চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা উপস্থিতি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘে আবারও চার দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি শুধু ক্যাম্পের মধ্যেই নয় বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’র কথা তুলে ধরার পাশাপাশি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অনুসরণ করে আরও একবার বাংলায় ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণকে উদ্ধৃতি করে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘকে মানুষের ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থল হিসেবে উল্লেখ করে জানান: আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও চিন্তাধারার প্রতিফলন নিয়ে জাতিসংঘে তার জন্মশত বার্ষিকী উৎযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপে জাতিসংঘের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি; এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে উল্লেখ করে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’, ‘আশ্রায়ণ’, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’-এর মত নিজস্ব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নারী-পুরুষ সমতা এবং বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির মাইলফলক অর্জনের পথেও হাঁটছে বাংলাদেশ।

খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ পানি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কথাও জানান শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান না হওয়াকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করিয়ে দেন, রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পন করছে।

মিয়নামার সরকার এবং তাদের নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার সমস্যার বোঝা বাংলাদেশ বহন করে বেড়াচ্ছে উল্লেখ করে এর সমাধান তাদেরই করতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়াকেই সমাধান উল্লেখ করে জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনের ৫ দফার সঙ্গে এবার আরও চারটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত জাতিসংঘের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন প্রজন্মের জাতিসংঘ ব্যবস্থাকেও স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে আবারও বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

Bellow Post-Green View