চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লবিং, গ্রুপিং, তোষামোদের চেয়ে স্ক্রিনে পারফর্মেন্সটাই আসল’

বড় পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায় রাশেদ মামুন অপুর বেশকিছু ছবি-

সিনেমায় ব্যস্ততা বেড়েছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু’র। ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘পরাণ’, ‘জানোয়ার’ (ওয়েব ফিল্ম), সর্বশেষ ‘নবাব এলএল.বি’-তে প্রধান খল চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। খলনায়ক হিসেবে তার সবগুলো কাজই মুক্তির প্রহর গুনছে। ছোটপর্দায় নানামাত্রিক চরিত্র দিয়ে পরিচিতি পাওয়া রাশেদ মামুন অপু বড়পর্দার কাজগুলো করে বেশ তৃপ্তি অনুভব করছেন! চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে তার কথায় উঠে এল সেই অভিজ্ঞতার কথা:

আপনার কোন কোন সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়?
গত বছরই চারটি ছবির কাজ শেষ করেছি। মিশন এক্সট্রিম, পরাণ, গাঙচিল, রাত জাগা ফুল। করোনা না এলে হয়তো সবগুলো ছবি এতোদিনে মুক্তি পেয়ে যেত। আমি কতটুকু চেষ্টা করেছি সেটার প্রমাণ দর্শক পেয়ে যেতেন। করোনার মধ্যে ‘অক্সিজেন’ নামে একটি শর্টফিল্ম করেছি। এটা রিলিজের পর বিভিন্ন মহল থেকে দারুণ রকমের সাড়া পেয়েছি। আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং। তারপরেই ‘জানোয়ার’ নামে একটা ওয়েব ফিল্মে নাম ভূমিকায় কাজ করেছি, যেটা মুক্তির অপেক্ষায়। এই কাজটা আমার জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতার। এছাড়া ট্রল, শেকল নামে আরও দুটি ওয়েব ফিকশন করেছি। দুর্দান্ত কাজ। সর্বশেষ করলাম ‘নবাব এলএল.বি’। যেখানে প্রধান ভিলেনটাই আমি। এবার শুটিংয়ে নামবো ‘বর্ডার’ ছবির।

বিজ্ঞাপন

অভিনয়ে আসার পর বহুদিন ছোটপর্দায় কাজ করেছেন। সিনেমায় ব্যস্ততা এতো দেরিতে কেন?
ব্যক্তিগতভাবে আমি আগ বাড়ি যোগাযোগ করতে পারি না। হয়তো এটা আমার ব্যর্থতা। এখন বুঝেছি, নতুন হলে তাকে মার্কেটিং করে নিজেকে বিক্রি করতে জানতে হবে। তবে আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি- লবিং, গ্রুপিং, তোষামোদের চেয়ে দিনশেষে স্ক্রিনে পারফর্মেন্সটাই আসল। না থাকলে দিনশেষে পিছিয়ে যেতে হবে। আমি যে কটা কাজ করেছি হয়তো পরিচালকরা আমার পারফর্মেন্স দেখেই আমাকে ডেকেছেন।

বিজ্ঞাপন

নবাব এলএল.বি ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা বলুন…
একদিন পরিচালক অনন্য মামুন হঠাৎ ফোন করেই আমার সঙ্গে মিটিংয়ে বসতে চাইলেন। ফ্রি হয়ে বসে চরিত্র ও চিত্রনাট্য জানলাম। আমি ইমপ্রেস হয়ে গেলাম। খল চরিত্রে এই ছবিতে অভিনয় করেছি। তবে তথাকথিত অ্যাগ্রেসিভ, অফেনসিভ খল চরিত্র নয়। চরিত্রটি ঠাণ্ডা মাথার সাপ বলা যায়। সময় মতো যে সাপ ফুঁসে উঠে ছোবল মেরে আবার খোলস পাল্টায়। বিভিন্ন বাঁক ও রহস্যে ঘেরা চরিত্র। এতো বড় ইউনিট ও আয়োজনে এই প্রথম কাজ করলাম। যেখানে যুক্ত আছেন আমাদের সুপারস্টার শাকিব খান। সবকিছু মিলিয়ে কাজটা আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সেরা কাজটা দেয়ার। তবে আমি কাজ করে পূর্ণ তৃপ্তি পেতে চাইনা। একজন অভিনেতা যে সময়ে পূর্ণ তৃপ্তি পেয়ে যাবে তার ক্যারিয়ার সেখানেই শেষ! তাই আমি যতদূর পেরেছি চেষ্টা করেছি।

আপনি যেহেতু ভিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে নিশ্চয়ই লড়তে হয়েছে। তার সঙ্গে প্রথম কাজ করে কেমন লেগেছে?
সুপারস্টারের সঙ্গে স্ক্রিন ভাগাভাগি করার আগে খুবই এক্সাইটেড ছিলাম আবার শঙ্কিতও ছিলাম। এফডিসিতে বিশাল সেট বানিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে সাতদিন কোর্টের অংশের দৃশ্যে কাজ করেছি। প্রথমদিনে শাকিব খানকে দেখে একঘণ্টা অবজার্ভ করে সমস্ত শঙ্কা-দ্বিধা-জড়তা কেটে গেল। নিজে নিজে কাটাইনি, তার আচরণেই কেটে গেছে। এন্ডক্লাইমেক্সের ফাইট, তার সঙ্গে দৃশ্যগুলো করে আমি মুগ্ধ এবং বিস্মিত হয়েছি। একই সঙ্গে শাকিব খানের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়েছে। কারণ, উনি ওনার কাজ আর ব্যবহার দিয়েই শ্রদ্ধা আদায় করে নিয়েছেন। খুব কাছ থেকে দেখলাম, শাকিব খান কাজের প্রতি সাংঘাতিক ডেটিকেটেড। সবচেয়ে বড় ব্যাপার ক্লান্তিতে ভেঙে পড়লেও তার মুখে কখনো বিরক্তি দেখিনি। সবসময় তার মুখে স্মাইল লেগে ছিল। প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা অমানুষিক (শুটিং) পরিশ্রম করে কারও জোর চেষ্টা করেও ‘স্মাইল’ রাখা সম্ভব নয়। এরমধ্যেও আবার করোনা ভীতি ছিল। তার সঙ্গে কাজ করে বুঝেছি, এতগুলো বছর সিনেমাটাকে লিড দেয়া এবং নাম্বার ওয়ান পজিশনে থাকা কোনো জোকস না। এটা বাস্তবতা। শাকিব খান সেই বাস্তবতা আদায় করে নিয়েছেন অভিনয়, ব্যবহার এবং ডেডিকেশন দিয়ে। সবকিছু মিলিয়ে তার সঙ্গে কাজ করে আমি প্রচণ্ড হ্যাপি। সহশিল্পী হিসেবে তার থেকে রিমার্কেবল সহযোগিতা পেয়েছি। এমন সুস্থ চর্চাটাই সবার মধ্যে থাকা উচিত।

আপনি এলএল.বি তে (আইন) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। ছবির নামও নবাব এলএল.বি। গল্প চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে সুবিধা হয়েছে?
হ্যাঁ একদমই ঠিক। এটা আমারই। এখানে দেশের একটা নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে আইন আদালতের কাজ হয়েছে। যখন আমি কোর্টে যেতাম যে চরিত্রটা করেছি সেটা কোর্টে দেখতাম। অভিনয় করতে গিয়ে আমার সেই অবজারভেশন পাওয়ার খোলা রাখার চেষ্টা করেছি। জীবনে প্রচুর ভালো মন্দ মানুষ দেখেছি। সেখান থেকেই পিক করেছি।

সিনেমায় খল-অভিনেতা (ভিলেন) হলেন কেন?
আমি খল-অভিনেতা হিসেবেই কাজ করতে চাই। নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয়ের অনেক অপশন রয়েছে। পজিটিভ চরিত্রগুলো এককেন্দ্রিক হয়। তার চেয়ে নেগেটিভ চরিত্র দিয়ে অভিনয়ের অনেকগুলো শাখায় বিচরণ করা যায়। এই খেলাটা খেলতে আমার ভালো লাগে। আমাকে নিয়ে যেসব পরিচালক রিস্ক নিচ্ছেন আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা আমাকে সুযোগ দিচ্ছেন বলেই আমি নতুনভাবে খেলতে পারছি।

অতীত চলচ্চিত্রগুলোতে খল অভিনেতার চরিত্র নিয়ে সঠিকভাবে ভাবা হয়েছে?
সমসাময়িকে আমি তো সেভাবে দেখি নাই। তবে একটা সময় শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন ফরিদী ভাই ভিলেনকে দিয়েও যে ছবি চলতে পারে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। সিনেমা করতে এসে বুঝলাম নায়ক-নায়িকা ছাড়া পারফর্মার নাই। কমেডি চরিত্র যারা করে তাদেরকে বলা হয় ‘চার্লি’। আর ক্যারেকটার আর্টিস্টরা সিনেমাতে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। শুধু সিনেমা করে একজন ক্যারেকটার আর্টিস্টের চলা সম্ভব নয়। তবে এটা সত্য গত কয়েক বছরে নেগেটিভ চরিত্র দিয়ে এমন কিছু করে দেখানো হয়নি যে নির্মাতারা ভিলেনদের নিয়ে ভাববে। সামনে দিনগুলো নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। এখন আমাদের আন্তর্জাতিকমানের অভিনেতা অভিনেত্রী রয়েছেন। তারা যেহেতু সিনেমা করছেন তাই তাদের ভেবে নেগেটিভ চরিত্রকে মূল্যয়ন দেয়া হবে।