চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভিয়েতনাম মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন

ভিয়েতনামে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন  করা হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ সকালে জাতীয় সঙ্গীতসহ জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন।

Reneta June

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও ম্যাসেজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। দোয়া ও মোনাজাতসহ, দূতাবাসে “বঙ্গবন্ধু কর্ণার” উদ্বোধন, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিবসের তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বের কথা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ তার বক্তব্যে সশদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দূতাবাসে মুজিব শতবার্ষিকীর অবদান হিসেবে “বঙ্গবন্ধু কর্ণার” স্থাপনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নানামুখী কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন যে, বঙ্গবন্ধুু আমাদের বিশাল অনুপ্রেরণা। তার অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি। তার অনুপ্রেরণাতেই আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা মুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার।প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি।

রাষ্ট্রদূত কৃতজ্ঞচিত্তে আরো স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, মুক্তিযুদ্ধে অত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, যারা দেশ মাতৃকার জন্য জীবন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের কথা। আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদেশী বন্ধুসহ যারা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গত এগারো বছরের অভূতপূর্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় সংকল্পে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

আগত বিশেষ অতিথি ডিপ্লোমেটিক কোরের ডীন ও প্যালেষ্টাইনের রাষ্ট্রদূত সাদি সালামা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু কর্ণার”-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যে অবিচ্ছেদ্য অংশ তা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সার্বিক চিত্রে ফুটে উঠেছে যা আজকের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে।

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়ক একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কন্ঠে চিত্রায়িত ভিডিও সঙ্গীত ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিব’ প্রদর্শন করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং বিজয় দিবসের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ, বিশেষ অতিথি ডিপ্লোমেটিক কোরের ডীন ও প্যালেষ্টাইনের রাষ্ট্রদূত ও ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে নিয়ে দূতাবাসে “বঙ্গবন্ধু কর্ণার”-এর শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিপ্লোমেটিক কোরের ডীন ও প্যালেষ্টাইনের রাষ্ট্রদূত সাদি সালামা ও ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্তণালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল ভু ভান মিন এবং, প্রবাসী বাংলাদেশীগন, ভারত, শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূতসহ ভিয়েতনামের ডিপ্লোমেটিক কোরের সদস্যবৃন্দ, ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা, ভিয়েতনাম টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি ও অন্যান্য মিডিয়া, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ভিয়েতনাম সরকার কোভিড মহামারীর সতর্কতার জন্য সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে দিবসটি দূতাবাসে সীমিত আকারে আমন্ত্রিত অতিথি, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারবর্গ-এর মাধ্যমে সীমিত আকারে উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে বাংলাদেশী রসনা স্বাদে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়িত করা হয় ।