চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভাই-ভাতিজাদের শায়েস্তা করতে নিজ মেয়েকে অপহরণ!

বগুড়া প্রতিনিধি: পারিবারিক শত্রুতার কারণে ভাই-ভাতিজাদের শায়েস্তা করতে নিজ মেয়েকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিল বাবা-মা। ওই ঘটনায় শিশুকে উদ্ধারের পর অভিযুক্ত বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।

বগুড়া শহরের ফুলদীঘি এলাকায় এই অপহরণ নাটক সাজানোর ঘটনা ঘটে বলে রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান প্রেস ফিংয়ে জানান।

তিনি বলেন: ফুলদীঘি এলাকার বুলু শেখের মেয়ে নিলুফা শারমিন রিতা (৩৫) শনিবার দুপুরে শাজাহানপুর থানা পুলিশের নিকট অভিযোগ করে তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে মেঘলা মানতাসা ওরফে নক্সিকে কে বা কারা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অপহরণ করেছে।

রিতা তার অভিযোগে জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় বেলা ১১ টার দিকে সে মেঘলাকে আনতে তার স্কুল ফুলদীঘি মডেল কিন্ডারগার্টেন এ যায়। মেয়েকে স্কুলের মাঠে রেখে স্কুলের পরিচালকের কক্ষে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে বাইরে এসে মেয়েকে না পেয়ে আশেপাশে খোঁজাখুজি করে। এরপর সে শাজাহানপুর থানায় মৌখিক অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসাবে তার নিকটাত্মীয়দের নাম বলে।

পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে এবং মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযোগকারী রিতা তার দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে প্রায় ৭ বছর বাবার বাড়ীতে প্রথম পক্ষের ছেলে ফাহিম নূরে আলম নক্ষত্র এবং দ্বিতীয় পক্ষের ২টি মেয়েসহ বসবাস করে আসছে। নক্ষত্র সুলতানগঞ্জ হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তার স্বামী ঢাকার আদাবর এলাকায় থাকে।

বিজ্ঞাপন

বাবার বাড়ীতে অবস্থান করা নিয়ে তার ভাই-ভাতিজাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া-ঝাটি এবং মনোমালিন্যের সৃষ্টি হতো। তা সমাধানে এলাকার মুরুব্বিরা কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সম্পতি সে ভাতিজাদের মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেয় বলে এলাকাবাসীরা জানায়।

পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার বেলা ১১ টায় তার প্রথম পক্ষের ছেলে নক্ষত্রকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিক্সাযোগে মধ্য ফুলদীঘি এলাকায় অবস্থিত তার মেয়ে মেঘলার স্কুলে যায়। স্কুলে গিয়ে মেয়ে মেঘলাকে নক্ষত্রের হাতে তুলে দেয়। নক্ষত্র তার সৎবোনকে নিয়ে তার সৎ বাবা মোঃ মিঠু আহমেদের(৩৫) হাতে তুলে দেয়।

মিঠু পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বগুড়া শহরের এডওয়ার্ড পৌরপার্কের সামনে অবস্থান করছিল। সে ঢাকায় বসবাস করলেও অপহরণ নাটকের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আগেই বগুড়া এসে শ্বশুর বাড়ীতে না উঠে অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছিল। পরে মিঠু মেঘলাকে দুপচাঁচিয়া থানার চামরুল ইউনিয়নের বেড়া গ্রামে তার ভায়রা জাহিদুল ইসলামের বাড়ীতে নিয়ে যায়।

খবর পাওয়ার পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযোগকারী রিতা, তার ভাতিজা দুর্জয়, ছেলে নক্ষত্র, ২য় স্বামী মিঠু আহমেদকে আটক করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শাজাহানপুর থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নক্ষত্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এছাড়া শিশু মেঘলাকে তার খালা ছবি বেগম এবং খালু জাহিদুল ইসলাম রিতার বাবার বাসার সামনে রেখে গেলে শাজাহানপুর থানা পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পারিবারিক শত্রুতার কারণে ভাই-ভাতিজাদের শায়েস্তা করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে রিতা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ।

বিজ্ঞাপন