চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাস্টারির কত ঠেলা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ৫ দফা দাবির সঙ্গে ‘শিক্ষার্থীদের শাসন করার’ অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবিটি যুক্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সাখুয়া আদর্শ বিদ্যানিকেতনের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসিম আহমেদ। এমন একটি বিষয় নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

তার মতে, শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের আদর করে থাকেন এবং অন্যায় করলে এই শিক্ষকরাই শাসন করে থাকেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বেয়াদবি করলে তাদেরকে শাসনের ক্ষমতা শিক্ষকদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বেত ও কঞ্চি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, শিক্ষকদের ৫ দফা দাবির সঙ্গে ‘শিক্ষার্থীদের শাসন করার’ অধিকার শিক্ষকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিটিও যুক্ত হওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

হাসিম আহমেদ তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেশ কিছুদিন যাবৎ ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। দফাগুলোর প্রত্যেক শিক্ষকের ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

আমি নিজেও একজন শিক্ষক হিসেবে উত্থাপিত দাবিসমূহের প্রতি সংহতি প্রকাশ করি। কারণ আমিও বিশ্বাস করি, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে অন্যান্য শিক্ষকদের মতো আমারও জীবন-মানের উন্নতি হবে।

তবে, এই দাবিগুলোর সঙ্গে আরো কিছু অতি প্রয়োজনীয় বিষয় উত্থাপন করা জরুরি বলে আমি মনে করি। এদের মধ্যে অভিনব দাবিটি হতে পারতো, শিক্ষার্থীদের শাসন করার ক্ষমতা শিক্ষকদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কোন অবস্থাতেই শাসন করা যাবে না বলে সরকারি নীতিমালা রয়েছে। কোন শিক্ষার্থী গুরুতর শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন আচরণ করলেও তাকে বেত্রাঘাত দূরে থাক, কড়া ভাষায় ধমক দেওয়াও সরকারি ফতোয়ায় নাজায়েজ করা হয়েছে। কোন কোন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের শাসন করতে গিয়ে মহা ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। চাকরিও গেছে দু’একজনের।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কঞ্চি বা বেতের উপস্থিতি নেই। এখন শিক্ষার্থীদের শাসন করার জন্য বেতের ব্যবহার মোটামুটি হারাম পর্যায়ে গণ্য করা হয়।

এধরনের আইন আসলে কতটা সুবিবেচনা প্রসূত অর্থাৎ ইতিবাচক হয়েছে, তা সামনের দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে। যদিও মনোযোগের দৃষ্টিতে খেয়াল করলে এ ধরনের অতিসুশীল রীতির কুফল অনেকাংশে টের পাওয়া যায়।

সম্প্রতি, শ্রেণিকক্ষে উদ্ভট ফ্যাশন আর বেয়াদব টাইপের যে হারে তথাকথিত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়, এরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের যেন আমলেই নিতে চায়না। এদেরকেও নাকি আদর সোহাগ করেই ক্লাসে মনোযোগী ছাত্র বানাতে হবে! বুঝুন মাষ্টারির কত ঠেলা!

ছাত্রদেরকে যদি ভবিষ্যৎ হিসেবে মনে করা হয়, তাহলে এদের নিয়ে ফালতু আবেগ তাড়িত না হয়ে সঠিক কর্ম পরিকল্পনা যেমন করতে হবে, তেমনি শিক্ষার্থীদের আদর-সোহাগ করার পাশাপাশি শাসন করার প্রয়োজনীয়তা মানতে হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে উপিলব্ধি করি, আমি এখন যে পর্যায়ে আছি, তার পিছনে আমার শিক্ষাগুরুদের আদর, স্নেহ আর শাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

যারা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসে সুন্দর শব্দ চয়নে শিক্ষানীতি লিখেন, তাদের পিঠে নিশ্চয়ই শিক্ষকদের শাসনের রাজতিলক অঙ্কিত রয়েছে। কেবল বোধের দৃষ্টিতে দেখলেই দেখা যায়। যাদের এ বোধ সৃষ্টি হয়নি কিংবা নানাবিধ কারণে এখন তা বধির নয়তো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাদের কথা আলাদা।

সমস্যা হলো, এরা সংখ্যায় নিতান্ত কম কিন্তু ক্ষমতা অনেক বেশি।’