চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাকিস্তানি নাগরিকের বাড়ি প্রায় ত্রিশ বছর দখলের পরে অবশেষে উচ্ছেদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় প্রায় তিন দশকের বেশি সময় দখলে থাকা গুলশান ২ এ অবস্থিত বাড়ির দখল হারালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

বুধবার দুপুরের পর থেকে রাজউকের অঞ্চল-৫ এর পরিচালক ওয়ালিউর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসির উদ্দিনের নেতৃত্ব এ অভিযান শুরু করে সংস্থাটি। বিকাল ৪টা নাগাদ তারা বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর  দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ গুলশান ২’র এক বিঘা ১৩ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি অবৈধভাবে দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে  মওদুদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়: বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

ওই বছরই মওদুদ ওই বাড়ির দখল নেন। এরপর ১৯৭৩ সালের ২ অগাস্ট তারিখে তিনি ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে একটি ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করান এবং নিজেকে তার ভাড়াটিয়া হিসেবে দেখিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রায় তিন দশকের বেশি সময় দখলে থাকা গুলশান ২ এ অবস্থিত বাড়ির দখল হারালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ

নামজারি কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা ছিল। এ প্রেক্ষিতে, মনজুর আহমেদ তার অনুকূলে নামজারি করার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ২০১০ সালের ১২ আগস্ট হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে মওদুদ আহমদের ভাইয়ের অনুকূলে নামজারি সম্পন্নের জন্য নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজউক আপিল করে। অন্যদিকে আমমোক্তারনামা সঠিক নয় এই অভিযোগে দুদক একটি মামলা দায়ের করে। ২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত।২০১৬ সালের ২৩ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন মওদুদ আহমদ।

গত ৪ জুন আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ।

ছবি- সাকিব উল ইসলাম

বিজ্ঞাপন