চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রায় শুনতে আদালতে খালেদা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় শুনতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে পৌনে ২টার দিকে আদালতে আসেন তিনি।

রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে করা এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে আসার আগে পথে পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সাথে যোগ দেয় বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মগবাজার ফ্লাইওভারে এলে কয়েকশ নেতাকর্মী যুক্ত হয় বহরের সাথে। এসময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ভিড় ঠেলে ধীরে ধীরে এগুতে থাকে।

মিছিলসহ গাড়িবহর মগবাজার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে সরকার সমর্থকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কাকরাইলেও। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এর আগে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সেখানে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

রায়কে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার বাসভবনের আশপাশে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ ছাড়াও আছে আর্মড পুলিশ, ডিবি, এনএসআই, ডিজিএফআই বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। পুরো এলাকায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব।

গুলশানের গোল চত্বরের পর থেকে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আশপাশের সড়কে গণমাধ্যমের গাড়িও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা গোল চত্বর থেকে হেঁটে খালেদার বাসভবনের পাশের সড়কে আসেন।

খালেদা জিয়াকে গুলশান-২ নম্বর থেকে পুলিশ প্লাজা, মহাখালী-সাতরাস্তা হয়ে, মগবাজার-হাইকোর্ট মোড় হয়ে বকশিবাজার আদালতে আনা হয়।

গত ২৫ জানুয়ারি এ মামলার রাষ্ট্র ও আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার বাকি আসামীরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।খালেদা জিয়া-জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট-বিএনপি

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন চলেছে ১৬ দিন। আর আসামি পক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন ৩৫ বার।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার বাসার সামনের গলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ। এছাড়া গত রাত থেকে পল্টন অফিসের সামনে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

গত রাত পর্যন্ত বিএনপির সাড়ে তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দলটির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। বুধবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী ক্রন্দনরত অবস্থায় সংবাদ সংম্মেলন করে এ কথা বলেন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানের সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া নিজেকে আবারও নির্দোষ দাবি করে জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোন দুর্নীতি করেনি’।

এ সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখে খালি মাঠে গোল দিতে চায় বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু সরকারের সে খায়েস পূর্ণ হবে না জানিয়ে যেখানেই থাকেন জনগণের সাথে থাকবেন বলে জানান এবং যে কোন কিছুর জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

আজ রায় কী হয়, তা জানতে পুরো দেশের দৃষ্টি এখন বকশিবারের আদালতের দিকে। রাজধানীসহ সারাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। গত রাত থেকে যান চলাচল সীমিত।

এর আগে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দীনের সময় প্রথম কারাভোগ করেন খালেদা জিয়া। সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগারে তাকে আটক রাখা হয়েছিল।

Bellow Post-Green View