চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শতায়ু হোন প্রজন্মের কিংবদন্তি শেখ হাসিনা

বর্তমান প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তি নেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি যিনি বিশ্ব দরবারের সামনে আখ্যায়িত হয়েছেন ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুট মণি’ হিসেবে। তিনিই হলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্ট্রা জাতির পিতা শেখ মুজিবের সুযোগ্য উত্তরসুরী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। যার দিন শুরু হয় ফজরের নামাজ পড়ে ও কোরআন তেলাওয়াতে। এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, সকালে ঘুম ভাঙার পর আগে জায়নামাজ খুঁজি। নামাজ পড়ি, কোরআন তেলাওয়াত করি। তারপর নিজের চা নিজে বানিয়ে খাই। তিনি বাংলাদেশের চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী , ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার এবং দেশের সর্ববৃহৎ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।

২৮ সেপ্টেম্বর , সেই কিংবদন্তি নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলায় রূপান্তরের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেই স্বপ্নপূরণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন তিনি। ১৯৬৫ সালে তিনি ম্যাট্রিক এবং ১৯৬৭ সালে বকশীবাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন শেখ হাসিনা।

এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার। তবে তার সাফল্যগাঁথার এই কর্মময় জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি গৃহবন্দি ছিলেন। সামরিক স্বৈরশাসনামলেও বেশ কয়েকবার তাকে কারা নির্যাতন ভোগ ও গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। বারবার তার জীবনের ওপর ঝুঁকি এসেছে। অন্তত ২০ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি অসীম সাহসে তার লক্ষ্য অর্জনে থেকেছেন অবিচল।

এর বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন দেশবাসীর অকুণ্ঠ ভালোবাসা। নির্বাচনে বারবার জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘকালীন নারী সরকারপ্রধানের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয়প্রধানের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে গত ৩৯ বছর ধরে নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। বিশ্বের সমস্যা ও সংকট নিরসনে ভূমিকার পাশাপাশি শোষিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে এখন বিশ্বনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহাজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয় শেখ হাসিনাকে। ওই সময় সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই পর্যন্ত চার মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার গঠিত হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জনের পর ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেয় তার নেতৃত্বাধীন সরকার।

এছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে অর্থাৎ মোট তিনদফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি সরকার পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৬-২০০১ সালে তার সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের টানা ১২ বছরে দেশে বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য শেষ করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, প্রথমবারের মতো এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত, প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ শতাংশ, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া, ৯৪ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনার সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।তবে এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, কারণ ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশের তকমা। আর আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এই অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীশিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এছাড়া শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন হিরো-২০১৯, সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার- ২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস. বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডেল-১৯৯৯, গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আর সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ আখ্যায়িত করেছে আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক। যা বাঙ্গালী জাতির জন্য ও সম্মানের।

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও নানা দিক থেকে অন্য দেশ থেকে এদেশ স্বতন্ত্র। এতদসত্ত্বেও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব থেকে এদেশ নিজকে মুক্ত রাখতে পারেনি। তবে, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘জাতীয়তাবাদী রাজনীতি’র নামে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম বিএনপি সরকার (১৯৯১-১৯৯৬) এবং ২০০১ সালের নির্বাচন-উত্তর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) ইসলামের নামে জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় মদদ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে দেশজুড়ে জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাত-উল-জিহাদ, হিজবুত তাহিরী, আল-জিহাদ বাংলাদেশ, আল্লাহর দল ব্রিগেড ইত্যাদি নামে অসংখ্য জঙ্গিগোষ্ঠী ও এদের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পরপর এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী চক্র ঐ সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক হিংস্র ছোবল মারতে থাকে। যশোরে উদীচী সম্মেলনে (১৯৯১), খুলনার আহমাদিয়া মসজিদে (১৯৯৯), পল্টনে সিপিবি’র জনসভায় (২০০১), রমনার ১লা বৈশাখ অনুষ্ঠানে (২০০১), মকসুদপুরের বালিয়াচর খ্রিস্টান চার্চে (২০০১), নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (২০০১), ময়মনসিংহে সিনেমা হলের অভ্যন্তরে (২০০২), বিচারকের বাড়িতে, জজের কোয়ার্টার্সে, আদালত প্রাঙ্গণে, আইনজীবী সমিতি ও ডিসি’র অফিসে বোমা হামলা (২০০৫), ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় একযোগে পাঁচশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ (২০০৫), শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় তার জনসভাস্থলে (২০০০) ৭০ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা, একই উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ‘শান্তির পক্ষে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে’ গ্রেনেড হামলা (২১ আগস্ট ২০০৪), ইতালি ও জার্মানির দুই নাগরিক যথাক্রমে সিজার তাবেল্লা ও হোসি কোনিও (২০১৫) হত্যা, মন্দিরের পুরোহিত যোগেশ্বর রায়-এর হত্যা (২০১৬), ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ১৭ জন বিদেশীসহ ২০ জন জিম্মি ও ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার পৈশাচিক ঘটনা (১ জুলাই ২০১৬), কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াতে জঙ্গি আক্রমণ ও পুলিশ হত্যা (৬ জুলাই ২০১৬) ইত্যাদির মাধ্যমে কীভাবে এই জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির রাজত্ব কায়েম করতে উদ্যত হয়, তা সকলেরই জানা।

জীবনের শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনাকে উগ্র জঙ্গি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে সফলভাবে মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি (যারা ১৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছিল) তাদের এবং প্রধানত বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, পাকহানাদার বাহিনীর দোসর, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অনেককে ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সর্বোচ্চ রায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতেও ইতোমধ্যে সমর্থ হয়েছেন। একমাত্র শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থান ও অঙ্গীকার এবং দেশবাসীর সাধারণ সমর্থনের কারণেই এদের বিচার সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব নেতৃত্বে শেখ হাসিনা এখন একটি অনুকরণীয় নাম। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে দুর্যোগ দুর্বিপাক যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের গভীর আঁধার থেকে দেশের মানুষকে নতুন দিনের সূর্যালোকে নিয়ে আসতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক এই দূর্যোগ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহস ও বাস্তবমুখি পদক্ষেপ এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের কারনে উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনেক কম।

কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন তিনি; তাঁর রয়েছে একাধিক প্রকাশিত গ্রন্থ। লেখক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান। সময় পেলেই তিনি লিখে চলেন নিজের অভিমতসমূহ। দেশ ও জাতি নিয়ে তাঁর ভাবনার প্রকাশ ঘটে প্রধানত প্রবন্ধে-নিবন্ধে। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো- ‘ওরা টোকাই কেন’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, People and Democracy, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘সহে না মানবতার অবমাননা’, Democracy in Distress Demeaned Humanity, Living in Tears, Democracy Poverty Elimination and Peace, ‘বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্ছিত মানবতা’, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা’, ‘সাদা কালো’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’, ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ প্রভৃতি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)