চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারত-পাকিস্তান থেকে আরও এগিয়ে বাংলাদেশ

একদিন আগে প্রকাশিত জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২১’ শিরোনামে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে বিশ্বের যে তিনটি দেশ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাকি দুটি দেশের একটি আফগানিস্তান, আরেকটি আইভরি কোস্ট।

আমরা জানি, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) শেষ হওয়ার পর ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ১৫ বছর মেয়াদি এসডিজি গ্রহণ করে। যার মূল উদ্দেশ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। দারিদ্র্যতা কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত ও লিঙ্গবৈষম্য প্রতিরোধসহ এর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১৭টি। যার মধ্যে আছে আবার ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এসডিএসএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর আগে এসডিজি গৃহীত হওয়ার পর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এই প্রথম প্রতিটি দেশের সূচকের স্কোর আগের বছরগুলোর চেয়ে কমে গেছে। তারপরও বাংলাদেশ এবারের সূচকে ৬৩.৫% স্কোর করেছে। গত বছর যা ছিল ৬৩.২৬%। আর যখন এসডিজি গৃহীত হয়, তখন স্কোর ছিল ৫৯.০১% ।

বিজ্ঞাপন

বিগত পাঁচ বছরের সার্বিক অর্জন মূল্যায়ন করে ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ, আইভরি কোস্ট (১৩১) ও আফগানিস্তান (১৩৭তম)। বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১০৯তম। এমন কি ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। যদিও দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগে থেকেই সবার আগে ভুটান (৭০তম)। তারপর আছে যথাক্রমে মালদ্বীপ (৭৯তম), শ্রীলঙ্কা (৮৭তম) এবং নেপাল (৯৬তম)।

এই প্রতিবেদনে ৬০.৭% স্কোর নিয়ে ভারত ১২০তম এবং ৫৭.৫২% স্কোর নিয়ে পাকিস্তান ১২৯তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে ভারত ও বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। মোট কথা এসডিজির উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ যেমন দারিদ্র্যতা কমাতে পেরেছে, তেমনি খাদ্যনিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই দুটি দেশ থেকে এগিয়ে গেছে। এমনকি অন্যান্য সূচকেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি, উন্নয়নের মহাসড়কে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ। এসডিএসএন-এর প্রতিবেদনও সেই কথাই বলছে। এভাবে চললে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে থাকা ভুটানকেও পেছনে ফেল বাংলাদেশ।

তবে কাজটা খুব একটা সহজ নয়। কেননা এ জন্য সামাজিক উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসনও জরুরি। বিশেষ করে দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকরাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।