চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেভাবে ভাষা আন্দোলনের তাত্ত্বিক সূত্রপাত

২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যেদিন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে জীবন দিয়েছেন রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর, সালামসহ নাম না জানা আরো অনেকে। পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জোরালো দাবি তুলেছিলেন বাংলার মনিষী, পন্ডিতরা। তাত্বিক পর্বে দাবি থেকে পরে রক্তাক্ত আত্মদান প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি।

১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ ভারতে ইংরেজী ছিল দাপ্তরিক ভাষা। ১৯৪৭ এর আগষ্টে পাকিস্তান ভারত ভাগের আগেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঊর্দূকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন মুসলীম লীগ নেতারা।

ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, মুসলিম লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা খালিকুজ্জামান বললেন, ‘পাকিস্তান যে হতে যাচ্ছে তার রাষ্ট্রভাষা হবে ঊর্দু।’ এটার প্রতিবাদে মাত্র গুটি কয়েক মানুষ যেমন, আবদুল হক সাহেব মাহবুবজাম্মান জায়েদী এবং আব্দুল মতিন এরকম কয়েকজন প্রতিবাদ করলেন; এ কিন্ত আমাদের ভাষা মতিন নয়। এরকম কয়েকজন প্রতিবাদ করে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখে ইত্তেহাদ এবং আজাদে ছাপা হয়। 

ভারতের অন্তর্ভূক্ত আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চান্সেলর জিয়া উদ্দিন হবু রাষ্ট্র পকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঊর্দূর পক্ষে মতদিয়ে আর্টিকেল লেখেন। পাল্টা পাকিস্তানের ৫৫ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা প্রকাশ করেন মনিষী ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

Advertisement

ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপর রফিকুল ইসলাম বলেন, যখন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চান্সেলর জিয়া উদ্দিন বললেন, ভবিষ্যৎ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে ঊর্দু তখন ঢাকা থেকে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদ করে বললেন, ‘যে না; রাষ্ট্রের ভাষা বা রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা এবং সেটা বাংলা। আর বাংলা যদি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা না হয় এবং ঊর্দু চাপিয়ে দেওয়া হয়, যদি বাংলা বর্ণমালা উচ্ছেদ করা হয় তাহলে সেটা হবে গণহত্যার শামিল।’

সেই সময়ের সাপ্তাহিক কমরেড এবং আজাদ পত্রিকায় ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা বের হয়।

ভাষা সংগ্রামী ও ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র ছেলে মুহাম্মদ তকীয়ূল্লাহ বলেন, এই লেখাটাই আমাদের জন্য দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে। ওই বইটাতে বলা হয়, একটি দেশের ভাষা মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় করা হলে সেটা হবে পরাধীনতার নামান্তর।

১৯৪৭ এর সেপ্টেম্বরে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন তমুদ্দিন মজলিস পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা-না ঊর্দূ নামে একটি পুস্তিকা বের। তমুদ্দিন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম, কাজী মোতাহার হোসেন এবং আবুল মনসুর আহমেদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার যুক্তি তুলে ধরেন। সেই পথ ধরেই ভাষার দাবী, জীবন দান এবং এরপর অনেক সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা ভিত্তিক দেশ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।