চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজনীতির সাতে পাঁচে থাকতে চেয়েছিলেন রুদ্রনীল

রাজনীতিতে নেমেই ধাক্কা, হেরে গিয়ে যা বললেন রুদ্রনীল

তারকা তকমা পুঁজি করে শোবিজ অঙ্গনের মানুষদের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোয়ন দেয়া নতুন ঘটনা নয়। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে এবার রেকর্ড সংখ্যক আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় তারকাদের।

এরমধ্যে সবার ভাগ্যে জয় জোটেনি। ‘তারকা’ পরিচয় কাজে লাগেনি তাদের। এমনই একজন তারকা প্রার্থী অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

অতীতে বামপন্থী রাজনীতির সাথে এই অভিনেতার সংশ্লিষ্টতা থাকলেও এবারের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন বিজেপির হয়ে। যদিও প্রার্থী হওয়ার আগে থেকেই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না’র মতো ছড়া কেটে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই অভিনেতা।

সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রশংসাও পান তিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে অংশ নেয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।

বিজ্ঞাপন

সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এমন মুক্তমনা একজন মানুষ কী করে ধর্মীয় রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়া দল বিজেপির সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে!

তখন এসব সমালোচনা তোয়াক্কা করেননি রুদ্রনীল। নিজের জয় নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন তিনি। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করলেও ভোটের মাঠে যে তিনি ততোটাই আনকোরা। অন্তত নির্বাচনের ফলাফল যেন সেটাই প্রমাণ করলো।

তবে নির্বাচনে হেরেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ‍রুদ্রনীলকে দেখা গেছে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানাতে।

নির্বাচনে হার নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুকে রুদ্রনীল লেখেন, জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন। যারা জয়ী হলেন না, তাঁদের পরিশ্রমকে কুর্নিশ। সব রাজনৈতিক দলের ভোটার, সমর্থক ও কর্মীদের ভালবাসা জানাই।

নিজের হার প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, নির্বাচনে হার জিত থাকেই। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে আমায় হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শ্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। উনাকে অভিনন্দন। সদ্য রাজনীতিতে পা দিয়েই জয়ী হয়েছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজ চক্রবর্তী ও কাঞ্চন মল্লিক। দুজনকেই শুভেচ্ছা। আশা করবো প্রথা পাল্টে তৃণমূল এদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবে এবার।

‘নতুন সরকারে যেন দুর্নীতি না জেতে’ এমন কটাক্ষও করেছেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন, দুর্নীতি না জিতুক, বরং জিতুক বাংলার সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়ণ, জিতুক বাংলার বেকারদের চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন, জিতুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও পুলিশের শিরদাঁড়া।

রুদ্রনীল ছাড়াও তারকাদের মধ্যে ভোটের লড়াইয়ে জিততে পারেননি পায়েল সরকার, অঞ্জনা বসু, সায়নী ঘোষ, পার্ণো মিত্র, দেবদূত ঘোষ, তনুশ্রী চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, যশ দাশগুপ্ত প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন