চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মোদি-ইমরানের ভাইরাল ছবি ভুয়া

ভারতের নির্বাচন ঘিরে ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর হিড়িক পড়েছে। এগুলোর অনেকাংশেই রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচালিত পেজ বা একাউন্ট থেকে করা হয় না। দলগুলোর সমর্থনকারীরা এগুলো ছড়িয়ে থাকে এবং এক হাত দুই হাত করে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সঙ্গে ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার গ্রহণের একটি ভুয়া ছবি তেমন করে ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার এবং হোয়াটসঅ্যাপের ওয়ালে ওয়ালে।

ভেসে বেড়ানো ওই ছবিতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদি সবুজ একটি টুপি পড়ে ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন। অনেকেই এই ছবিতে দারুণ সব ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করছেন নিজেদের ওয়ালে।

একজন লিখেছেন, ‘মাওলানা সবুজ টুপি পড়েছেন। আরেকজন লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিনার করছেন।

ইতিমধ্যে ফেক ওই ছবিটি ইন্টারনেট দুনিয়া ভাইরাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। ছবিটি ভুয়া বলে জানিয়েছে ওই সংবাদ মাধ্যম।

জানা গেছে, ভুয়া ছবিটি দুই প্রধানমন্ত্রীর পৃথক পৃথক ছবিকে ফটোশপ করে সাজানো হয়েছে। ইমরান খানের যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে তা মূলত তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খানের সঙ্গে ডাইনিং টেবিলে বসা ছবি। আর নরেন্দ্র মোদির ছবিটি ২০১৩ সালের গুজরাটের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ধারণ করা। তবে নরেন্দ্র মোদির ওই ছবিতে কোনো টুপি পড়া ছিলো না।

ভারতে নির্বাচনের আগে এই হোয়াটসঅ্যাপ ভুলবার্তা এবং অপ্রচারের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত যেন গুজবের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি এবং তাদের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস দেশটির ৯শ মিলিয়ন ভোটারের মনোযোগ আকর্ষণে হোয়াটসঅ্যাপে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্দিষ্ট কাজ দিয়ে ৯ লাখ লোক নিয়োগ করেছে।

যেখানে কংগ্রেস কৌশল নিয়েছে প্রচারণার দৃশ্য ফেসবুকে দেয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়া। অবশ্য উভয় দলই ভুলবার্তা ছড়িয়ে দেয়া বা তথ্য বিকৃতির জন্য এক অপরকে দোষারোপ করে আসছে।

গত ১ এপ্রিল অসদাচরণের মদদদাতা হিসেবে কংগ্রেস সংশ্লিষ্ট ৬৮৬টি পেজ মুছে ফেলেছে ফেসবুক। এছাড়া বিজেপি সংশ্লিষ্ট ২০০টি পেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যদিও এরই মধ্যে ফেসবুকের এই সহ-প্রতিষ্ঠানটি এসব গুজব ও অপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এরপরও গুজব-অপ্রচার চলছে বলেই সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞদের দাবি।