চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লাইফ সাপোর্টে ‘সারেং বউ’ এর চিত্রসম্পাদক মিন্টু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে আছেন দি রেইন, সারেং বউ, অঙ্গার ও গরীবের বউয়ের মতো দেড় শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রের সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন দি রেইন, সারেং বউ, অঙ্গার ও গরীবের বউয়ের মতো দেড় শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রের সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু। খবরটি চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন গুণী এই সম্পাদকের ছেলে ফারহান ইসলাম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফারহান বলেন, এমনিতেই বয়স হয়েছে বাবার। কয়েক দিন আগে অসুস্থ হলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে যে চিকিৎসক বাবাকে দেখেছেন, তিনি আমাদের জানিয়েছেন বাবার পারকিনসন রোগ হয়েছে। সেমতো ঔষুধ দিলে বাবাকে আমরা বাসায় নিয়ে যাই। চারদিন আমরা পারকিনসনের ঔষুধ খাইয়েছি। খাওয়ানোর পর পঞ্চম দিনে দেখি বাবা শ্বাস নিতে পারছেন না। আমরা জরুরী ভিত্তিতে আবার অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন তারা বাবার লক্ষণ দেখেই বললেন, তিনি তো কোভিড রোগি। টেস্ট করালে বাবার করোনা পজিটিভ আসে।

বিজ্ঞাপন

চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম মিন্টু

কিংবদন্তী এই চিত্রসম্পাদকের ছেলে জানান, গত চারদিন ধরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী আমিনুল ইসলাম মিন্টু। সময়ের সাথে সাথে অবস্থা খারাপের দিকেই যাচ্ছে বলে জানান তিনি। বলেন, বাবার ফুসফুসের নব্বই শতাংশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে গেছে। শ্বাস নিতে পারছেন না। অক্সিজেন দিয়ে আপাতত সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। বাবার এই সংকট সময়ে সবার কাছে দোয়া চান ফারহান।

অভিমান করে ফারহান বলেন, ‘চিকিৎসকের কাছে প্রথম যেদিন বাবাকে নিয়ে যাই, সেদিন যদি জানতে পারতাম বাবার করোনা হয়েছে তাহলে অন্তত এই অবস্থা হয় না আজ।’

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম মিন্টুর সহধর্মিনীও। বর্তমানে তিনিও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান এই দম্পতির ছেলে ফারহান।

সর্বশেষ ২০০০ সালে চিত্রসম্পাদনা করেছেন আমিনুল ইসলাম মিন্টু। এরআগে প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি সিনেমার সঙ্গে ছিলেন। কাজ করেছেন বরেণ্য আর গুণী নির্মাতাদের সাথে।

তার ছেলে বলেন, রাজ্জাক-ববিতা থেকে শুরু করে দিলীপ বিশ্বাসের মতো নির্মাতাদের সাথে বাবার খুব নিবির সম্পর্ক ছিলো। সেসময় অনেকের আমাদের বাসায় যাতায়াত ছিলো নিয়মিত।

১৬৫টি টির মতো সিনেমা সম্পাদনা করা আমিনুল ইসলাম মিন্টু চারবার শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এরমধ্যে আঘাতের জন্য ১৯৮৬ সালে, অপেক্ষার জন্য ১৯৮৭ সালে, গরীবের বউয়ের জন্য ১৯৯০ সালে এবং অজান্তে চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৯৬ সালে পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।