চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরার দাবি যৌক্তিক

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন যখন মিয়ানমারের টালবাহানায় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, তখন নিজ দেশে ফেরার দাবিতে সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। এ দাবিতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে গো হোম ক্যাম্পেইনে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ করছে।

চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নির্ধারিত স্থানে সকাল ৮টা থেকে সমাবেশ শুরু হয়। যেখানে পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পের রোহিঙ্গারাও অংশ নেন। এছাড়াও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে একযোগে বিক্ষোভ শুরু হয়। মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে নিজের দেশ ফিরিয়ে দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানাচ্ছে রোহিঙ্গারা। ‘ব্যাক টু হোম’ শ্লোগানে এই বিক্ষোভে লাখো রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করছে।

Reneta June

রোহিঙ্গাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেই ডাকা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে আরাকানের গ্রামে গ্রামে প্রত্যাবাসন, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রত্যেক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, এনজিও, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা, বার্মার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, সম্পত্তি ফেরত, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারসহ ইত্যাদি। রোহিঙ্গাদের এসব দাবি খুবই যৌক্তিক বলে আমরা মনে করি।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গাদের দাবির সাথে একমত পোষণ করে আমরা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন চাই। এবারের সমাবেশটির মাধ্যমে উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পাবে বলেও আমাদের আশাবাদ। সম্মান ও মর্যাদার সাথে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত বিশ্বনেতাদের দায়িত্ব। কারণ, বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্র‍য় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এর প্রতিদানে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান না হওয়া যৌক্তিক নয়।

আমরা বরাবরের মতো বলতে চাই, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি, তাদেরকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এভাবে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়ে প্রতিবেশির ওপর চালিয়ে দেওয়ার মানসিকতাকে কোনভাবেই বাড়তে দেওয়া উচিৎ নয়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরতে চাওয়ার আকুতি দেখে হলেও বিশ্ববাসী তা নতুন করে অনুধাবন করবে বলে আমরা আশাবাদী।