চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সংলাপ রাজনীতি এখন কোন অবস্থায় এসে দাঁড়ালো?

সংলাপ আর সংলাপের রাজনীতি। বিগত কয়েকদিন ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত শব্দ।

আলোচিত সংলাপে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন। সেই আহ্বানে সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় সেই আলোচিত সংলাপ।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসেছেন বিকল্পধারার এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের কথা রয়েছে জাপা, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বামফ্রন্টেরও।

প্রথম দফা সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আরেকদফা বসতে চেয়েছেন ড. কামাল হোসেন। এই সংলাপের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসিকে তফসিল ঘোষণা না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু ইসি প্রস্তুতি নিচ্ছে তফসিল ঘোষণার, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাদের আলাপও এর মধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। আগামী ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

চারদিকে বহুমুখী মতের এরকম অবস্থায় সংলাপ, নির্বাচন ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সরকার সংলাপের কথা বলছে।  যদিও ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৭ নভেম্বরের পরে আর সংলাপ নয়।  তবে সেই নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে জানুয়ারিতে চলে যাচ্ছে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের ভবিষ্যত বিষয়ে তিনি বলেন, তা নির্ভর করবে সরকারের কনফিডেন্সের উপরে। এখন আলোচনা যে ফর্মে হয়েছে, তাতে যদি মনে হয় বিরোধীরা নির্বাচনে চলে আসবে তাহলে নির্বাচন যথাসময়ে হয়ে যাবে। সরকার এখন বিএনপির নার্ভের টেস্ট নিবে বলেই মনে হয়।

ড. শান্তনু মজুমদার

Advertisement

ড. কামাল হোসেনের দ্বিতীয় দফা সংলাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন বিশেষজ্ঞ নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনার যে কথা বলেছেন, সেটা হয়তো কার্যকর হবে। দুই পক্ষের মধ্যে অমিলগুলো এভাবে ওপেনলি জানানো সম্ভব হয় না।  সেটা সীমিত পরিসরে যেতে পারে।

‘রাজনীতিতে অমিল খুব বেশি থাকলে ক্যামেরার সামনে বলা সম্ভব না।  আওয়ামী লীগ কোনো সুযোগ দিতে চাইলে ভোটারের কথা চিন্তা করে সেটা বলতে পারবে না এবং বিএনপির অস্তিত্বের কোনো ছাড়ের প্রশ্ন আসলেও তারা সেটা বলতে পারবে না। কিন্তু সীমিত পরিসরে তারা বুঝতে সক্ষম হবে কে কতটা ছাড় দিতে পারবে। ’

তবে, তার মতে, এখন বিএনপিকে ভাবতে হবে তারা কি ফেসভ্যালুর দিকে থাকবে না ভোটের দিকে থাকবে। এই সংলাপের একটা সিম্বলিক ভ্যালু আছে, জনগণ আশ্বস্ত হবে যে কেউ অন্তত আগুনসন্ত্রাস ঘটাবে না।  বিএনপি নিশ্চয়ই হিসাব করবে যে তাদের অবস্থাটা কি হবে।

‘অনেকেই চিন্তা করে ঘাড় ধরে দলগুলোকে বসিয়ে দিলেই হবে, তাতে তো আর সমাধান আসবে না। দুটি দলের আদর্শ পুরোপুরি ভিন্ন। তাই যদি কোনো ডিল হয়, সেটা হবে সীমিত পরিসরেই।’

সংলাপও খুব বেশিদিন চলবে না বলে মনে করেন এই রাজনীতি বিশেষজ্ঞ। বলেন, তাহলে তো নির্বাচন পেছাবে। এখন একটা মাইন্ড গেমের দিকে আমরা ঢুকেছি। আওয়ামী লীগকেও ভাবতে হবে। যদি নির্বাচন করতে চায় তাহলে এসব সংলাপ শেষ করতেই মধ্য নভেম্বরে আর পেছাতে চাইলে আরো বেশি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থাকবে।

‘তবে এই দেশের রাজনীতিতে এন্টি আওয়ামী লীগ, এন্টি মাইনরিটি, এন্টি ভারত, এন্টি যাই বলি, সেটার ভোটব্যাংক বিএনপি। তাদের ভাগাভাগিটাও আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। যেমন জাতীয় পার্টিকে তারা ভাগ করে রাখতে পেরেছে। বিএনপিও নিশ্চয়ই ভাববে, তাদের সবদিকই হারাতে হয় কিনা।  ’

ফিরোজ-উল-হাসান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ফিরোজ-উল-হাসান বলেন,  সংলাপের সঙ্গে তফসিল ঘোষণার কোনো বিরোধিতা নেই। তফসিল ঘোষণা করবে ইসি, আর সংলাপ করবে রাজনৈতিক দল। সংলাপের মধ্যে দিয়ে ভালো নির্বাচন হয় এবং সংলাপ যত বেশি হবে নির্বাচনের পথ তত বেশি সহজ হবে। এখন সংসদ শেষ, সংবিধান পরিবর্তন সম্ভব না। ভালো সরকারের অধীনে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন।  তফসিল ঘোষণা হয়ে যেতে পারে, তবে সংলাপ যত বেশি হবে তত ভালো।

সংলাপ যদি বেশি বেশি হয় তাহলে সংলাপের পরও কোনো দল নির্বাচনে না এলে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না বলে মনে করেন তিনি। ‘সংলাপের পরেও কোনো বিশেষ দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে হয় না।’