চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মামলার তদন্ত করতে পারবে না পুলিশ কর্মকর্তা নয়ন কুমার: হাইকোর্ট

বগুড়ায় ছোট ভাইকে হত্যা মামলায় ১২ বছর বয়সী বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ‘জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার’ অভিযোগ থাকা পুলিশের সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার আপাতত কোনো মামলা তদন্ত করতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এই হত্যা মামলার যথার্থতা ও আইনি দিক পর্যালোচনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদন বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে বলে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। সেই সাথে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক, পিবিআই বগুড়া) মো. মনসুর আলীকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার মেডিকেল রিপোর্ট, নতুন নেয়া ১৬৪ ধারার জজবানবন্দি ও আদালতের আদেশের ফটোকপি দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আজ শুনানির একপর্যায়ে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার প্রসঙ্গে আদালত বলেছেন, ‘ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস এখানে বিষয় না। হি হ্যাস কমিটেড ক্রাইম’। আজ আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১১ আগস্ট হাইকোর্ট ১২ বছর বয়সী ভাইয়ের কাছ থেকে ‘জোর করে’ স্বীকারোক্তি নেওয়ার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জানাতে সারিয়াকান্দি থানার সাবেক উপপরিদর্শক নয়ন কুমারকে (বর্তমানে পরিদর্শক, সিআইডি, নাটোর) ২২ আগস্ট আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে মামলার কেস ডকেটসহ মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকে (উপপরিদর্শক, পিবিআই বগুড়া) আদালতে হাজির হতে বলেন। সে অনুযায়ী সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ২২ আগস্ট আদালতে হাজির হন। এবং ‘জোর করে’ স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন। এরপর আদালত এবিষয়ে শুনানির জন্য ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এইদিন নয়ন কুমারকে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকে আদালতে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকতে বলা হয়। ওইদিন শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১২ বছর বয়সী ভাইয়ের কাছ থেকে ‘স্বীকারোক্তি’ নিয়ে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ‘অবেহলা নয়, অপরাধ করেছেন।’

জোর করে ১২ বছর বয়সী এক ভাইয়ের স্বীকারোক্তি নেওয়ার বিষয়ে ১১ জুন ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের ভাষ্য, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের (শিশুর) ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের এক দিন পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার বাবা মহিদুল। সে বছরের ২৯ নভেম্বর স্থানীয় থানা-পুলিশ তার বাড়িতে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ১২ বছর বয়সী বড় ছেলেকে তারা নিয়ে যান। পরদিন ১২ বছর বয়সী শিশুটিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে শিশুটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আদালত শিশুটির জামিন মঞ্জুর করে পরিবারের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন।

এই প্রতিবেদন যুক্ত করে বগুড়ার আদালতে থাকা ওই হত্যা মামলার যথার্থতা ও আইনি দিক পর্যালোচনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী গত ২০ জুন হাইকোর্টে আবেদন করেন। সে আবেদনের প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট এবিষয়ে শুনানি চলছে। আলোচিত এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার (১২ বছরের ভাইকে) শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছিল। তবে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলী ওই শিশুকে অব্যাহতি দিয়ে পরবর্তীতে আদালতে চার্জশিট দেন।

বিজ্ঞাপন