চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘শুটিং শেষে লাভলু ভাইকে এভাবে কাঁদতে দেখিনি কখনো’

সালাহউদ্দিন লাভলু মানেই দারুণ গল্প। বিশেষ করে তার নির্মিত প্রায় সব ধারাবাহিকই হিট করেছে টেলিভিশনে। আবারও এই নির্মাতা নতুন ধারাবাহিক নিয়ে আসছেন চ্যানেল আইয়ে। নতুন ধারাবাহিকটির নাম ‘দ্য ডিরেক্টর’। মঙ্গলবার (৮ জুন) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে দেখানো হবে প্রথম পর্ব! একই সময়ে প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার, রবি, মঙ্গল ও বুধবার।

এই ধারাবাহিকটি প্রচারের ঠিক আগের দুপুরে চ্যানেল আইয়ে এসেছিলেন নির্মাতা, অভিনেতা সালাহউদ্দিন লাভলু সহ অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম, সিনথিয়া, জুনায়েদ ও মিষ্টি জাহান। নিজেদের শুটিং অভিজ্ঞতার গল্প বলতে অংশ নিয়েছিলেন চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত আয়োজন ‘তারকা কথন’ এর সরাসরি অনুষ্ঠানে। এরপর সালাহউদ্দিন লাভলু নাটকটি নিয়ে কথা বলেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কথার এক পর্যায়ে লাভলু বলেন,‘দ্য ডিরেক্টর’ মূলত টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাককুশলীদের কেন্দ্র করেই এর গল্প। যদিও আমি নির্মাণ করি গ্রামীণ পটভূমির গল্প, কিন্তু এটা একদমই ভিন্ন ঘরানার। একদমই মিডিয়া ওরিয়েন্টেড। এটার একটা সমকালীন বাস্তবতাও আছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যে ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে, এবং শিল্পীর যে স্ট্রাগল- কিংবা একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর শিল্পী হয়ে উঠার পেছনে যতো স্ট্রাগল তাকে মোকাবেলা করতে হয়, ফাইনালি গিয়ে সে তার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়- সেরকম একটি গল্প ‘দ্য ডিরেক্টর’। যে গল্পটি দর্শকরাও রিলেট করতে পারবেন বলেই আমার মনে হয়।

লাভলু চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান ২৬ পর্বের ‘দ্য ডিরেক্টর’ এর শুটিং কয়েক দফায় করতে হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিলেটে শুরু হয় এর শুটিং। টানা শুটিংয়েই ধারাবাহিকটি শেষ করতে চেয়েছিলেন। সেভাবেই ছিলো প্রস্তুতি। কিন্তু মার্চে দেশে মহামারী করোনা চলে আসায় শুটিং বন্ধ করে ফিরতে হয় ঢাকায়।

এ বিষয়ে লাভলু বলেন, শুটিংকালীন গত বছরের মার্চে করোনা শুরু হয়, আমরা শুটিং অসম্পূর্ণ রেখে ঢাকায় চলে আসি। করোনার প্রকোপ একটু কমলে আবারও আমরা সিলেট যাই। এই নাটকের বেশীর ভাগ কাজ হয়েছে সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও কোয়াকাটাতে। বিশাল ক্যানভাস ছিলো নাটকটির। কোভিডের কারণে নাটকটি নির্মাণ করতে অনেক সময় লেগে যায়। দুই তিন ধাপে এটার শুটিং করতে হয়েছে।

নির্মাতা হিসেবে জনপ্রিয় হলেও নিয়মিত অভিনয়ও করেন সালাহউদ্দিন লাভলু। এবার তার পরিচালিত ‘দ্য ডিরেক্টর’ ধারাবাহিক নাটকে স্বচরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। নাটকটিতে লাভলুকে দেখা যাবে নাম ভূমিকায়। তবে লাভলু বলেন, এই চরিত্রটি আমার করার কথা ছিলো না, আমিতো এতো ভালো অভিনয় করতে পারি না। যাকে কাস্টিংয়ে রেখেছিলাম, তিনি টানা সিডিউল দিতে পারেননি বিধায় বাধ্য হয়ে আমাকেই করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লাভলু ছাড়াও এই নাটকে অভিনয় করেছেন সোহেল খান, আহসান হাবিব নাসিম, আরফান আহমেদ, সিনথিয়া ইয়াসমিনসহ নতুন দুই মুখ জুনায়েদ বাগদাদি এবং মিষ্টি জাহান।

কাস্টিং নিয়ে লাভলু বলেন, আমি যে কোনো নাটকের কাস্টিংয়ে যাওয়ার আগে দেখি, যাকে কাস্ট করছি সে ভালো মানুষ কিনা! শিল্পী হিসেবে সে কতোটা বড়, সেটা আমি দেখি না। দেখি কাজের প্রতি সিনসিয়ার কিনা, কাস্টিংয়ের প্রতি যথেষ্ট ভালোবাসা আছে কিনা, প্রেম আছে কিনা, সততা আছে কিনা। এগুলো সব নাটকের চরিত্র নির্বাচনের আগে আমি দেখি। আর এই নাটকেও আমি এসব দেখেই কাস্ট করেছি। নাসিমের মতো দারুণ মানুষ এবং সিনসিয়ার একজন শিল্পী আছে, সিনথিয়া তরুণ হলেও তার সাথে দুটি সিরিয়ালে আমি কাজ করেছি- তাকেও কাজের প্রতি প্রচণ্ড সিনসিয়ার হিসেবেই দেখেছি। আর নতুন দুই ছেলে মেয়ে যাদেরকে নিয়ে এবার আমি প্রথম কাজ করলাম, জুনায়েদ ও মিষ্টি জাহান- এরাও বেশ ডেডিকেটেড।

এদিকে তারকা কথন অনুষ্ঠানে নির্মাতা লাভলুকে নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ‘দ্য ডিরেক্টর’ এর অভিনয়শিল্পীরা। বিশেষ করে জুনায়েদ বলেন, আমি খুব কম সময় ধরে অভিনয়ে আসলেও লাভলু ভাইয়ের কাজের ধরন আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার কাছ থেকে অভিনয়ে আমার সবচেয়ে বড় স্কুলিংটা হয়েছে। একই কথা বলেন মিষ্টি জাহান।

অভিনেতা নাসিম বলেন,‘লাভলু ভাইয়ের চোখের দিকে তাকালে কোনো শিল্পীর কাজের প্রতি সিরিয়াস না হয়ে উপায় থাকে না।’

ধারাবাহিক নাটকে দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করতে হয়, আর সেটার শুটিং যদি হয় চেনা পরিচিত গণ্ডির বাইরে- তাহলে পুরো টিমের সদস্যরা হয়ে উঠেন একই পরিবারের সদস্য। শ্রীমঙ্গলে থেকে দীর্ঘদিন ‘দ্য ডিরেক্টর’ এর শুটিংয়ের জন্য গিয়ে এই ধারাবাহিকের সব সদস্যরা মিলে হয়ে উঠেছিলেন একই পরিবারের সদস্য। তাইতো শুটিং শেষ হলে বিদায় মুহূর্তে ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেন সব শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

‘দ্য ডিরেক্টর’ এর শুটিং শেষ হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেত্রী সিনথিয়া ইয়াসমিন বলেন, নাটকটি করতে গিয়ে সবাই এতো মিলেমিশে ছিলাম, এটা দুর্দান্ত অনুভূতি। বিশেষ করে শুটিং শেষ হওয়ার দিন আমার গুরুজি সালাহউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের যে কান্না দেখেছি সবাইকে জড়িয়ে ধরে, সেই মুহূর্তটা আমাদের সবার কাছে স্পেশাল হয়ে থাকবে! শুটিং শেষে লাভলু ভাইকে এভাবে কাঁদতে দেখিনি কখনো। সবার চোখে জল ছিলো। মনে হচ্ছিলো এটা একটা ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন