চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতনকারী শিক্ষক বহিষ্কার

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের শাহীন শিক্ষা পরিবারের আবাসিক শিক্ষার্থীদের উপরে শিক্ষক দ্বারা মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত নির্যাতনকারী শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পাশাপাশি আবাসিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তবে প্রতিষ্ঠান প্রভাবশালী হওয়ায় চাপের কারণে এই ঘটনায় মামলা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নিতে আসা আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের অবহিত করার শাস্তি হিসাবে ছাত্রদের দেয়া হয় পৈচাশিক কায়দায় গরম রডের ছ্যাঁকা। গত শুক্রবার ঘটে এই ঘটনা। পৈচাশিক নির্যাতনে গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয় প্রতিষ্ঠানটির ৫ আবাসিক ছাত্র।

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শনিবার দুপুরে আহতদের চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই জোর করে আবাসিক ভবনে ফিরিয়ে আনে।

আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবম শ্রেণীর কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীর সাথে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টির আবাসিক ভবন পরিচালক বাবুল হোসেনের কাছে এর অভিযোগ করে। পরিচালক বাবুল হোসেন তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দশম শ্রেণীর ১০/১২জন শিক্ষার্থীকে ভবনের একটি কক্ষে ডেকে নেয় ও কক্ষ বন্ধ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় রুমে আটকে রাখে। এসময় মারধরের প্রতিবাদ করায় বগুড়া জেলার তালোরা এলাকার আলহাজ্ব সামাদ মিয়ার ছেলে প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিজভীকে ক্ষিপ্ত হয়ে পৈচাশিক কায়দায় লোহার রড আগুনে পুড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়ার ঘটনাও ঘটে।

বিজ্ঞাপন

এসময় একজন গুরুতর আহত অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা রিজভীসহ আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বাকি আহত ৫/৬জন শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের ভয়ে আবাসিক ভবন থেকে পালিয়ে গেছে বলেও জানায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ, প্রতিনিয়তই এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক।

এবিষয়ে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, তাদের হাতে মাস শেষে হাজার হাজার টাকা তুলে দেই ছেলে মারার জন্য নয়। মাসের টাকা দিতে একদিন দিতে দেরী হলেই প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার ফোন করে তাগাদা দেয়া হয়। ছাত্রদের খাবার বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু এতোবড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে তারা আমাদের অবহিত করেননি। ঘটনা শুনে আমরা তাদের কাছে বাববার ফোন করলেও তারা তা রিসিভ করেননি। আমরা এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

এব্যাপারে আবাসিক ভবনের একাধিক শিক্ষক বলেন, ঘটনা ঘটেছে ঠিকই তবে এতো বড় ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের শাসন করতেই পারেন। তিনি ছাত্রদের সামন্য শাসন করেছেন মাত্র।

এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শাহীন শিক্ষা পরিবারের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ অাসলাম মিয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শারিরীক নির্যাতন একেবারেই নিষিদ্ধ। তাই যে শিক্ষক এমন কাজ করেছেন তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। তবে সবাই ঘটনা অনেকটা বাড়িয়ে বলছেন।

স্কুলের ছুটির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্কুলের তো এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটিরই সময়। সেজন্যই ছুটি দেওয়া হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যার পর যোগাযোগ করা হলে দশম শ্রেণির নির্যাতিত ছাত্র ইরামের বাবা জিন্নাত হোসেন জানান, তার ছেলের অবস্থা নাজুক। শরীরের ভিতর রক্ত জমে অাছে, ঘাড়ে অাঘাত করায় সে সোজা হয়ে দাড়িয়ে থাকতে পারছেনা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হচ্ছে।

Bellow Post-Green View