চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শাকিবের পার্টি সংয়ে গভীর রাতেও জেগে ছিল এফডিসি

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিচিত বাক্য, এফডিসিতে তো এখন সিনেমার শুটিং হয় না! করোনা সংক্রমণের পর থেকে অবস্থা আরও নাজুক। পুরো মাসে দু-এক ছবির শুটিং হতে দেখা যায়। এর বাইরে কাজের চেয়ে সমিতি নিয়ে চর্চা হয় বেশি। তবে ব্যতিক্রম অন্যখানে। শাকিব খানের শুটিং মানেই যেন এফডিসি তার পুরনো ব্যস্ততা ফিরে পায়। যেমনটা দেখা গেল বুধবার রাতেও।

এফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া জানান, বুধবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শাকিব খানের শুটিং থাকায় এফডিসি জেগে ছিল। যা সপ্তাহের অন্যদিনগুলোতে ছিল না। সমিতিগুলোর দু-চারজন নেতাদের ছাড়া এফডিসিতে সেভাবে কাউকে দেখাও যায়নি। তবে এটা সত্যি করোনার কারণে সিনেমার শুটিং কম হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, রাত ৮টা নাগাদ এফডিসির ৯ নাম্বার শুটিং ফ্লোরে শুটিং করছিলেন দেশ সেরা এ চিত্রনায়ক। এর বাইরে এফডিসির অন্যান্য ফ্লোরগুলো ঘুরে দেখা যায় ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক! যেন আর কোথাও কেউ নেই! তবে পরিচালক সমিতির সামনে কয়েকজন নির্মাতাকে দেখা যায়। সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরেই তাদের আনাগোনা বেড়েছে বলে জানা যায়।

পরিচালক সমিতি থেকে ক্যান্টিনের দিকে এলে দেখা যাক বেশ মানুষের উপস্থিতি। ক্যান্টিন দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন জানান, অন্যদিনের তুলনায় বুধবার বিক্রি-বাট্টা বেশি। কারণ, শাকিব খানের শুটিং থাকায় এফডিসিতে ভিড় ছিল।

ওদিকে, শাকিব খানের শুটিং ফ্লোরের বাইরে আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যায়। সারি সারি গাড়ি রাখা ছিল। শুরুতে দেখেই মনে হচ্ছিল, রাতের এফডিসিও জমজমাট। শুটিং ফ্লোরে ঢোকার আগেই নিরাপত্তা নিয়োজিতদের একজন জানালেন, করোনার কারণে ফ্লোরে অযাচিত মানুষ ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। অনেকে দূর দূরান্ত থেকে শাকিব খান শুটিং করছেন শুনে তাকে একনজর দেখতে এসেছে। ফ্লোরে ঢুকতেই চোখ পড়ল হরেক রমক আলোয় সাজানো সেট। প্রডাকশন ও টেকনিশিয়ানরা প্রত্যেকেই মাস্ক পরে ছিলেন। শাকিব খানকে তার মেকআপে নিয়োজিতরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে প্রস্তুত করিয়ে দিচ্ছেন।

জানা যায়, ঈগলস ডান্স কোম্পানির একঝাঁক নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে শাকিব খানকে নিয়ে নির্মিতব্য ‘নবাব এলএল.বি’র পার্টি সংয়ের শুটিং চলছে। কোরিওগ্রাফার কাছে গিয়ে বিনয়ের সঙ্গে শাকিবকে নাচের স্টেপ বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। তখন দূরে মনিটরে পাশে বসে মুঠোফোন ঘাঁটছিলেন পরিচালক অনন্য মামুন।

জানিয়ে রাখা ভালো, শাকিব খানের সঙ্গে গানে আরও অংশ নিচ্ছেন চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ের প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসা ভারতীয় জনপ্রিয় নাচের রিয়েলিটি শো ‘ড্যান্স প্লাস’-এ অংশ নেয়া নৃত্যশিল্পী হৃদি শেখ। তিনি বলেন, সুপারস্টারের সঙ্গে ছবির মোস্ট ওয়ানটেড গানে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারছি এটা আমার উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি। শাকিব খান আছেন শুনেই আমি কাজটি করতে রাজি হয়ে যায়। ভীষণ উপভোগ করছি।

কথার শেষ হতেই ক্যামেরার সামনে আসেন শাকিব খান। পরনে কালো জিন্স, জ্যাকেট, সানগ্লাস, ব্রেসলেট, আঙুলে সাজানো আংটি। নৃত্যশিল্পীদের ভেদ করে নবাবের মতোই দৃশ্যে এন্ট্রি নেন। দুবারেই শর্ট ওকে হয়ে গেল৷ অন্য দৃশ্যে যাওয়ার আগে কোরিওগ্রাফারকে নিয়ে সোজা মেকআপ রুমে গেলেন শাকিব খান। পরের দৃশ্যে নিয়ে মিনিট দশেক পরামর্শ করেন।

এরপর আবার ক্যামেরার সামনে আসেন শাকিব। এবার শাকিব-হৃদি একফ্রেমে। প্রথমবারেই শর্ট ওকে। মনিটর সামনে পরিচালক অনন্য মামুন জোরে বলে ওঠেন, জোশ! শাকিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভাইয়া সুপার হয়েছে। যা চাচ্ছিলাম তার থেকে বেশি।

মনিটরে দৃশ্যটি দেখে হাসিমুখে শাকিব চলে যান মেকআপ রুমে। সেখানে কথা হয় তার সঙ্গে। কথায় কথায় বারবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদগ্রীব হচ্ছিলেন চারবার জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এ নায়ক। বলছিলেন, শীত আসার সঙ্গে করোনাও বাড়ছে। সামনের দিকগুলো যে কি হবে! আমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। দেখতে দেখতে বছরটা চলে গেল। আর কিছুদিন যদি সাবধানে থাকা যায়, তাহলে হয়তো নিস্তার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু রাস্তায় বের হলে যখন গাড়ির ভিতর থেকে যখন বাইরে দেখি মনে হয় দেশে মহামারীর বালাই নেই! আগের মতো সবকিছু! কম সংখ্যক মানুষকে মাস্ক পরতে দেখি।

শুটিংয়ের কথা জানাতে গিয়ে শাকিব খান বলেন, এমন ক্রাইসিসের মধ্যেও ভালো কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গানটার শুটিং শেষ করতে মধ্যরাত লেগে যাবে। আমার দিক থেকে চেষ্টার কমতি থাকছে না। করোনা আগে থেকেই আমাদের অনেক কিছুর সংকট ছিল। করোনায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তারপরও তো থেমে নেই। পুরো ছবিটা বেশ ভালোই হয়েছে। তবে করোনা না থাকলে আরও ভালো হতে পারতো। টেকনোলজি, শুটিং লোকেশন, টেকনিশিয়ান সবকিছু আরও উন্নত থাকতো।

শুধুমাত্র শাকিব খানের কারণে নির্মাণের শুরু থেকে আলোচিত ‘নবাব এলএল.বি’ ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার গল্পে নির্মিত ছবি। মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আই থিয়েটার অ্যাপে। শাকিব খান ছাড়াও অভিনয় করছেন শহিদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, মাহিয়া মাহি, অর্চিতা স্পর্শিয়া, এল আর খান সীমান্ত, শাহেদ আলী, সুষমা, আনোয়ার প্রমুখ। ইতোমধ্যেই ছবির শুটিং-ডাবিং শেষ। বাকি আছে দুটি গানের শুটিং। আগামী ২৭ নভেম্বর গান দুটির শুটিংয়ে শাকিব-মাহির মালদ্বীপে যাওয়ার কথা রয়েছে। মুক্তির সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহ।

ছবি: শওকত মোল্লা