চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেষ হলো বাংলা খেয়াল উৎসবের দ্বিতীয় আসর

শেষ হলো বাংলা সঙ্গীতের শক্তি সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চ্যানেল আইয়ের ছাদ বারান্দায় আয়োজিত বাংলা খেয়াল উৎসব-এর দ্বিতীয় আসর। আজীবন সম্মাননা পেয়েছে সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতি কেন্দ্র। আয়োজনে সহযোগী গ্রিন ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম।

বাংলা খেয়ালের প্রচার ও প্রসারে চ্যানেল আইয়ের আয়োজন বাংলা খেয়াল উৎসব। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন, বাছাই করা সেই শুদ্ধ সঙ্গীত শিল্পীদের নিয়েই চ্যানেল আইয়ের দ্বিতীয় খেয়াল উৎসব।

এ প্রসঙ্গে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘এভাবে সারা পৃথিবীর বাঙালিকে বাংলা খেয়াল দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের, আমাদের ভাষার মাসের প্রথম প্রহরটিকে আপনারা স্বর্ণালী করে তুলবেন। এ বছর চ্যানেল আইয়েরও স্বর্ণালী সতেরো ছিলো।’

অন্যদিকে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘বাংলা গানের আমাদের যে ঘরানা আছে, তার মধ্যে আরো জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ছিলো এই আয়োজন। শুধু বাংলাদেশের মধ্যে জনপ্রিয় করা নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে বাংলা খেয়ালকে সমৃদ্ধ করাও এর উদ্দেশ্য।’

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি বাংলা খেয়াল নিয়ে এরকম কাজ কেউ করেছে। হৃদয়ে বাংলাদেশ না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।’ এজন্য চ্যানেল আইকে আন্তরিক অভিনন্দন ধন্যবাদ জানান তিনি।

Advertisement

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গবেষণা, শিক্ষা, প্রচার ও প্রসারে অবদান রাখার জন্য বাংলা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতি কেন্দ্রকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।

সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান মনে করেন, বাংলা ভাষায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতি কেন্দ্র বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করেছে, বিশ্বে বাংলা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে কাজ করছে। চ্যানেল আইয়ের সম্মাননায় সেই কাজ আরো গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চ্যানেল আইয়ের খেয়াল উৎসবের দ্বিতীয় আসরের সহযোগী ড্রিম ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুঁই কিবরিয়া এই মহতী উদ্যোগের জন্য চ্যানেল আইকে স্বাগত জানান।

রাতভর আয়োজনে সঙ্গীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আজাদ রহমানের তত্ত্বাবধানে দেশের নবীন-প্রবীণ প্রায় ৬শ’ শিল্পী অংশ নেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা খেয়ালের উৎসবে। ধ্রুপদ, ধামার, টপ্পা, ঠুমরিসহ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারার গান মন্ত্রমুগ্ধ করে দর্শক ও শ্রোতাদের।

চ্যানেল আইয়ের খেয়াল উৎসবের দ্বিতীয় আসরে বাদ যায়নি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ত্রিবট, চতুরঙ্গ, তাজরি, তারানা।

রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে উৎসবের চমক। একে একে খেয়াল পরিবেশন করেন জনপ্রিয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী ড. অসিত রায়, অনিল কুমার সাহা, ড. হারুন অর রশিদ, ড. ইউসুফ খানসহ বিশিষ্ট শিল্পীরা।

কণ্ঠসঙ্গীতের সাথে চলে যন্ত্রসঙ্গীত।

বাংলা শুদ্ধ সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে খেয়াল উৎসবের জমজমাট রাত পার করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সকালকে বরণ করে চ্যানেল আই। রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া চ্যানেল আই খেয়াল উৎসবের পর্দা নামে সোমবার সকাল ৯টায়। চ্যানেল আইয়ের পর্দায় ছিলো খেয়াল উৎসবের সরাসরি সম্প্রচার।