চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজস্থানের নাটকীয় জয়ে উইকেটহীন মোস্তাফিজ

আরব আমিরাতে আইপিএল খেলতে যেয়ে প্রথম ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের একাদশে জায়গা পাননি সাকিব আল হাসান। রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটের দেখা যদিও পাননি বাংলাদেশের পেসার। রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তায় ভরা ২ রানের জয়ে শেষ হাসি তার দলেরই।

মঙ্গলবার পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে নেমেছিল রাজস্থান। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে এসে নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে অলআউট হওয়ার সময় ১৮৫ রানের বড় সংগ্রহ জমায় রয়্যালসরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জবাব দিতে নেমে ইনিংসজুড়ে জয়ের সুবাস পেতে থাকা পাঞ্জাব শেষ দুই ওভারে এসে খেই হারায়। শেষ ওভারে দরকারি ৪ রানও তুলতে পারেনি। ৪ উইকেটে ১৮৩তে যেয়ে থামে কিংসরা।

মহামারীর কারণে ভারতের মাটিতে আয়োজন থেমে যাওয়ার আগে রাজস্থানের ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট ছিল ফিজের। এদিন প্রথম ওভারে দেন ৪ রান। ইনিংসের মাঝপথে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারে দেন ৮ রান।

১৬তম ওভারে যখন আবারও ডাক পড়ে ফিজের, নিকোলাস পুরানের কাছে চার-ছয় হজম করে দিয়ে বসেন ১৪ রান। অথচ জিততে ৪ ওভারে তখন ৩২ রান দরকার ছিল পাঞ্জাবের। মোস্তাফিজের ওভারের পর সেটি ৩ ওভারে ১৮ রান দরকার হয়ে যায়।

ওই ওভারে হতাশ করলেও যখন ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন মোস্তাফিজ, দেন মাত্র ৪ রান। উইকেটও পেতে পারতেন, উইকেটরক্ষক অনেকটা লাফিয়ে মার্করামের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বলে কেবল গ্লাভসই ছোঁয়াতে পারেন। ৪ ওভারে ৩০ রানে নিজের পর্ব শেষ করেন কাটার মাস্টার।

বিজ্ঞাপন

শেষ করার আগে মোস্তাফিজ বাঁচিয়ে রেখে যান রাজস্থানের জয়ের সলতে। শেষ ওভারে পাঞ্জাবের দরকার ছিল ৪ রান, হাতে ৮ উইকেট। তারা কার্তিক তিয়াগির ওই ওভারে নিতে পেরেছে সবে ১ রান, খুইয়েছে ২ উইকেট। কার্তিক ৪ ওভারে ২৯ রানে ২ উইকেটে শেষ করেন।

শুরুতে ব্যাটিংয়ে এসে রাজস্থানকে বড় সংগ্রহের ভিত দেন দুই ওপেনার এভিন লুইস ও জেইসোয়াল। ৭ চার ও এক ছয়ে ২১ বলে ৩৬ করে ফিরে যান লুইস। জেইসোয়াল করে যান ৪৯ রান, ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলের ইনিংস।

অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন ৪ রানে ফিরে গেলেও ২ চার এক ছয়ে লিয়াম লিভিংস্টোনের ১৭ বলে ২৫ ও মাহিপাল লোমরোর ২ চার ও ৪ ছক্কায় ১৭ বলে সাজানো ৪৩ রানের ইনিংসে দুইশর কাছাকাছি যায় রয়্যালসরা।

কিংসদের সেরা বোলার আরশদ্বীপ সিং, ৩২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ৩ উইকেট ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দেয়া মোহাম্মদ সামির।

জবাব দিতে নেমে লোকেশ রাহুল ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল ওপেনিংয়ে ম্যাচ শেষ করে দিচ্ছিলেন। ৭১ বলে ১২০ রানের জুটি গড়েন দুজনে। অধিনায়ক রাহুল ৪ চার ২ ছয়ে ৩৩ বলে ৪৯ করে ফিরে গেলে ভাঙে জুটি।

আগারওয়াল ফিফটি পেরিয়ে থেমেছেন। তার ৬৭ রানের ইনিংস, ৭ চার ২ ছয়ে ৪৩ বলে সাজানো।

এরপর এইডেন মার্করাম ও পুরান ঝড়ো আরেকটি ফিফটি পেরোনো জুটি দিলে ম্যাচ সহজতর হতে থাকে পাঞ্জাবের। তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু ফিজ-কার্তিকদের। ২২ বলে ৩২ করে যান পুরান। মার্করাম ২০ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থেকে দেখেন দলের তিরে এসে তরী ডোবার দৃশ্য।