চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মহানগর’ দেখতে তিনশো মাইল পাড়ি দিয়েছিলেন নূর

সত্যজিৎ রায় এমন একজন নির্মাতা, যার সিনেমা শুধু বাংলা ভাষাভাষি মানুষকেই অনুপ্রাণিত করেনি, শক্তি যুগিয়েছে বিশ্বের সিনেমাপ্রেমী মানুষদেরও! আর এই গুণী নির্মাতার ছবি দেখতে ৩৩০ কিলোমিটার পাড়ি দেয়ার স্মৃতি রোমন্থন করলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গুণী অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর!

ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নিয়ে সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে স্মৃতি কথায় এমনটাই জানান নূর।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’ তাকে এতটাই নাড়া দিয়ে ছিলো যে, ‘মহানগর’ সিনেমা দেখার জন্য সেই বালক বয়সে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নীলফামারি থেকে ঢাকা এসেছিলেন নূর।

১৯৭২ সালে যখন ঢাকার পল্টন ময়দানে সত্যজিৎ রায় এসেছিলেন, তাকে দেখার জন্য লক্ষাধিক মানুষ এসেছিলো উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওনাকে খুব সম্মান করেছিলেন।’

এদিন সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন উপমহাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। সত্যজিত রায়ের সঙ্গে অভিনয় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

শর্মিলা বলেন, সত্যজিৎ রায় কেবল বাংলার নয়, বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাতা।

তিনি আরো বলেন, চাইলেই বিদেশি ভাষায় সিনেমা নির্মাণ করতে পারতেন সত্যজিৎ, কিন্তু তা না করে বাংলা ভাষাকেই আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে নিয়ে গেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘সত্যজিৎ রায়: জাতীয় নাকি বৈশ্বিক’ শীর্ষক সেমিনারে শর্মিলা ঠাকুর ও আসাদুজ্জামান নূর ছাড়াও বেশ কয়েকজন গুণী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে শর্মিলা সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণ করে আরো বলেন, সে সময় রায় সাহেব অতটা অবস্থাসম্পন্ন ছিলেন না, খুব বেশি অর্থকড়ি ছিল না, একটা শট দু থেকে তিনবারের বেশি নেয়ার সুযোগ ছিল না, সেই অবস্থা থেকে বিশ্ব-দরবারে জননন্দিত হয়ে ওঠার পেছনে শ্রম ও মেধার অবদানই বেশি। আজকের তরুণ নির্মাতাদের জন্য সত্যজিৎ রায় অনেক বড় অনুপ্রেরণার নাম বলেও মন্তব্য করেন শর্মিলা ঠাকুর।

সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর

কলকাতা থেকে অনলাইনে সেমিনারে যোগ দেন আরেক বর্ষীয়ান অভিনেতা ধৃতিমান চ্যাটার্জি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, সত্যজিৎ রায় কোন নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নন, তিনি সারা বিশ্বের জন্য চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক দৃষ্টান্ত।

ধৃতিমান বলেন, সত্যজিতই একমাত্র নির্মাতা যিনি সিনেমায় রাজনীতিকে এতো জীবন ঘনিষ্ট করে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ সিনেমার শুটিংকালের নানা পরিস্থিতি নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। প্রবন্ধে থেকে তিনি উল্লেখ করেন, জীবন যে মসৃণ কোনো পথ নয়, বরং খাড়া পাহাড়ি ঢালের মতো বন্ধুর, সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র সেই শিক্ষাই দেয়।

সেমিনারে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র জীবন, জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আরো কথা বলেন বিচারপতি রিফাত চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ।