চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মন থেকে বলছি, সিনেমায় কোনো ঝামেলা চাই না: জয় চৌধুরী

মুক্তিপ্রাপ্ত সাত সিনেমার নায়ক জয় চৌধুরী এবারই প্রথম ‘সাইকো লাভার’ নামে ওয়েব ফিল্মে কাজ করলেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি জয় শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। সাংগঠিকভাবে তিনি বেশ তৎপর। সার্বিক বিষয় নিয়ে নতুন প্রজন্মের এ নায়ক কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে…

প্রথমবার ওয়েবের জন্য কাজ করলেন। এটি নিয়ে বলুন…
‘সাইকো লাভার’  আমার প্রথম ওয়েব ফিল্ম। দৈর্ঘ্য ৫০ মিনিটের মতো। একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেয়া হবে। যেহেতু ওয়েব ফিল্মের নির্দিষ্ট কোনো দৈর্ঘ্য নেই তাই একে ওয়েব ফিল্মই বলতে চাই। ফিল্মের মতো করেই শুটিং করা হয়েছে। টাইটেল ট্র্যাক রাখা হয়েছে। সবকিছু ফিল্মি ব্যাপার! পরিচালক সবুজ খান। প্রযোজক আফফান মিতুল। তিনি অভিনয়ও করেছেন। আরও আছেন অরিন। মূলত কয়েকজন বন্ধুর গল্প, সত্য ঘটনা নিয়ে ‘সাইকো লাভার’ নির্মিত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে নিজেও বন্ধুদের প্রাধান্য দেই। কাজটির মাধ্যমে মানুষের কেমন বন্ধু নির্বাচন করা উচিত তার শিক্ষা পাবে। সবকিছু মিলে যাওয়ায় কাজটি করেছি। অভিজ্ঞতাও দারুণ।

বিজ্ঞাপন

ওয়েব ফিল্ম ‘সাইকো লাভার’ এ জয়

বিজ্ঞাপন

সিনেমায় কাজের খবর বলুন?
আমার মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার সংখ্যা সাতটি। এক জবান, ভালোবাসলে দোষ কি তাতে, ক্ষণিকের ভালোবাসা, আজব প্রেম, হিটম্যান, অন্তরজ্বালা, চিনিবিবি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ভালোবাসি কতো বোঝাবো কেমনে, আনন্দ অশ্রু, অবাস্তব ভালোবাসা, কাকতাড়ুয়া। কাজ শুরু করবো ‘ভেলকিবাজি’র। সবকিছুই প্রস্তুত। নভেম্বরে শুটিং শুরু করবো।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলে থাকেন, সিনেমার চেয়ে শিল্পী সমিতি নিয়েই বেশি ব্যস্ততা আপনার?
শিল্পী সমিতি নয়, আমার কাছে সিনেমা আগে। সিনেমা ই যদি না করি তাহলে সংগঠন দিয়ে কী হবে? তবে আমি যেহেতু সর্বকনিষ্ঠ তাই সবাই আমাকে স্নেহ করেন একটু বেশি। তাই আমার উপর একটু কাজ বেশি দেয়া হয়। সেজন্যই সাংগঠনিক কাজগুলো আমাকে করতে হয়।

ভোটাধিকার হারানো ১৮৪ জন শিল্পীর মধ্যে অনেকেই আপনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে?
২০১৮ সালের কমিটি তাদের ভোটাধিকার তুলে নিয়ে সহযোগী সদস্য করেছে। সেই আন্দোলন তারা এখন করছে। ওই কমিটিতে আমি তো ছিলাম না। বর্তমান যে কমিটিতে আছি, এটা আর আগেরটা থেকে পুরো আলাদা। বর্তমান কমিটির ফ্রন্টলাইনে যে কজন কাজ করছেন তার মধ্যে আমি একজন। এ জন্য আমাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। শুধু শিল্পী সমিতি নয়, প্রযোজক সমিতিও তাদের নীতিমালা মেনে সহযোগী প্রযোজক করেছে। এজন্য প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে সোহেল রানা, ডিপজল সাহেবরাও ভোট দিতে পারেননি। যারা আগের বার প্রযোজক সমিতির বড় পদে নির্বাচিত ছিলেন।

বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে কোন্দল, রেষারেষি বিরাজমান। নতুনরা সিনেমায় এসে এগুলো পাচ্ছে, দেখছে। যেমন আপনিও তাই দেখছেন। এসবের মধ্যে থেকে সিনেমায় ভবিষ্যৎ দেখতে পান?
কোন্দল, আন্দোলনের মুখোমুখি হবো কখনও চিন্তাও করিনি। পরিস্থিতিই আমাদের বাধ্য করছে। কিন্তু মন থেকে বলছি, সিনেমায় কোনো ঝামেলা চাই না। সরকারও এখন আন্তরিক। সিনেমা এবং হল বাঁচানোর জন্য সরকার মোটা অংকের ঋণ দিচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় ২০০ সিটের জিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমে হলের মতো বানাচ্ছে। সেখানে আমরা সিনেমা প্রদর্শন করতে পারবো। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ১০০ মাল্টিপেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এটা খুবই ভালো দিক। সবচেয়ে সুখবর হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিজে সিনেমার জন্য সবকিছু অর্ডার দিচ্ছেন। ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শিল্পীদের জন্য ৫০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যেটা আমাদের জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট। শিল্পীদের জন্য করলেও কলাকুশলীরা এখান থেকে সুবিধা নিতে পারবেন। প্রতিমাসে ডিপোজিট থেকে টাকা সহযোগিতায় ব্যয় হবে। প্রস্তাবনার পর ইতোমধ্যেই এটি পাশ হয়েছে। এর তদারকি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির।