চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতে একদিনে সাড়ে ৩ লাখ শনাক্ত, হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব

একদিনে মৃত্যু ২ হাজার ৭৬১

ভারতে টানা চার দিনের মতো কোভিড শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ায় অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগীরা মারা যাচ্ছে বলে বিশেষ বার্তা দিচ্ছে হাসপাতালগুলো।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আরও ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৩ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যার ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এমন বার্তা অনেকের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে।

গত চার দিনেই প্রায় ১৪ লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে সেখানে।

ভারতের স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে সেখানে। তাতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ।

এক দিনে রেকর্ড ২ হাজার ৭৬১ জনের মৃত্যুতে ভারতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাস কী ঘটাতে পারে, ভারত ভয়ঙ্ককরভাবে তার জানান দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দিল্লির জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে এক রাতেই ২৫ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে অক্সিজেনের অভাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শুক্রবার সরকারি বরাদ্দের অক্সিজেন পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হওয়ায় এ মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তর ভারতে কয়েক ডজন হাসপাতাল পরিচালনা করা ম্যাক্স হেলথকেয়ার টুইট করে জানায়, তাদের কাছে অক্সিজেনের যে মজুদ আছে, তা দিয়ে দুই ঘণ্টাও চলবে না।

ভারতের আরেক বড় হাসপাতাল চেইন ফর্টিস হেলথকেয়ার বলেছে, দিল্লিতে তারা আর নতুন রোগী ভর্তি করতে পারছে না। সকাল থেকে তারা অক্সিজেন সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে তুলেছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। সেখানে প্রতি চার মিনিটে একজন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রেন এবং সামরিক বিমানে করে দেশের বিভিন্ন অংশ, এমনকি সিঙ্গাপুর থেকেও দিল্লিতে অক্সিজেন পরিবহনের ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার।

মৃত্যুর এই মিছিল সামলাতে পারছে না দিল্লির শ্মশানগুলো। স্বজনের মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসা পরিবারগুলোকে তারা অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানাচ্ছে।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান প্রথমে। ভারতের পরে রয়েছে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র।