চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের সঙ্কট প্রসঙ্গে

নেতৃত্বের প্রশ্নে গোটা ভারত জুড়েই একটা সঙ্কটের আবর্ত ইন্দিরা গান্ধীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র হয়ে উঠতে থাকে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পরে কে ধরবেন বাংলার রাজনীতির হাল, সেই প্রশ্নটাও ধীরে ধীরে উঠে আসতে থাকে। ইন্দিরার শূন্যস্থান রাজীব পূরণ করেন সাময়িকভাবে। পরিবারতান্ত্রিক ঝোঁক থেকে বৈচিত্রময় ভারতের বেশিরভাগ অংশ থেকেই যে একটা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, সেটা বিশ শতকের শেষপ্রান্তে বেশ ভালোভাবেই মালুম হতে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিরোধীকণ্ঠ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উঠে এলেও জ্যোতি বসু সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন; ‘কমিউনিস্টরা দেহত্যাগ না করলে, পদত্যাগ করেন না’ – মমতার রাজনৈতিক রুচির যে পরিচয় রাখে তা মেট্রোপলিটন বাঙালিমন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেয় না। ফলে জ্যোতিবাবুর অবসর গ্রহণের পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দুটি পর্যায়ে কেবল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকেন, তাই-ই নয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভারতের জাতীয় আন্দোলন উত্তর পর্বের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ক্রমশ একটি আন্তর্জাতিক মাত্রা পেতে থাকেন। জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত প্রজন্মের স্বাভাবিক অবসানের পর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরের প্রজন্মের মানুষদের নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে বুদ্ধদেববাবু যে নজির স্থাপন করেন, তা রাজনীতির প্রাঙ্গনকে অতিক্রম করে সামাজিক অঙ্গনকেও বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।

বিজ্ঞাপন

জ্যোতিবাবুর মুখ্যমন্ত্রীত্বকালেই উঠে এসেছিল এই প্রশ্ন; জ্যোতিবাবুর পরে কে? দীনেশ মজুমদার এবং শঙ্কর গুপ্ত ছিলেন জ্যোতিবাবুর পরের প্রজন্মে নেতৃত্বদানকারী হিসেবে ন্যাচারাল চয়েজ। এই দুজন নেতার অকালমৃত্যু তুলে এনেছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম। তেমনটা কিন্তু বুদ্ধদেববাবুর উত্তরাধিকারী হিসেবে যে নামটি উঠে আসতে শুরু করেছিল, সেই নামটি কোনো নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিজনিত কারণে উঠে আসছিল না।

বিজ্ঞাপন

বুদ্ধদেববাবু ২০০১ সালে মন্ত্রিসভা গঠনের পর তাঁর দলের তরুণ তুর্কি মহাম্মদ সেলিমকে তাঁর মন্ত্রিসভায় আনেন। তুখর যুবনেতা সেলিম তার আগে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান প্যানেলে সবথেকে কনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে রাজ্যসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে দক্ষতার পরিচয় সেলিম রেখেছিলেন, তাতেই পরিস্কার হয়ে উঠেছিল, প্রশাসক হিশেবে তাঁর ভূমিকাটি। সেই ভূমিকার একটা সার্থক রূপায়ন আমরা দেখতে পেলাম অনলবর্যী সেলিমের রাজ্য মন্ত্রিসভায় সদস্য হিসেবে। তাঁর প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপে যে দূরদর্শিতা এবং দক্ষতার পরিচয় মানুষ পাচ্ছিল, তাতে এটাই উঠে আসতে শুরু করেছিল যে, বুদ্ধদেবের পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবে যোগ্যতম ব্যক্তি হলেন সেলিম।

তাঁর দূরদর্শিতা প্রসঙ্গে একটা উদাহরণই যথেষ্ট; স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বৈজ্ঞানিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ মডেল তিনি রেখেছিলেন, সেটি যদি অনুসৃত হতো , তাহলে আজ পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজার হাজার ছেলেমেয়ে দীর্ঘদিন যাবত প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও , চাকরি না পেয়ে এমন চরম অনিশ্চয়তার ভিতরে দিন কাটাতেন না।

মন্ত্রী হিসেবে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে যে পথ তিনি তৈরি করেছিলেন , তাকে অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রী পর্যন্ত রাজ্যসভাতে ভারতের সেরা মডেল বলে অভিহিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেলিমের অনবদ্য নেতৃত্বে গোটা ভারতে এটা প্রমাণিত হয়েছিল, সরকারী ঋণখেলাপি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে তখন একজন মুসলমান ও চিহ্নিত হন নি।প্রযুক্তিগত শিক্ষায় গরিব মানুষ নিজেদের প্রশিক্ষিত করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক, এই লক্ষ্যে শহরের বস্তি অঞ্চলগুলিতে তিনি যে কারিগরিবিদ্যার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকতো, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে গরিব মুসলমানেদের আর্থিক মানোন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক পর্যায় রচিত হতে পারত। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেলিম প্রার্থী হন। জেতেন। ফিরে যান জাতীয় রাজনীতিতে।

সেলিমের মতো ব্যক্তিত্ব তাঁর অনলবর্ষী অভিধারাতে ভারতের সংসদে জ্যোতির্ময় বসুর যোগ্য এবং সার্থক উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম ইত্যাদি ইস্যুকে হাতিয়ার করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে সঙ্কট তৈরি হয়, সেই পর্যায়ে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর অভাব খুব বেশি করে প্রকট হয়ে উঠতে থাকে।
জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মহাম্মদ সেলিমের আপামর মানুষের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা সেই সময়ে তৈরি হয়েছিল, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেই পর্যায়ক্রমকে যদি বামপন্থী শিবির ব্যবহার করতেন, তাহলে কেবল বামপন্থী রাজনীতির আজকের সঙ্কট নয়, সাধারণ মানুষের জীবন – জীবিকার ক্ষেত্রে যে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে, নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় , এই দুরবস্থার ভিতরে আমাদের পড়তে হতো না। সঙ্কট কোন ছিদ্রপথে প্রবেশ করতে পারে, মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগে সেটা বোঝার মতো সেলিমের যে ক্ষমতা এবং দক্ষতা, তাকে একমাত্র তুলনা করা যায় জ্যোতিবাবুর দক্ষতার সঙ্গে।এই তুলনার সাথেই বলতে হয়, জ্যোতিবাবুর মতো রাশভারি ব্যক্তিত্বের মানুষ নন সেলিম। আবার এতোটুকু তরল ব্যক্তিত্ব নিয়েও তিনি চলেন না। একটা নিজস্ব ঘরানা তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বে ফুটিয়ে তোলেন, তাই খুব সহজেই তিনি সব প্রজন্মের মানুষ দের, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষদের হৃদয়স্পর্শ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

এইরকম একটি মানুষ যদি ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতে বামেদের অভূতপূর্ব জয়ের অব্যবহিত পরেই সিঙ্গুর – নন্দীগ্রাম ঘিরে যে সঙ্কট তৈরি হল, সেই সময়ে প্রত্যক্ষভাবে আরো বেশি বাংলার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতেন, তাহলে বামেদের এই বিপর্যয়, মমতার মতো প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার ধারক-বাহক, যাঁর একমাত্র লক্ষ্য আরএসএস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপিকে সব দক থেকে প্রতিষ্ঠিত করা– এইসব কোনো কিছুই ঘটতো না।

সর্বোপরি মানুষের এই ভয়ঙ্কর দুরবস্থা, সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার উপক্রম, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বদলের অপচেষ্টা– এইসবের বিরুদ্ধেই গণসংগ্রামকে অনেক বেশি শক্তিশালী করা যেত যদি বামেদের এই নির্বাচনী বিপর্যয় না ঘটত। আর সেলিম যদি ২০০৬ এর পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে অনেক বেশি সক্রিয় থাকতে পারতেন, তাহলে বামেদের এই বিপর্যয়কে ও সহজেই রুখে দেওয়া সম্ভব হতো। যেভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ম্যালাইন করতে নন্দীগ্রামে গুলি চলেছিল, সেইসব ঘরের শত্রু বিভীষণদের অনেক আগেই সমূলে উৎপাটিত করে ফেলতে পারতেন অনলবর্ষী সেলিম।
পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের জোট নিরপেক্ষ অবস্থানকে ধ্বংস করে, এ দেশে একটি মার্কিনমুখী সরকারকে ক্ষমতায় আনা। গোটা দক্ষিণ এশিয়াকে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত করতে ভারতে একটি হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী দলকে ক্ষমতায় আনা ছিল মার্কিন কর্তাদের কাছে একটি অবশ্য পালনীয় কাজ।

এভাবেই তারা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সরকারকেও বেকায়দায় ফেলবার বিষয়টিকেও কৌশল হিসেবে নিয়েছিল। সেই কৌশলেরই অঙ্গ ছিল পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের পর্যুদস্ত করা।অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি সেদিন এটা বুঝতে পারে নি যে, সেদিন প্রথম টার্গেট হয়েছিলেন বামপন্থীরা। পরের টার্গেট যে তাঁরা সেটা অবিজেপি দলগুলি বোঝে নি। বিজেপির বন্ধু মমতা সেটা জানতেন। আর সেটা জানতেন বলেই বাংলাদেশে মৌলবাদীরা খুশি হয়ে, ভারতের মৌলবাদীদের বিস্তারের সুযোগ যাতে তারা করে দেয়, সেজন্যে মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বাংলাদেশকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে আপত্তি করেছিলেন।

বামপন্থীদের ভিতরে এমন কিছু লোকেদের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাদের একমাত্র কাজ ছিল বামপন্থীদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সবরকম ভাবে বিভ্রান্ত করা।সেই কাজেরই অঙ্গ হিসেবে নন্দীগ্রাম যে জেলাতে অবস্থিত, সেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বামফ্রন্ট সরকার, বিশেষ করে সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সব রকমভাবে হেনস্থা করতে একটা ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, পি ডি এস, অতি বাম, এনজিওগুলিসহ বামপন্থীদের ভিতরে থাকা একটি অংশ, যারা সংসদীয় রাজনীতিতেও ক্ষমতাশীল ছিল- তারা বিশেষ রকমের ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছিল।

এই সার্বিক পরিস্থিতি সেদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পক্ষে মোকাবিলা করা অনেকখানি সহজ হতো যদি তাঁর প্রশাসনের ভিতরে মহাম্মদ সেলিমের মতো ব্যক্তিত্ব সার্বিক সক্রিয় থাকতেন। বুদ্ধবাবুর পরে, আজকের মতো, সেদিনও মানুষের কাছে সেলিম ছিলেন একমাত্র বামপন্থী নেতৃত্ব, যাঁকে ঘিরে এতোটুকু বিতর্ক নেই।

ক্ষমতায় থেকে অর্থ নিয়ে একটি বিতর্কও সেলিমকে কখনো স্পর্শ করতে পারে নি। ধর্মনিরপেক্ষতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে যাঁকে যথার্থভাবে মুজফফর আহমদ এবং জ্যোতি বসুর সার্থক উত্তরসূরি বলা যায়। যুব আন্দোলনের আইকন হিসেবে দীনেশ মজুমদারের সার্থক প্রজন্ম হিসেবে যাঁকে চিহ্নিত করা যায়। এই মানুষটি যদি সেদিন সর্বাংশে বুদ্ধদেব বাবুর পাশে সক্রিয় থাকতে পারতেন, তাহলে কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা ভারতে আজ যেভাবে বামপন্থীদের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে হিন্দু সাম্প্রদায়িকেরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তা আদৌ সম্ভব হতো না।

শুভেচ্ছাআজ যেভাবে বাংলাদেশে জামায়াত- বিএনপিকে শক্তিশালী করা আর শেখ হাসিনার শক্তিক্ষয়ের তাগিদে মোদি- মমতার যৌথ উদ্যোগে তিস্তার পানির ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তা সম্ভবপর হতো না। যেভাবে ২০১১ তে ফেলানি খাতুন নামক এক কিশোরীকে বিএসএফ নির্মমভাবে হত্যা করে সারারাত তাঁর নিষ্প্রাণ দেহটাকে কাঁটাতারে ফেলে রাখার মত নির্মমতার পর, আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে রবার বুলেট ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রতিনিয়ত তা লঙ্ঘন করে চলেছে, এই অমানবিকতা সম্ভবপর হতো না, যদি বামপন্থীরা আজ অতীতের মতো ভারতে গণসংগ্রাম এবং সংসদীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী থাকত। আর বামপন্থীদের সেই সক্রিয়তা বজায় রাখতে তাঁদের সবথেকে বড় হাতিয়ার সেলিমকে যদি আজও সার্বিকভাবে নেতৃত্বের শীর্ষে তুলে ধরা হয়, তাতে কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, কেবল ভারত নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে নতুন করে উজ্জীবিত হবে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)