চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রমজানে ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের প্রথমভাগের রহমতের দশ দিন শেষ হয়ে মাগফিরাত তথা পাপ মোচনের দশ দিন শুরু হয়েছে। সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তায়ালা রোজার মধ্যে যেমন ফজিলত দান করেছেন, রোজার ইফতারের মধ্যেও তেমন ফজিলত দান করেছেন।

আমরা জানি, ইফতারের সময়টি মহান প্রভুর কাছে খুবই পছন্দনীয়। এসময় যখন কোনো মুমিন ইফতার সামগ্রী নিজের সামনে রেখে নিদিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, তখন আরশের মালিক ওই মুমিনের তাকওয়া (আল্লাহর প্রতি ভয়) ও আনুগত্য দেখে ব্যাপক খুশি হন। যে কারণে ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে আমাদের দোয়া সহজেই কবুল হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ইফতারের বিষয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন ইফতার কর, তখন খেজুর দ্বারা ইফতার কর। কেননা এর মধ্যে বরকত রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাও তবে পানি দ্বারা ইফতার কর। কেননা পানি পবিত্র। [সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৩৫৫ ও ৬৫৮]

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলতের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোন রোজাাদরকে ইফতার করায়, তবে সেটি তার গুনাহ মোচন করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রোজাদারের মুক্তির কারণ হয়।

বিজ্ঞাপন

অপর হাদিসে বলা হয়েছে,  যে ব্যক্তি রোজাদারকে কিছু খেজুর বা সামান্য পানির শরবত অথবা এক ঢোক দুধ দ্বারা ইফতার করায়, তবে সেটি তার জন্য ক্ষমার কারণ হয়। আর এ রমজান মাসের প্রথমভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে পাপ মোচন ও শেষভাগে জাহান্নাম থেকে মুক্তি বিদ্যমান।

নবীজি (সা.) বলেছেন: ইফতারের সময় আল্লাহ বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন আর এটি রমজান মাসের প্রত্যেকটি রাতে এবং এসময় রোজা পালনকারী প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। [বায়হাকি: ৩৬০৫]

জায়েদ ইবনে খালেদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে  রোজাদারকে ইফতার করালো তার রোজাদারের ন্যায় সাওয়াব হবে। আর এতে রোজাদারের নেকি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।

সাহাল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, লোকেরা কল্যাণ থেকে মাহরুম বা বঞ্চিত হবে না, যতক্ষন তারা দ্রুত ইফতার করবে।[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৫৬ ও ১০৯৮]

পরিশেষে মহান প্রভুর কাছে প্রার্থনা- ইয়া রাহমান, ইয়া রাহীম, ইয়া গাফুর, ইয়া গাফফার! আপনার এসব গুণবাচক নামের উছিলায় আপনি আমাদের জীবনের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেন। আমাদের রমজানের রোজাগুলো কবুল করে নেন। আমাদেরকে সুস্থ রাখুন। আমাদের নেক হায়াত বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কুরআনের আলো দ্বারা আমাদের অন্তরকে আলোকিত করে দেন। রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি আমাদের নসীব করুন। আরও বেশি করে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।