চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শীত কি তাহলে এসেই গেলো?

হেমন্তের সকালে ঘুম ভেঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন চারপাশ দেখে রাজধানীবাসীর মনে লেগেছে আনন্দের দোলা। অনেকেই ভাবছেন প্রকৃতির আবর্তে এক নতুন সুরব্যঞ্জনা নিয়ে আবারও হাজির হয়েছে এই শীত। আলমারিতে থাকা শীতের কাপড়ও বের করেছেন অনেকে। শিশুদের অনেককে দেখা গেছে গরম পোশাকে বাবা-মায়ের হাত ধরে স্কুলের পথে।

সকালের এ আবহাওয়া রাজধানীবাসীর মনে শীতের আমেজ নিয়ে এলেও আবহাওয়াবিদরা প্রকৃতির এই খেয়ালকে ধোঁকা বলেই মনে করছেন। গ্রামেগঞ্জে শীতের অস্তিত্ব কয়েক সপ্তাহ ধরেই টের পাওয়া গেলেও রাজধানীতে শীত আসতে এখনো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শীতের আমেজ এলেও। যান্ত্রিক নগরী রাজধানীতে শীত একটু দেরিতেই আসবে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখন তাপমাত্রা প্রায় প্রতিদিনই ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও রাতের তাপমাত্রা ২০ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে নেমে যাচ্ছে।

তিনি আরও  বলেন, রাজধানীর বাড়তি জনসংখ্যা, যানবাহনের চাপ, ও কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেশি হওয়ায় শীত একটু দেরীতেই পড়বে।

বিজ্ঞাপন

ডিসেম্বরের দিকে রাজধানীতে শীত পড়বে বলে জানিয়ে তিনি কুয়াশাচ্ছন্ন রাজধানী দেখে শীত ভাবার কারণ নেই বলে জানান।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে, পৌষ ও মাঘ (মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি) এই দুই মাস মিলে শীতকাল হলেও অক্টোবরের শুরু থেকেই এদেশে আসতে শুরু করে শীতের আমেজ। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সূর্যের রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। ফলে কমতে থাকে তাপমাত্রা। অনুভূত হয় শীত।

আবহাওয়া অফিসের হিসেব মতে, এ দুই মাস দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে শুরু করে উপকূলীয় অঞ্চলে ২০-২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বজায় থাকে। ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ছুটে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে কিছুটা বৃষ্টিপাতও ঘটে এ সময়। শীতকালে রাত হয় বড় আর দিন হয় ছোট।

বিজ্ঞাপন