে প্যারোলে সম্বন্ধে বিভিন্ন রকম বক্তব্য এসেছে। সে বক্তব্যগুলো পরস্পরবিরোধী হচ্ছে এবং বর্তমান আইনে যে বিধান রয়েছে সে বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই আমি মনে করি প্যারোল সম্বন্ধে সবারই ধারণা থাকা উচিৎ।’
প্যারোলের বিধান ব্যাখ্যা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা এ আইনজীবী বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নীতিমালা করা হয় প্যারোলের ব্যাপারে। এই নীতিমালা অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা হাজতি আসামি, যারা সাজাপ্রাপ্ত না হয়েও কারাভোগ করছেন, সবাই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারোলে পেতে পারেন। মৃত্যু, জানাজায় অংশ নেওয়া ইত্যাদি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকেনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা হাজতি আসামিকে বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারোলে দিতে পারেন। এখানে কোনো বাধ্যবাধকতা নাই এবং দিন, তারিখও ঠিক নাই। যতদিন সরকার মনে করবে ততদিন প্যারোল দিতে পারে। তবে ইদানিং আমরা কয়েকটি সংবাদপত্রে কয়েকজন আইনজীবীকে বলতে দেখেছি, সাজাপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে এটা (প্যারোল) প্রযোজ্য না। তবে এমন বক্তব্য সঠিক না। তাদের আমি অনুরোধ করব তারা যেন ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারি যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে, সে নীতিমালাটা দেখেন।’
এসময় খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, ‘আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিনি কিন্তু প্যারোলে গিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করে এসেছেন। আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্যারোলে গিয়েই চিকিৎসা নিয়েছেন।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বেলায় কি প্যারোলে মুক্তির চিন্তা করা হচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, ‘সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমরা তার মামলা করি, মামলা নিয়ে বলতে পারি। প্যারোলটা তো আর মামলা সংক্রান্ত ব্যাপার না। এটা একটা বিশেষ বিধান। তবে যখন একটি লোক চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তার চিকিৎসা দরকার। আর আইন অনুযায়ী আদালতে জামিন পেতে তার যখন অনেক সময় লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার ইচ্ছা করলে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারেন চিকিৎসার জন্য।
এর আগে খন্দকার মাহবুব হোসেন গত বছরের ১৩ জুন চিকিৎসার কথা বলে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারেকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সুচিকিৎসা ও জীবন রক্ষার স্বার্থে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে মানবিক বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারপরসন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হোক।







