চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের বেশির ভাগই উচ্চবিত্ত

টাঙ্গাইলে মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য

দেশব্যাপী বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের ১৭তম দিন (বুধবার) পর্যন্ত টাঙ্গাইলে যে ৪৬ হাজার ৭৫৩ জন ভ্যাকসিন পেয়েছেন তাদের প্রায় সবাই সমাজের উচ্চবিত্তের মানুষ। বলতে গেলে এই সময় পর্যন্ত নিম্নবিত্তদের কাছে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পৌঁছেনি।

মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। নিম্নবিত্তরা বলছেন, নিবন্ধনে জটিলতা আর শহরকেন্দ্রিক ভ্যাকসিন কেন্দ্রের কারণে ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ পাচ্ছেন না তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গেল সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে বেলা ১টা নাগাদ টাঙ্গাইল সদর ও ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে এই প্রতিবেদকের কথা হয় ১২০ জন ভ্যাকসিন গ্রহীতার।

প্রশ্ন ছিল, তাদের পেশা বা সামাজিক অবস্থান নিয়ে। উত্তরে উঠে এসেছে তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ পেশাজীবী, ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ী, ৪ শতাংশ গৃহিণী এবং ১ শতাংশ কৃষক। তার মানে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষ।

পাশাপাশি জরিপ চালানো হয় সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষ, কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ নিম্নবিত্ত শ্রেণীর ১২০ জন মানুষের মধ্যে। যারা এখনো ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি।

বিজ্ঞাপন

তাদের অধিকাংশই মতামত দিয়েছেন ভ্যাকসিন কার্যক্রম বিষয়ে তারা অবগত নয়। আর যারা অবগত আছেন তারা বলছেন শহর কেন্দ্রিক ভ্যাকসিন কেন্দ্র, নিবন্ধন জটিলতা, স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকাসহ প্রচার প্রচারণার অভাবে অনাগ্রহী তারা। তবে গ্রাম পর্যায়ে সহজে ভ্যাকসিন পাওয়ার ব্যবস্থা করলে ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী তারা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘টাঙ্গাইলে বাড়ি বাড়ি ভ্যাকসিন কার্যক্রম পৌঁছে দিতে না পারলে বড় অংশই এর বাহিরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে করোনা মহামারীর শুরুর দিকে যেভাবে বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছিলো তেমনি ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমে যদি প্রান্তিক মানুষের রেজিস্ট্রেশন কাজে সহযোগিতা করেন তাহলে ভ্যাকসিন গ্রহণে অনেকেই আগ্রহী হবেন।’

ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা চিকিৎসক মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রান্তিক মানুষদের অংশগ্রহণ কম। এজন্য আমরা স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা: এ. এফ. এম সাহাবুদ্দিন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ কম। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।’

এ নিয়ে সহযোগিতার জন্য জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তবে করোনার টিকাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ নেই কারো। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সাথে থাকলেই কেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে ‘সুরক্ষা ডটগভডটবিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করার ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।