চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সময়োচিত সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর মানুষ আবার ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। একাধিক কোম্পানি যখন করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে সুখবর দিচ্ছিল, তখন এমন খবর স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে সেই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরুর পর বড় ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে করোনা তার নতুন রূপ প্রকাশ করে।

এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন করোনাভাইরাস আগের চেয়েও অনেক গুণ বেশি গতিতে  ছড়িয়ে পড়ছে। তাই যুক্তরাজ্যের বাইরে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ফ্লাইটসহ দ্রুত সব ধরনের সরাসরি যোগাযোগা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তারপরও রক্ষা হয়নি। দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেকগুলো দেশেই করোনার নতুন প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বাংলাদেশও তার বাইরে থাকতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তবে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ সেই খবর নিশ্চিত করেছে গত সপ্তাহে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা নতুন করে ১৭টি জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করেছিল। তার মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন প্রজাতির সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে টনক নড়েছে সরকারের। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে আসা সবাইকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এমনকি তাদের কাছে করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেও। যদিও কবে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর তা জানায়নি সরকার।

তবে সরকার যেদিন এমন পদক্ষেপের কথা ভাবছে, ঠিক সেদিনই লন্ডন থেকে ১৪৪ জন যাত্রী সিলেটে ফিরেছেন। আগের নিয়ম অনুসারে তাদেরকে ৭ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন করোনার নতুন প্রজাতি যদি দ্রুত গতিতেই ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এখন পর্যন্ত যারা এসেছেন বা আরও যারা আসবেন (মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত), সেখানে একটা ঝুঁকি থাকছে না?

আমরা মনে করি সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে তার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। না হলে নতুন করে ভুগতে হবে দেশ ও দেশের মানুষকে।