চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্রমণেও যুক্ত থাকুন ইন্টারনেটের সঙ্গে

অফিসের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন সবকিছুর জন্যই এখন আমরা ইন্টারনেটের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু সমস্যাটা তখনই হয় যখন আমরা দূরে কোথাও বেড়াতে যাই। হুট করে কোনো জরুরি কাজে সেখানে যে আপনার প্রতিদিনের ইন্টারনেট প্রোভাইডার আপনার সঙ্গ দিতে পারবে এমন তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তাই জেনে নিন ভ্রমণের মাঝেও ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কিছু উপায়।

বিজ্ঞাপন

১. লোকাল সিম কার্ড

মোবাইল অপারেটরগুলোর রোমিং কলচার্জই এতো বেশি থাকে যে বিদেশে তিনদিনের জন্য গেলেও আমাদের প্রথম কাজই থাকে সেই দেশের একটা সিম কার্ড জোগাড় করা। কলচার্জ যেখানে বেশি, ইন্টারনেটের ডাটা চার্জের বেলায় তো কোনো কথায়ই নেই। তাছাড়া নেটওয়ার্ক সার্ভিসও কতোটা ভালো পাওয়া যাবে রোমিংয়ে সেটাও চিন্তার বিষয়।

তাই অতশত ঝামেলা না করে বিদেশে গিয়েই কিনে ফেলুন সেখানকার স্থানীয় অপারেটরের একটা সিম কার্ড আর নিজের পছন্দের একটা ডাটা প্ল্যান নিয়ে নিন। ব্যাস! কথাও বলতে পারবেন, ইন্টারনেট ব্রাউজও করতে পারবেন। তবে সেজন্য যে অপারেটরের সিম কিনবেন তাদের কাছ থেকে আগে জেনে নেবেন আপনার ফোনটি সে দেশের সিম ব্যবহারের জন্য আনলক করা কিনা। না করা থাকলে তাদের কাছ থেকেই আনলক করিয়ে নিন।

২. হোটেল ওয়াইফাই

দেশ-বিদেশ যেখানেই হোক, ভ্রমণে হোটেল বুকিংয়ের সময়ই জেনে নিন সেখানে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগের সুবিধা আছে কিনা। তাহলেই আর এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

শুধু হোটেলের ওয়েবসাইট দেখলেই চলবে না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য লজ্জা না করে হোটেলের রিসেপশনে ফোন করুন। বলুন আপনার জরুরি অফিশিয়াল কাজ আছে যার জন্য ইন্টারনেট লাগবে; তাই আপনার জানা প্রয়োজন তাদের হোটেলে ভালো ওয়াইফাই সংযোগ আছে কিনা।

বিজ্ঞাপন

৩. স্কাইরোম হটস্পট

স্কাইরোম একটি গ্লোবাল হটস্পট সার্ভার। একসঙ্গে যতগুলো দেশেই বেড়ানোর পরিকল্পনা করুন না কেনো, ১২৫ ডলারের ছোট এই ওয়াইফাই রাউটার দিয়েই ইন্টারনেট পাবেন সবখানে। এজন্য প্রতিদিনের ডাটা চার্জ গুনতে হবে ১০ ডলার করে। আনলিমিটেড ডাটা সুবিধাসহ প্রতিদিন প্রথম সাড়ে ৩শ’ মেগাবাইট ডাটায় পাবেন থ্রিজি থেকে ফোরজি স্পিড। এরপর অবশ্য তা কমে টুজিতে নেমে আসবে।

স্কাইরোম ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ এলাকায় কাজ করলেও আফ্রিকায় শুধু মিশর, ঘানা, মরিশাস ও সাউথ আফ্রিকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে শুধু ইসরায়েল, কাতার, তুরস্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতে এর সংযোগ পাওয়া যাবে।

৪. ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট ওয়াইফাই

যদি পোর্টেবল হটস্পট কেনার সময় বা অর্থ কোনোটাই আপনার না থাকে তাও কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে ছোটবড় বহু রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও ফাস্টফুডের দোকানে রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের সুবিধা। এছাড়া স্থানীয় জাদুঘর, লাইব্রেরি, পর্যটন অফিসেও পেতে পারেন ফ্রি ওয়াইফাই যা দিয়ে আপনার কাজ বেশ ভালোভাবেই চলে যাবে।

৫. আকাশে ওয়াইফাই

উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় জরুরি কাজটি সেরে নিতে পারেন ওয়াইফাই দিয়ে। কিছু কিছু এয়ারলাইন কোম্পানি যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা দিয়ে থাকে। তবে এছাড়াও কিছু বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান শুধু বিমানযাত্রায় ব্যবহারের জন্য ওয়াইফাই সংযোগ দেয়।

২৪ ঘণ্টার জন্য এ ধরণের ইন্টারনেট সেবা পেতে দিতে হবে ১৬ ডলার বা এর কিছু বেশি। তবে পাবলিক ওয়াইফাই হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করা বা অনলাইনে কেনাকাটার মতো কাজ এসব সংযোগ ব্যবহার করে না করাই ভালো।

Bellow Post-Green View