চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শীতের বৃষ্টিতে রাজনীতি ও কৃষকের বিষণ্ণ ভাবনা

এসেছে নতুন বছর। খ্রিষ্টীয় হিসাবে ২০২০ সাল। দিন যায়, দিন আসে। বছরের হিসাব থাকে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর জাগতিক জীবনের হালখাতা চলমান। দেশ, রাজনীতি, মানুষের জীবনযাত্রা নদীর মতই বহমান। তবুও সারা দুনিয়া নতুনের প্রত্যাশা নিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায় পুরাতনকে বিদায় দিয়ে। প্রকৃত পক্ষে নববর্ষ উদযাপন সামাজিক উৎসব ছাড়া আর কিছু নয়।

বাংলাদেশে বিগত দিনে এ উৎসবে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে ২০২০ সালের প্রথম প্রহরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে ছিল। যদিও তার মাঝে মানুষ বরণ করেছে নতুন বছরকে বাজি ফটকা ফাটিয়ে। পাঁচ তারকা হোটেল, ক্লাবে ছিল নানা আয়োজন। শুধু ভোগান্তিতে পড়েছে শহরের সাধারণ মানুষ তাদের রাস্তাঘাটে চলাচলে।

বিজ্ঞাপন

অফিস আদালতে হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা বিনিময় থাকবে আরও ক’দিন। কর্পোরেট দুনিয়াতে সাহেবী কায়দাকে অস্বীকার করার পথ নেই। এগিয়ে যেতে হলে তাল মিলাতে হয়।

দেশে এখন পৌষ মাসের শীত। এ মৌসুমে এমনিতেই বাঙালী একটা উৎসবের আমেজে থাকে। এবারের শীত বেশ ঝাকিয়ে বসেছে। তার সাথে বৃষ্টি আরও বেশি বৈরী পরিবেশে সৃষ্টি করেছে। শীত আর বৃষ্টিতে বেশ বেকায়দাতে গরীব মানুষরা।

প্রবাদ আছে, ‘যদি বর্ষে পৌষে, কড়ি হবে তুষে’। অর্থাৎ পৌষের বৃষ্টিতে কৃষিজাত ফসল ভাল হয়। এতে কৃষক লাভবান হবে। তবে এ বচন এখন আর কৃষকদের আশাবাদী করে না। এর কারণ হলো বাজারের ধানের দাম দিয়ে কৃষকের খরচ উঠে আসে না৷ সবজি জাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বীদের কারণে বাজার দর বেশি থাকে কিন্তু কৃষক লাভবান নয়। এতে করে গ্রামের মানুষ চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে৷ বরঞ্চ তারা মাছ চাষ বা গবাদি পশু খামারে আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের স্বপ্ন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা৷ কিন্তু এর জন্য শিল্প কারখানার পাশাপাশি কৃষিখাতকে গুরুত্ব দিতে হবে৷ সাম্প্রতিক কালে ভারত পেঁয়াজ দেয়া বন্ধ করে আমাদের বিপদগ্রস্ত করেছে৷ তবে এর থেকে শিক্ষণীয় হলো কৃষিজাত দ্রব্যের ফলন বাড়াতে হবে৷ বাজারে ভারতীয় চাল আমদানি হয়েছে, যখন কৃষক রাগে ক্ষোভে ক্ষেতের ফসল পুড়িয়েছে। তারপরও পরিবর্তন আসেনি। চালের মূল্য বাড়লে কৃষক লাভবান হবে। আবার দাম বাড়লে মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সরকারের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে৷ এ অবস্থার সমন্বয় সাধন করতে চাল আমদানি করতে হয়। আর লক্ষ্য করলে দেখা যায় মানুষ খাচ্ছে কম দামে আমদানিকৃত চাল।

কৃষককে মাঠে ফিরিয়ে নিতে শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষিখাতের বিষয়ে সচেতন হতে হবে সরকার ও জনগনকে। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম একটি। তাই খাদ্যশস্য উৎপাদন, তার ন্যায্য দাম সুনিশ্চিত করা উচিত। মধ্যসত্ত্বভোগীরা মুনাফা অর্জন করে সার্বিকভাবে ক্ষতি করছে এ সেক্টরকে।

রাজনীতির মাঠে ঢাকাবাসী নতুন মেয়রকে বরণের অপেক্ষায়রত। মেয়র নির্বাচনে নগরবাসীর সেবক নির্বাচনের জন্য ভোট চায়৷ আর এজন্য নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় হতে হবে। মাঠে রাজনৈতিক দলকে সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে হবে। স্বাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে আবার ভোটমুখী করতে পারে এ নির্বাচন দিয়ে।

দলীয় কোন্দল, হানাহানি দেশে সেভাবে নেই। জয় পরাজয় থাকবেই। রাজনীতিতে বিরোধী দল বলতে দেশে কিছু নেই। ২০১১ সালের উন্নয়নের রূপকল্প ২০২১ সাল আওয়ামী লীগের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এবার দৃশ্যত হবার পালা।

অন্যদিকে ২০২০ সাল বিশেষভাবে অর্থবহ। কারণ মার্চ মাসে সূচনা হবে মুজিব বর্ষের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির শপথে বাংলার মাটিতে খাদ্য উৎপাদনের দিন ফিরে আসুক এ প্রত্যাশা সকলের। এ মাটির সবুজ ধান আর কৃষকের হাসি বাংলা মায়ের শাশ্বত রূপ এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)