আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হওয়ার পরও মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয়ার পক্ষেই কথা বলেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।
তিনি বলেছেন, দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে উ আইন ভঙ্গ করেছেন এবং তাদের দণ্ডাদেশের ‘মুক্ত বাক স্বাধীনতার বিষয়ে কিছুই করার নেই’।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে অনুসন্ধানের সময়ে পুলিশের তথ্যাদি দখল করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয় তাদের। নোবেলে শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত এই নেত্রী বরাবর চাপের মধ্যে ছিলেন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এবং সম্প্রতি এই সাংবাদিকদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার জন্য।
বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামে ইন্টারন্যাশনাল ইকনোমিকস কনফারেন্সে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন সু চি।
এ সময় তিনি বলেন, এই মামলাটি আইনের শাসনকে সমর্থন করে এবং বোঝা যায় অনেক সমালোচকই রায়টি পড়েনি।
‘দুজনেরই পূর্ণ অধিকার রয়েছে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার এবং কেন রায়টি ভুল তা দেখিয়ে দেওয়ার।’
৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক সমাজকর্মী মিলিটারি জান্তাদের সময়ে অনেক বছর গৃহবন্দী হয়ে কাটিয়েছেন। একসময় তাকে বিশ্বব্যাপি মানবাধিকারের আদর্শ হিসেবে মানা হতো।
কিন্তু রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ ও হত্যা রোধ করতে না পারায় তার এই অবস্থান নষ্ট হয়ে যায়, ফিরিয়ে নেওয়া হয় অনেক সম্মাননা।
এই সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি দল মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনের সংবাদ সংগ্রহে অনুসন্ধানের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গত ৩ সেপ্টেম্বর ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয় মিয়ানমারের একটি আদালত।
গত ১২ ডিসেম্বর ইয়াঙ্গুনের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাদেরকে আটক করে মিয়ানমার পুলিশ। ওই সময় তাদের কাছে কিছু সরকারি নথিপত্র ছিল যা পুলিশই অনুসন্ধানের সময় তাদের দিয়েছিল।
ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে উ (২৮) উত্তর রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনাবাহিনীর হাতে ১০ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছিলেন।
ওই অনুসন্ধানের সময় তাদেরকে দু’জন বর্মি পুলিশ অফিসার কিছু কাগজপত্র সরবরাহ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে সেই কাগজগুলো রাখার দায়েই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সুচির এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, তিনি সবটাই ভুল বুঝেছেন।
তিনি ‘আইনের শাসনের’ সঠিক মানে বোঝেন না। রয়টার্সের সাংবাদিকদের বিচার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
বর্মী সেনাদের কোনো সমালোচনা না করলেও বৃহস্পতিবার সু চি বলেন, সরকার আরো ভালোভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের স্থিরতা ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমাদের সব দিকের প্রতিই নিরপেক্ষ থাকতে হয়েছে। আইনের শাসনের মাধ্যমে রক্ষা করার জন্য আমরা কাউকে বেছে নিতে পারিনা।







