চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভালো অভ্যাস চর্চায় বিশ্বের সেরা ১০০টি স্কুলের ৩টি ব্র্যাকের

চলমান বিশ্ব শিক্ষা সপ্তাহে সকলের জন্য উচ্চতর এবং উন্নতমানের শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি সেরা অভ্যাস চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বব্যাপী ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাকের তিনটি স্কুল স্থান পেয়েছে। শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করা আন্তর্জাতিক ফোরাম ‘টি-ফোর’ আয়োজিত এক ইভেন্টে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ৫-৯ অক্টোবর ডিজিটাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্জন উদযাপন করা হবে। নির্বাচিত স্কুলগুলি এই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে এবং তা বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হবে।

বিজ্ঞাপন

৫ অক্টোবর উদযাপনের উদ্বোধনী দিনেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওর এলাকা ভাটি জামালগড়ে ব্র্যাকের শিক্ষাতরীতে (বোট স্কুল) এই উপলক্ষে ১ ঘণ্টার অধিবেশন হয়।  অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তনের নিরিখে স্কুলগুলিকে আরও প্রাণোচ্ছল করে তোলা’।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাচ্চাদের শিক্ষিত করার জন্য একটি অনন্য উদ্ভাবন এই নৌকা স্কুল। যারা স্কুলে যেতে পারে না বা গেলেও ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) ঝুঁকি থাকে, তাদের পড়াশোনায় নিয়ে আসার ধারণাটি এখানে দৃশ্যমান হয়।  বর্তমানে সারাদেশের ১৬টি জেলার নিচু এলাকায় মোট ৬০০টি নৌকা স্কুল চালু রয়েছে।  এই স্কুলগুলোর শিক্ষকও স্থানীয় তরুণী যারা প্রতিটি শ্রেণিতে ৩০ জন ছাত্রকে পড়ান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার এই ডিজিটাল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।  প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ ও চলাচলের পরিবেশ বজায় রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।  তিনি বলেন, কোভিড -১৯ এর কারণে বিধিনিষেধের প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার উপর প্রভাব ফেলেছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের অন্যের সাথে মিথস্ক্রিয়া করা, মাঠে খেলাধুলা করা, নির্দ্বিধায় চলাফেরা এবং শিক্ষকদের সংস্পর্শে আসাসহ সামগ্রিক স্কুলের পরিবেশ উপভোগ করা সীমিত হয়ে পড়েছে।  এরকম পরিস্থিতি তাদেরকে কুসংস্কারের দিকে ধাবিত করতে পারে।

এই নৌকা স্কুলগুলির মাধ্যমে কীভাবে জলবায়ু সহনশীলতার ধারণাটি প্রকাশ পায়, তা ব্যাখ্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ-এর পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।  তিনি বলেন, ব্র্যাক ‘নো-প্লাস্টিক পলিসি’ অনুসরণ করছে এবং নৌকা স্কুলে যে জলবায়ুবান্ধব অভ্যাসগুলোর চর্চা করা হয়, তার মধ্যে এটি অন্যতম।  এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসব দ্রব্যের পুনর্ব্যবহার, ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সচেতন।  শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য স্কুলগুলি আঞ্চলিক পাঠক্রমে পরিবেশগত শিক্ষার উপাদানগুলিও অন্তর্ভুক্ত করে।  এর ফলে শিক্ষার্থীরা টেকসই ভবিষ্যতের দিকে রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত হয়।

এই শিক্ষা ব্যবস্থাটি সাধারণত সর্বাত্মক কল্যাণকেই আহ্বান করে-এই মন্তব্য করেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ডঃ সফিকুল ইসলাম।  তিনি আরও বলেন, নৌকা স্কুলগুলি শিক্ষার্থীদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সমাজ-সংবেদনশীল এবং পরিবেশগত উন্নতির বিভিন্ন মাত্রা নিশ্চিত করে।

বক্তারা মন্তব্য করেন নৌকা স্কুলের ধারণা জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত বিশ্বে শিক্ষার প্রসারে সহায়তা করতে পারে।  দক্ষতা বা মানের বিষয়ে কোনও আপোষ না করে নৌকা স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা চার বছরেই সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেন তারা।

বিশ্ব শিক্ষা সপ্তাহের জন্য নির্বাচিত অন্য দুটি স্কুল হচ্ছে- নেত্রকোনার কান্দাপাড়া পশ্চিম ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জের সাউদেরশ্রী ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়।