চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাহে রমাদান ও নবীজীর অভিসম্পাত

উম্মতে মুহাম্মদী তথা মুসলিম উম্মাহ দীর্ঘ এগারোটি মাস অপক্ষোয় থাকেন। কবে আসবে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমাদান? অপেক্ষাপালা শেষ হলো। মাহে রমাদান শুভাগমন করল। একেক করে রহমতের দশক প্রস্তার করল, মাগফিরাতে দশক বিদায় নিলো। এভাবে প্রায় নাজাতের দশক। পবিত্র মাহে রমাদানের মূল শিক্ষা হলো বান্দাকে তাকওয়াবান হিসেবে তৈরি করা। আল্লাহর বান্দাকে আল্লাহর বন্ধুরূপে উপস্থাপন করা। মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পারো” (সূরা বাকারা- ১৮৩)।

আমরা আল্লাহর বান্দা, এ দুনিয়াবি জীবনে আল্লাহর বান্দা হওয়া সত্ত্বেও নানা রকম কাজ করছি, যা মহান আল্লাহ অপছন্দ করেন। আমরা খেয়ালে-বেখেয়ালে অপরের অধিকার হরণ করছি, সালাত সময়মত আদায় করছি না, মিথ্যা বলছি, পরনিন্দা করছি, যাকাত বিষয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছি না, পরিবারকে পর্দায় রাখছি না, তথা যাবতীয় গুনাহ ও অপরাধের মধ্যে আমরা লিপ্ত রয়েছি। আমরা যদি সফলকাম হতে চাই, তাহলে চলতে হবে কুরআন ও সুন্নাহ’র পথে। সব সময় আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “এবং তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু” (সূরা মুযযাম্মিল- ২০)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হযরত কা’ব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন- একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বারের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই তথায় উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলেন, তখন বললেন, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন। যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন, বললেন আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন নবীজী (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ আমরা (মিম্বরে উঠার সময়) আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা এর আগে শুনিনি। উত্তরে নবীজী বললেন, ফিরিস্তা হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমাদান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হলো না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হল অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করল না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে বৃদ্ধ পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল অথচ তারা উভয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতবাসী করতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন” (মুসলিম ও তিরমিজি)।

সম্মানিত পাঠক! পবিত্র মাহে রমাদান প্রায় শেষের পথে, আমরা জানি কি আমাদের গুনাহ মাফ হয়েছে কিনা? আর যদি গুনাহ মাফ না হয়, তবে ঈদ আনন্দ কতটুকু যৌক্তিক হবে? যারা রমাদান পেয়েও সিয়াম সাধনা করেনি, সালাত ঠিক মত আদায় করেনি, তারাবীহ, সাহারী, ইফতারীতে অংশ গ্রহণ করেননি, তারা কিভাবে ক্ষমা পাওয়ার আশা করেন? রমাদানের শেষের দিবসগুলোতে মু’মিন-মুত্তাকীদের হৃদয়ে রমাদানের বিচ্ছেদ বিরহের সূচনা ঘঠে। ঈমানদারের হৃদয়ে কষ্টের চিহৃ পড়তে থাকে। ঈমানদার ভালো কাজগুলো গণনা করতে থাকেন। আল্লাহ তা’আলার অনুগত বান্দাগণ রমাদানের শেষের প্রতিটি মিনিট, ঘণ্টা ও দিবানিশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে কাটাতে নিয়ত করে থাকেন।

আসুন, আমরাও এ মাহে রমাদানকে শেষ মাহে রমাদান মনে করে যাবতীয় গুনাহ প্রভুর দরবারে ক্ষমা করার জন্য প্রার্থনায় সময় অতিবাহিত করি। দেশ-মাতৃকা, পৃথিবী’র সকল ঈমানদান ও মু’মিনদের জন্য দো’য়া করি।

Bellow Post-Green View