চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভয়ঙ্কর ‘কালো ছত্রাক’: আমাদের সাবধান হতে হবে

করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (মিউকরমাইকোসিস) বা ‘কালো ছত্রাক’। সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এ রোগে দেশটিতে এরই মধ্যে বেশ কিছু মানুষ জীবন হারিয়েছে। চোখসহ শরীর বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে আরও কিছু মানুষ।

এটা শুধু ভারতেই নয়- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল ও মেক্সিকোসহ পৃথিবীর আরও কিছু দেশে এই কালো ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মূলত করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কালো ছত্রাকের সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এর ভয়াবহ সংক্রমণ মানুষের সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে আক্রমণ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হয়।

ভারতসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, সম্প্রতি কালো ছত্রাকের সংক্রমণের হার অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকে ডায়াবেটিসের মতো রোগ আছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস আছে বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম; তাদের মধ্যে প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। যেমন, সাইনাসের ব্যথা, একটা নাক বন্ধ, একদিকে মাথাব্যথা, শরীরের কোনো অংশ ফুলে উঠা বা অবশ হয়ে যাওয়া, দাঁতে ব্যথা বা দাঁত নড়ে যাওয়া।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, নাকের উপরে কালো দাগ বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা এবং দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকলে তারা কালো ছত্রাকে সংক্রমিত হতে পারেন। বিশেষ করে সেই ব্যক্তি যদি কয়েকদিন আগে করোনায় সংক্রমিত হয়ে থাকেন।

সহজ করে বললে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই এই কালো ছত্রাকের মূল শিকার। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেছেন; করোনার চিকিৎসা করার সময় যাদের শরীরে স্টেরয়েড, যেমন: ডেক্সামিথাসন ব্যবহার করা হয়েছে; তাদের ডায়াবেটিস আরো বেড়ে গিয়ে এক পর্যায়ে কালো ছত্রাকে সংক্রমিত হয়েছে।

তার মানে, এতদিন যারা করোনা সারাতে ডেক্সামিথাসনের মতো ওষুধ ব্যবহার করেছেন; সেটাই কারো কারো ক্ষেত্রে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাই এই কালো ছত্রাক থেকে আপাতত মুক্তির কৌশল হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, একজন করোনা রোগীর চিকিৎসায় সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময় ধরে স্টেরয়েড ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলেই এ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

আমরা মনে করি, ভারতের নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সবার আগে আমাদের সাবধান হতে হবে। কারণ এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের ভারতীয় প্রজাতির দেখা বাংলাদেশেও মিলেছে। তাই আর অবহেলা না করে এখনই সতর্ক হই আমরা।

বিজ্ঞাপন