চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শুধু গলাতেই ৯ বার কোপের চিহ্ন

ব্লগার নিলয় চট্রোপাধ্যায় নীল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ই-মেইল বার্তায় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও তারা বাংলাদেশে সক্রিয় কি-না তদন্ত করছে গোয়েন্দারা।

ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ধরন আগের হত্যাগুলোর মতোই। ডিসি মুনতাজিরুল ইসলাম (মিডিয়া) বলেন, প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদল তার লেখালিখি বা অনান্য কারণে সংক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড চালায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, তারা দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেছে তারা কারা সে ধরনের সন্ত্রাসীদল বাংলাদেশে আছে কি না? যাদের সাথে সম্পৃক্ত বলে তারা দাবি করছে তাদের সাথে কতটুকু সম্পৃক্তা বা আদৌও কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা বা তাদের কি পরিকল্পনা সামগ্রীক বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব নিয়ে কাজ করছি।

সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলয়ের ময়না তদন্ত শেষ হয়েছে। লাশের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ৯টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার জানিয়েছেন, নিলয়ের মাথাকে ঘিরেই খুনিদের ধারালো অস্ত্রের টার্গেট ছিলো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন প্রধান অধ্যাপক হাবিবুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এখানে অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। আমরা অভিজিৎ রায় এবং রাজিবের এগুলোও দেখেছি সবগুলো আমাদের এখানেই হয়েছে। সকল মৃত্যর কারণ এবং জখমগুলোর ধারাবাহিকতা একই রকম।

বিজ্ঞাপন

নিলয় হত্যাকান্ডের খবর শুনে রাতেই ঢাকা ছুটে আসেন দুই চাচাসহ অন্য স্বজনরা। সকালে লাশ গ্রহণ করতে ঢাকা মেডিকেলে যান তারা। নিলয়ের ছোট চাচা নির্মল চট্রোপাধ্যায় বলেন, আমাদের বড় ভাই আমাদের পড়াশোনা করিয়েছেন। আর আমরা ওরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করিয়েছি। অথচ কিছু দুষ্কৃতকারী ওর জীবন নিয়ে নিয়েছে। আমার বড় ভাইয়ের জীবন শেষ করে দিছে।আমরা সরকারের কাছে দাবি করবো সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকারীর যেন দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হয়।

পিরোজপুরের চলিশা গ্রামে আজ রাতেই নিলয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার দুপুরে ১৬৭ পূর্ব গোড়ানের ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও শ্যালিকার সামনেই ঘাতকদের হাতে খুন হন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার নিলয় চট্রোপাধ্যায় ওরফে নিলয় নিল। রাতেই এ ঘটনায় অজ্ঞাত চার যুবককে আসামি করে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন নিলয়ের স্ত্রী ইশরাত জাহান আশামণি।

থানা পুলিশের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে তদন্ত করছে গোয়েন্দারা। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি টি শার্ট ও গামছা উদ্ধার করা হলেও ঘাতক করা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।

গোয়েন্দারা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ড একটি গোষ্ঠির পরিকল্পিত কাজ।

Bellow Post-Green View