চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Nagod

মডার্না বনাম ফাইজার: ভ্যাকসিনের লড়াইয়ে কার জয়?  

Fresh Add Mobile
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত পৃথিবী। এ মহামারীর ১১ মাস পূর্ণ হওয়ার পথে বিশ্ব। প্রথম ধাপের ভাইরাসের ভয়াবহতা শেষে ফিরে এসেছে দ্বিতীয় ধাপ। আগের চেয়েও দ্বিগুণ ভয়াবহতা নিয়ে আঘাত করে চলেছে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস।

বিজ্ঞাপন

একমাত্র ভ্যাকসিনই এ মহামারীকে ঠেকাতে পারে। তাই বিশ্বের বহু দেশে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। তবে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান মডার্না ও ফাইজার সবচেয়ে এগিয়ে। দুই প্রতিষ্ঠানই দাবি করেছে তাদের ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকরী। তারা এখন সেই ভ্যাকসিন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ঠিক কবে প্রস্তুত হবে এই ভ্যাকসিন?

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ওষুধ তৈরির কোম্পানি মডার্না ইনকর্পোরেশন দাবি করেছে, তাদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন মহামারী ঠেকাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকরী। চার সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩০ হাজার করোনা রোগীর দেহে ভ্যাকসিন পরীক্ষা চালানো হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ভ্যাকসিনটি ৯৪.৫ শতাংশ কার্যকরী।

মডার্না ছাড়াও অনুমোদনের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভ্যাকসিন। তাদের ভ্যাকসিনের ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Reneta April 2023

বিশ্বের ৬টি (যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ক) দেশে ৪৩ হাজার ৫০০ জনের দেহে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষায় কোনো রকম ঝুঁকি দেখা যায়নি। তারা আশা করছে যে, এ বছরের শেষের দিকে পাঁচ কোটি ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ ১৩০ কোটি ভ্যাকসিন তৈরির কথা বলছে।

দুটি ভ্যাকসিনেরই চরিত্রগত মিল আছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভ্যাকসিনগুলোতে অন্য ভ্যাকসিন থেকে একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার জন্য ভাইরাসের জেনেটিক কোড শরীরে ইনজেক্ট করা হয়। যা আগে কখনো কোনো ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত হয়নি।

ভ্যাকসিন উন্নয়নে মডার্না যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন ওয়ার্প স্পিড প্রোগ্রাম থেকে পেয়েছে ৯৫৫ মিলিয়ন ডলার। তবে ফাইজার বলছে যে, ভ্যাকসিন তৈরির জন্য তারা কোনো ধরনের ফেডারেল অর্থ সহায়তা পায়নি। যদিও  ফাইজারের পার্টনার জার্মান সরকার থেকে ৩৫৫ মিলিয়ন ইউরো তথা ৪৪৪ ডলার পেয়েছে। তবে ভ্যাকসিন সরবরা ফাইজার আমেরিকার সাথে ২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়ার পর আরও কিছু প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে হবে। সেটা হলো এর সংরক্ষণ ও বিতরণ। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ পদ্ধতিতে ভ্যাকসিনের ডোজ সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সূক্ষ্ম পরিকল্পনা যেমন দরকার, তেমনি দরকার প্রকৃত ও কার্যকর পদক্ষেপের ধারাবাহিক সমন্বয়। পুরো ব্যবস্থাটির মেয়াদে তাপমাত্রায় বিন্দুমাত্র তারতম্য ঘটলেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে ভ্যাকসিন। আর তাই সংরক্ষণে অতি গুরুত্ব দিতে হবে।

এক্ষেত্রে ফাইজারের ভ্যাকসিন ব্যবহারের কয়েক দিন আগে থেকে অতি ঠাণ্ডা আবহে রাখতে হবে। সেটা রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রায় রাখা যেতে পারে অন্তত পাঁচদিন। তবে মডার্নার ভ্যাকসিন ৩০ দিনের জন্য রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ রাখার মতো হবে।

এটা অনুমেয় যে, ভ্যাকসিনের উৎপাদনের চেয়ে চাহিদার মাত্রা অনেক ঊর্ধ্বগামী হবে। মডার্না ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ মিলিয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৮০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করার চুক্তি করেছে। ফাইজার ও বায়োনএটেকের সঙ্গেই কয়েক মিলিয়ন ডোজের জন্য চুক্তি বিদ্যমান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যদিওবা সবার জন্য সমবণ্টনের ওপর জোর দিয়েছে। ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যস্ত থাকা দেশগুলোও প্রত্যাশা করছে সবার জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে তা যে, গুরুত্ব বিবেচনায় সরবরাহ করা হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মডার্না ও ফাইজারের ভ্যাকসিনের গবেষণা প্রায় শেষের পথে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলগুলো এখনো আসেনি। যদিও উভয় প্রতিষ্ঠান আশা করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনে কাছ থেকে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন গ্রহণ করবে।

মডার্না বলছে যে, তারা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছাড়পত্র চাইতে পারে। আর ফাইজার নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দুই মাসের সুরক্ষা ফলোআপ তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশায় আশে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ফাইজার এই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে ভ্যাকসিন অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
Bellow Post-Green View