চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যথাযথভাবে রায় কার্যকর না হওয়ায় প্রধান বিচারপতির দুঃখ প্রকাশ

দেশের উচ্চ আদালতের রায় যথাযথভাবে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সেভাবে হচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আশা করি নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রত্যেকটা রায় বাস্তবায়িত হবে।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের এক প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

বিজ্ঞাপন

ভার্চুয়াল ওই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ড. মুনতাসীর মামুন একটা কথা বলেছেন যে, আমাদের রায় কার্যকর হচ্ছে না, তাই একটা সেল কারার জন্য। আমি বলতে চাই- আমাদের সংবিধানে কিন্তু ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবাই সুপ্রিম কোর্টের এইডে (সহযোগিতায়) কাজ করবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা। ড. মুনতাসীর মামুন যে বললেন, সেল করে রায় কার্যকর করা। সেটা করা যাবে না। আমরা কন্টেম্পট (আদালত অবমাননার জন্য দোষী) করতে পারি। আবার কন্টেম্পট করে করেও আমরা হয়রান। কারণ, কন্টেম্পট করেও কিন্তু আমাদের রায় যেভাবে (প্রপারলি) যথাযথভবে কার্যকর হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। এটা একটা দুঃখের বিষয়। তবে আমি বলতে চাই আমাদের যেসব (জাজমেন্ট) রায় যাচ্ছে আশা করি নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রত্যেকটা রায় বাস্তবায়িত হবে।’

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের আগে ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘গত এক দশকে জনস্বার্থে হাইকোর্ট কিছু যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। আমি বিচারকদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই যে, আপনাদের রায়গুলো কার্যকর হয় কিনা? বা এটা কার্যকর হয় কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব কি আপনাদের ওপর পড়ে? এখানে মাননীয় প্রধান বিচারপতি আছেন, আমি মনে করি একজন বিচারপতির নিয়ন্ত্রণে একটা সেল থাকা দরকার। জনস্বার্থের যে রায়গুলো হচ্ছে, তা পালিত হয় কিনা সেটা রিপোর্টিংয়ের জন্য। এটা একটা দুঃখের কারণ, কেননা আপনার জনস্বার্থে যে রায় দিচ্ছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো মানা হচ্ছে না।’

আজকের ভার্চুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের লেখা “বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ একজন যুদ্ধ শিশুর গল্প ও অন্যান্য” এবং হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের লেখা “বঙ্গবন্ধু সংবিধান আইন আদালত ও অন্যান্য” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান বিচারপতি।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর (এমপি), অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, লেখক-প্রকাশক ও গবেষক মফিদুল হক, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, সাহিত্যিক আনিসুল হক ও বই দুটির প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আহমেদ মাহমুদুল হক।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা যুক্ত ছিলেন।