চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোজ পিল খাওয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি

জন্মনিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন একটি করে পিল খাচ্ছেন। এবার সেটা বদলানোর সুযোগ আসছে। মাসে একটি মাত্র প্যাচ ব্যবহার করেই রেহাই পাবেন রোজ রোজ জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার যন্ত্রণা থেকে।

ছোট্ট গোলাকার এই স্টিকারটির চারপাশে বায়োডিগ্রেডেবল মাইক্রোনিডলস রয়েছে যেগুলোতে রয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণকারী হরমোন লেভোনরজেসট্রেল।

মাত্র পাঁচ সেকেন্ড সেটা ব্যবহারকারী হাতে ধরে রাখলেই সুইগুলো ভেঙে যাবে এবং সেগুলো চামড়ার উপরে ছড়িয়ে পড়বে। ধীরে ধীরে সেখান থেকে ওষুধ বের হবে তারপর সেসব বিলীন হয়ে যাবে।

প্রাথমিকভাবে এই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির পরীক্ষণ চালানো হয়েছে ইঁদুরের উপর। সেখানে দেখা গেছে সুইগুলো খুবই নিরাপদভাব ভেঙেছে এবং ডিভাইস থেকে সেই সব হরমোন বেরিয়েছে যেগুলো গর্ভধারণ রোধ করতে সাহায্য করেছে।

জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতি উন্নয়নশীল দেশের নারীদের জন্য খুবই উপকারি হবে কারণ সেখানে দীর্ঘকালীন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তাদের ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ খুবই সীমাবদ্ধ এবং অসঙ্গত।

অনেকেই প্রতিদিন ঠিক সময়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ নেয় না, ফলে সেটার কার্যক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া দীর্ঘকালীন জন্মনিয়ন্ত্রণ যেমন ইমপ্ল্যান্ট, শট বা আইইউডি ব্যবহারের পরামর্শ দেন স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞরা। সেসবে ভুলের মাত্রা খুবই কম।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবারের প্রয়োজনের থেকেও বেশি। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ায় সেখানে ইমপ্ল্যান্ট যে খুব বেশি মানুষ ব্যবহার করবে তেমনটা ভাবা অবাস্তব।

মাইক্রোনিডলের ব্যবহার এর আগের গবেষণাতেও খুবই কার্যকর ও নিরাপদ দেখা গেছে। ২০১৭ সালে ইমোরি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখিয়েছেন এই প্যাচটি খুব দ্রুতই ফ্লু শট শরীরের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।

জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সেই পদ্ধতি ব্যবহার করেই ধীরে ধীরে ছড়াবে এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যেন সেটা ১ মাস জুড়ে কাজ করে।

গবেষণার সংশ্লিষ্ট লেখক মার্ক প্রনিজ বলেন, শরীরের ভেতরে প্রবেশের জন্য যেসব ছোট ছোট সুই ব্যবহার করা হবে সেগুলো একটি চুলের প্রস্থের থেকেও ছোট। তারা শুধু সেটা সেভাবে বানিয়েছে যেন চামড়ার বাঁধা ভেদ করতে পারে। তারপর সেটা ত্বকের নিচে থাকতে পারে ওষুধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।