বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ‘পুনর্জন্ম’ দিয়েছে ছাত্রলীগ। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে, যেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন তিনি। তার এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। রক্তমাখা ছবিগুলো ব্যাপক সহানুভূতি পেয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই সহানুভূতি যতটা না সামাজিক মাধ্যমে তারচেয়ে বেশি অনলাইনের বাইরের সাধারণ মানুষদের মাঝে।
হঠাৎ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ছিল না সাংবাদিকতার পূর্ব-অভিজ্ঞতা। মিডিয়ায় এসেছেন তিনি সম্পাদক হয়েই, পত্রিকার মালিক হয়ে। পত্রিকার মালিকানা পেয়ে দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসকে করেছেন কলঙ্কিত। দিয়েছেন উসকানি, ছড়িয়েছেন হিংসা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সব জায়গায় বিস্তার করেছেন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প, যার অনলে পুড়েছে অগণন। প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তার লেখক-ব্লগারদের ঘাড়ে পড়েছে চাপাতির কোপ; রক্তে ভেসেছে বাংলার সবুজ প্রান্তর।
হাজারো তরুণ তার অপসাংবাদিকতার বলি হয়েছে। ধর্মের কথিত মানবিক দিক উপেক্ষা করে হিংস্র হয়েছে, জঙ্গিবাদের উত্থানে রেখেছেন ভূমিকা। ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ তালিকা ধরে তাদের কথিত লেখা প্রকাশের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। কমিউনিটি ব্লগের সীমাবদ্ধ পরিসরের লেখাগুলোকে তিনি সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে ধর্মীয় উসকানি দিয়েছেন। উন্মত্ত পশুবৎ জিঘাংসায় অবুঝের মত লোকেরা হামলা পড়েছিল ঢাকাসহ সারাদেশে। হেফাজতে ইসলাম নামক ধর্মভিত্তিক সংগঠনকে সামনে নিয়ে এসে নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে হিংসার বাতায়ন। এসবই মাহমুদুর রহমানের সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতার কুফল।
ধর্ম রক্ষার নাম নিয়ে অধর্মের চাষ করেও একশ্রেণির লোকের কাছে তিনিই ছিলেন ধর্মের অঘোষিত এক ঠিকাদার। ধর্মের কোনো বিধান দৃশ্যত পালনের কোন নজির স্থাপন না করেই তিনিই দেশের মধ্যকার উল্লেখের মত অনেকের কাছে ‘ইসলামের সেবক’ হয়ে যান। ফলে তার এই রক্তমাখা জামা কিংবা চেহারা অনেকের মনে দাগ কেটেছে। সব ছাপিয়ে আলোচনাও তাই হামলা ও রক্ত নিয়েই।
মাহমুদুর রহমানের এই রক্তমাখা চেহারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অনেকেই এই হামলায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন। উল্লাসে উল্লেখ করেছেন পূর্বেকার কৃত অপরাধগুলোর কিয়দংশ। সমুচিত শাস্তি এবং এরচেয়ে বেশি শাস্তি তার প্রাপ্য ছিল এমন অভিমত অনেকের। এর বাইরে মাহমুদুর রহমানের কৃত অপরাধগুলোকে অপরাধ মনে না করা অনেকেই আবার এর সমালোচনা করেছেন। ইসলামের সিপাহশালার, মজলুম সাংবাদিকসহ নানাবিধ উপমায় তাকে সিক্ত করে অনেকেই হামলার প্রতিবাদ করেছেন।
এই দুই পক্ষের মধ্যে অদ্যকার প্রতিবাদকারীদের নিয়ে কিছু বলার নাই। তারা পূর্বসিদ্ধান্ত ধারক এবং ধর্মীয় উসকানিকে ব্রত হিসেবে মেনে নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন ব্লগার ও মুক্তচিন্তার মানুষদের রক্তে উল্লাসকারী গোষ্ঠী। তারা মুক্তচিন্তার মানুষের হত্যায় হত্যাকারী দুর্বৃত্তদের চাইতে হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দোষারোপ করা পক্ষ। চিন্তার দীনতা আর আদর্শিক অসততা তাদের পাথেয় সর্বকালে। তাদের নিয়ে কথা নেই তাই। তবে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার পর প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার মানুষ বলে দাবিদারদের উল্লাসকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখতে চাই। কারণ এরাই বাংলাদেশের আগামী দিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আলোর পথ দেখাবে বলে বিশ্বাস ছিল, কিন্তু এই ক্ষেত্রে এসে থমকে যেতে হয় অন্যায়ে উল্লাসের দৃশ্যায়নে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত।
খেয়াল করলে দেখা যায়, মাহমুদুর রহমান যেখানে প্রহৃত হয়েছেন সেটা ছিল আদালত প্রাঙ্গণ। আদালতে অপরাধী-নিরপরাধ নির্বিশেষে সকলেই নিরাপদ- এটাই ছিল পূর্ব-ধারনা এবং স্বাভাবিক, কিন্তু এক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা ব্যাহত হয়েছে। বিবদমান দুই পক্ষের এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর হামলে পড়েছে, অথচ আদালত প্রাঙ্গণে অপরাধীরও অধিকার রয়েছে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার; এক্ষেত্রে সেটা হয় নি। এটা সরকার-প্রশাসনের বিশাল ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার তারা এড়াতে পারে না।
নিকট অতীতের কিছু কার্যকলাপের কারণে ছাত্রলীগ প্রবলভাবে সমালোচিত। অনেক অন্যায়-অপকর্ম করেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শাস্তির মুখোমুখি হয় নি। কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারকার্য সম্পাদন হলেও এনিয়ে ছাত্রলীগ শিক্ষা নেয় নি, অপরাধ করেই যাচ্ছে। ফলে আতঙ্কের একটা নাম হয়ে যাচ্ছে এই ছাত্রলীগ, অথচ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের ছিল গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। কুষ্টিয়ায় যে ঘটনা ঘটল সেটা ছাত্রলীগের মাধ্যমেই ঘটল। এবং এরমাধ্যমে তারা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। যদিও এই হামলায় তাদের সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করেছে তারা।
হামলার পর কুষ্টিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার দায় অস্বীকার করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ। যে মামলায় জামিন নিতে মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া গিয়েছিলেন সেই মামলার বাদী ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার এজন্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামিকে দায়ি করেছেন। তার ভাষায়, ‘এটা যে জামায়াত-বিএনপি ঘটিয়েছে, প্রশাসন একটু খোঁজ করলেই বুঝতে পারবে, আপনারাও (সাংবাদিক) টের পাবেন।’ একই সংবাদ সম্মেলনে তুষার আবার বলেছেনও, ‘তার (মাহমুদুর) ওপর সাধারণ আমজনতা ও দুর্বৃত্তরা আঘাত করেছে’।
এদিকে, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাকে গুরুত্ব দেন নি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি এটাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবেও মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হামলার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এজন্যে সরকারকে দায়ী করেছেন।
কুষ্টিয়ার ঘটনার বিভিন্নমুখী প্রচারণার সময়ে প্রথম আলোয় প্রচার হওয়া এক ভিডিওতে মাহমুদুর রহমানকে চরম উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। উত্তেজিত মাহমুদুর রহমান ওই সময়ও তার পূর্বেকার চরিত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ধর্মীয় উসকানি ও হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ ঘটিয়েছে। ভিডিওতে মাহমুদুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘ইসলামের জন্যে জীবন দিয়ে দেব, ছাল উঠাবো হিন্দুদের’। এই প্রবল সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য খুব বেশি আলোচিত হয় নি। এনিয়ে আইনি কোন পদক্ষেপ নেয় নি সরকার। রক্তমাখা জামায় আড়াল হয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও ধর্মীয় উসকানি। অথচ এটাও আলোচিত হওয়ার কথা ছিল।
সম্পাদক জীবনের শুরু থেকে এখনও প্রবল সাম্প্রদায়িক মাহমুদুর রহমান। পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলেও তার চরিত্রের কলঙ্কিত রূপ সাম্প্রদায়িকতার দুর্গন্ধ বন্ধ হয় নি। আদালতে গিয়েও তিনি সেই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে গেছেন।
দুঃখের বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক মাহমুদুর রহমানের এই জঘন্য রূপ আড়াল পড়ে যাচ্ছে রক্তমাখা শার্টের ছবিতে। এখন মাহমুদুর রহমান বলতে প্রথমে এই ছবিটাই সামনে আসবে দেশবাসীর। এত এত সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, ধর্মীয় উসকানি সবকিছুকে আড়াল করে দিয়েছে ছাত্রলীগের এই হামলা। সেই হিসেবে মাহমুদুর রহমানের ‘পুনর্জন্ম’ দিয়েছে কুষ্টিয়া ছাত্রলীগ।
মাহমুদুর রহমানকে ছাত্রলীগ প্রহার করেছে তার সাম্প্রদায়িক আচরণ ও দেশব্যাপী হিংসা প্রচারের কারণে নয়। তাদের এই আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার কন্যা ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার কারণে। এনিয়ে ওখানকার ছাত্রলীগ সভাপতি মামলা করেছিলেন এবং সেই মামলার জন্যেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুর রহমান। আদালত তাকে জামিন দিলেও ছাত্রলীগ তাকে প্রহৃত করেছে। এতে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যখন আইন নিজের হাতে তুলে নেবে তবে কেন আইনের কাছে গেলে? আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেখানে ঘটেছে সেটা আদালত এবং আদালত প্রাঙ্গণে সকলের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে।
মাহমুদুর রহমান আক্রান্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা উল্লাস করছেন তাদের মধ্যে অনেক প্রগতিশীল চিন্তার মানুষের নাম দেখে অবাক হয়েছি। অপরাধী হলেও যে কারও আক্রান্তের খবরে মুক্তচিন্তার মানুষেরা উল্লাস করবে বলে আগে ভাবিনি, অন্তত আমাদের অতীত ইতিহাস সেটাই বলছে। মাহমুদুর রহমানের কারণে এদেশের ব্লগার ও মুক্তচিন্তার লেখকদের ঘাড়ে চাপাতির কোপ পড়েছে এটা প্রশ্নাতীত সত্য। একের পর ব্লগার-লেখক খুন হওয়ার সময়েও আমরা রক্তের স্রোত দেখে আঁতকে ওঠেও কখনও ‘রক্তের বদলা রক্ত’ চাই নি। এত এত রক্তের পরেও আমরা আইন-আদালতের প্রতি আস্থা রেখে জোর গলায় বলেছি ‘কলম চলবে’। ওই সময়ে কলমের ওপর আমাদের আস্থা ছিল, নিজেদের ওপর বিশ্বাস ছিল। অপরাধ ও অপরাধী প্রতিরোধে নিজেদের অপরাধীর কাতারে নাম লিখাতে চাই নি; অথচ রক্তের ওই হোলিখেলার ধারা যখন বন্ধ কিংবা বিরতি ঘটল তখনই ভুলে গেলাম কলমের কথা, নিজে অপরাধ না করলেও অন্যের অপরাধকে সমর্থন করে গেলাম। এটা নিশ্চিতভাবেই স্ববিরোধিতা যদি সেদিন আমরা বিশ্বাস থেকে বলি ‘কলম চলবে’; এই আত্মপ্রবঞ্চনা উদ্বেগের, যখন আমরা মানবিক সমাজ-দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।
চিন্তা-দুর্বৃত্ত মাহমুদুর রহমান এদেশে অনেককেই চিন্তা-দুর্বৃত্ত করে তুলেছেন। সাম্প্রদায়িক ভাবধারার মানুষগুলো তার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল, সেখানে তিনি সফল হয়েছেন। তার চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এখন এগিয়ে যাচ্ছেন যখন প্রগতিশীল দাবিদাররাও একইভাবে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার ছলচাতুরি খুঁজে। অথচ তার এবং তার মোহগ্রস্ত মানুষদের মাঝে এটাই আমাদের পার্থক্য হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা মানবিক, এটাই হতে পারত তার প্রতি আমাদের প্রবল প্রতিশোধ। আমরা অনেকক্ষেত্রে সে প্রতিশোধ নিতে পারি নি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েই তিনি ক্ষান্ত হন নি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে গেছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার বিচার হবে বলেও ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছেন। সাম্প্রদায়িক উসকানি ও হামলাকে উৎসাহিত করা সহ নানা অপরাধে অপরাধী মাহমুদুর রহমান। কিন্তু তার অপরাধের বিপরীতে কোন ধরনের শাস্তি ভোগ করেন নি। তার কয়েকবছর জেলবাস অপরাধের চূড়ান্ত শাস্তি নয়, এজন্যে বিচারিক সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দরকার ছিল। কিন্তু সরকার-প্রশাসন সেটা করে নি। এত এত অপরাধের পরেও সরকার তাকে দেখছে স্রেফ বিএনপি-জামায়াতপন্থী এক কণ্ঠ হিসেবে। ফলে যে সব অপরাধে তার শাস্তি পাওয়ার কথা ছিল সেগুলোও আলোচনায় আসছে না। আলোচনায় আসছে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের মানহানি করার মামলায় হাজিরা ও প্রহৃত হওয়ার খবর। এতে তিনি সহানুভূতি পাচ্ছেন দেশের বিরাট এক অংশের মানুষের। এই সহানুভূতির দায় ভার সরকারকেই কিন্তু নিতে হবে।
মাহমুদুর রহমানের আক্রান্ত হওয়ার খবর কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকে নি, বহির্বিশ্বেও প্রচার হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বাভাবিকভাবেই তার কৃত অপরাধকে হাইলাইট করে নি, করেছে রক্তভেজা মুখচ্ছবি। এতে আর যাই হোক সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় নি। অপরাধী মাহমুদুর রহমান অপরাধকে আড়াল করতে পেরে লাভবান হয়েছেন। অথচ এর উল্টোটাই হওয়ার কথা ছিল।
হঠাৎ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এদেশের অনেকের কাছে বিরাট সাংবাদিক। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নি। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, এর হাজিরা ও আদালত প্রাঙ্গণে আক্রান্ত হওয়ার ছবিগুলো আর যাই হোক দেশে ও দেশের বাইরে সরকারকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যায় নি। কুষ্টিয়ার অতি-উৎসাহী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আক্রমণ তাকে ‘পুনর্জন্ম’ দিয়েছে। এই রক্তভেজা মাহমুদুর রহমান এখন সরকারবিরোধী ‘পোস্টার বয়’ হয়েও গেছেন।
এখন তাই মনে হচ্ছে, রক্ত ঝরলেও মাহমুদুর রহমান সরকার, প্রশাসন ও ছাত্রলীগকে একটা ধন্যবাদ দিতেই পারেন, নতুন চেহারা দেওয়ার জন্যে!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








