চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহামারিকালীন ব্যবসায়ের সক্ষমতা বাড়াতে আরপিএ অপরিহার্য

বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বাজারে রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (আরপিএ) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কোভিডকালীন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার প্রভাবকে মোকাবিলা করতে ব্যবসায়ের বৃদ্ধি সক্ষম করতে বাংলাদেশের এই “বুদ্ধিমান অটোমেশন” প্রযুক্তিকে গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।

বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং ফাইনান্স এন্ড একাউন্টিং উইথ রোবটিক প্রসেস অটোমেশন’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার এবং সদস্যদের সম্মেলনে তারা এই মতামত দেন ।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, জুনায়েদ আহমেদ পলক,এমপি। ইউআইপাথ (UiPath) থেকে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসাবে অংশ নেন ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া বিজনেস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট – আনষুমান রাই, ইপিএস গ্লোবাল সার্ভিসেস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট – ক্রিশ্চিয়ান এসমাইজার এবং ফিনান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং-ইন্ডাস্ট্রি প্র্যাকটিস লীডার – অরুনপ্রসাদ রাম ।

বিশেষজ্ঞ বক্তারা অভিমত দেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক কাজে প্রযুক্তির ভূমিকা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান রেগুলেটরি নিয়মকানুনের পরিবর্তন ও কমপ্লায়েন্স ফাংশন এর কারণে কর্মীদের কাজের গতি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, তাই কমপ্লায়েন্স ফাংশন পরিচালনা করতে প্রতিষ্ঠানগুলো রোবোটিক প্রসেস অটোমেশনকে গ্রহণ করছে।

রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (আরপিএ) এমন এক প্রযুক্তি যেখানে সফটওয়্যার “রোবট” কে একবার শেখানো হলে তা মানুষের বিভিন্ন কাজ অবিকল অনুকরণ করে যেতে পারে।

আরপিএ রোবটগুলি মানুষের নিয়মে বাধা বিভিন্ন কাজকে অনুকরণ করতে সক্ষম। তারা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে লগ ইন করা, ফাইল এবং ফোল্ডার ট্রান্সফার করা, তথ্য অনুলিপি তৈরি করা, ফর্ম পূরণ করা, নথি থেকে তথ্য উদ্ধার করাসহ ইত্যাদি সহজেই করতে পারে।

রফতানি, জিডিপি, ইলেক্ট্রনিক অর্থ আদান-প্রদান গত কয়েক দশকে বহুগুণে বেড়েছে এবং আমরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে ব্যবসায়ের হাইপারগ্রোথ বজায় রাখার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য অটোমেশন, আরপিএ, প্রসেস মাইনিংয়ের মতো প্রযুক্তি গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক বলে তারা মনে করেন ।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথি হিসাবে জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বিশ্ব ক্রমবর্ধমান ডেটা এবং প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিটি যে দ্রুত গতিতে বিকাশ লাভ করছে, সেখান থেকে ফিনান্স এবং অ্যাকাউন্টিং পেশাদারদের উপস্থাপিত সুযোগগুলি পুঁজি করার উপায় আবিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি ব্যবসায়ের কার্যক্রম এবং প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রক্রিয়াকে সৃসংহত করবে।

তিনি আরও বলেন, রোবোটিক প্রসেস অটোমেশনটি স্মার্ট সফটওয়্যার রোবট (বটস) মানবিক মিথস্ক্রিয়াগুলিকে কপিরকেট করে এবং ওয়েব এবং অন্যান্য ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশনগুলির সাথে প্রক্রিয়াগুলির কার্য সম্পাদন করে, ব্যবসায়িক কার্যকলাপকে আরো দ্রুতগতি করে তুলবে।

তিনি বলেন, কোভিড মহামারির সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্য সম্পাদনে আমাদের ডিজিটাল নির্ভর অর্ন্তভূক্তি আরো বেশি করে তুলবে । সেই ধরনের ডিজিটাল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ার লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ-উল হাসান খসরু এফসিএ বলেন, হাইপারটেমোশন, আরপিএ, প্রসেস মাইনিং, ওসিআর বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে সুবর্ণ সুযোগ দেবে কারণ এই নতুন প্রযুক্তিগুলি ক্ষুদ্রতর সুক্ষতর কাজ সম্পাদন ও বুদ্ধি বিকাশের অপার সম্ভাবনা তৈরি করছে। তাই শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাঠ্যক্রমে অটোমেশন সম্পর্কিত কোর্সগুলি সংযুক্ত করা হয়েছে কারণ শিক্ষার্থীদের নেক্সট জেন টেকনোলজির জন্য প্রস্তুত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চ এর প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বলেন, বিশ্ব রোবোটিক প্রক্রিয়া অটোমেশন বাজারের আকার ২০২২ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৩.৬% এর সিএজিআর-এ প্রসারিত হবে। আরপিএ ব্যবহারকারী সংস্থাগুলি সুনির্দিষ্ট অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে সক্ষম হবে এবং তাদের ভোক্তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে এবং গ্রাহক বাড়াতে সক্ষম হবে ।

তারা আরও বলেন যে, প্রযুক্তি বিবর্তনের একটি আকর্ষণীয় পর্যায়ে আমরা প্রবেশ করছি যা বিশ্বকে বিদ্যুতের গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত সঠিক সময়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টি গ্রহণ করা এবং পরবর্তী স্তরে তাদের প্রচারের জন্য সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতিতে প্রযুক্তির সুবিধাগুলি অর্জন করা ।