চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যালন ডি’অর বনাম ফিফা বেস্ট: দুই পুরষ্কারের পার্থক্য কী?

ফুটবল একটি দলীয় খেলা এবং ট্রফি জেতা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। কিন্তু তাতে স্বতন্ত্র উজ্জ্বলতাও এমন একটি বিষয় যা প্রায়শই প্রশংসিত হয়।

শীর্ষ গোলদাতাদের জন্য পুরষ্কার রয়েছে। তাছাড়া অন্যপ্রান্তে গোলরক্ষকরা গোলবার অক্ষত রাখার জন্য প্রশংসিত হন। তবে যে খেলোয়াড়রা তাদের দলে সর্বাধিক প্রভাব ফেলেন এবং পুরো খেলার উপর গভীর প্রভাব ফেলেন তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত প্রশংসা পান।

বিজ্ঞাপন

ফুটবল বিশ্বে দুটি প্রধান ব্যক্তিগত পুরষ্কার রয়েছে যেগুলো শীর্ষ স্তরের হিসাবে বিবেচিত হয়: ব্যালন ডি’অর এবং ফিফা দ্য বেস্ট।

দুই পুরষ্কারের মধ্যে পার্থক্য কী?
দুটি পুরষ্কারের মধ্যে অনেকগুলো পার্থক্য রয়েছে যা ব্যালন ডি’অর এবং দ্য বেস্টকে একে অপরকে পৃথক করে। ফ্রান্স ফুটবলের ম্যাগাজিনের বদৌলতে একটার নাম হয়েছে ‘ব্যালন ডি’অর। আর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিফা বেস্টের’ পেছনে চালিকা শক্তি।

দুই পুরষ্কারে সেরা খেলোয়াড়দের সময়কাল ভিন্ন সময় ধরে বিচার করা হয়। ব্যালন ডি’অর এক ক্যালেন্ডার বছরের সময়কালে কোনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সকে বিবেচনা করে। আর এক গ্রীষ্ম থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত ‘দ্য বেস্ট’ খেলোয়াড়দের একটি মৌসুম মূল্যায়ন করে।

বিজ্ঞাপন

পুরষ্কার দেয়ার সময়টাও ভিন্ন ভিন্ন। ঐতিহ্যগতভাবে ব্যালন ডি’অর পুরষ্কার অনুষ্ঠানটি হয় নির্দিষ্ট সময়ে, বছরের ডিসেম্বরে। আর ফিফা বেস্ট পুরষ্কার দেয়া হয় সাধারণত সেপ্টেম্বরে।

যখন ভোটদানের বিষয়টি আসে তখনো পুরষ্কারটিতে ভিন্নতা আছে। ব্যালন ডি’অরের জন্য বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের একটি প্যানেল ভোট দেন। অন্যদিকে, ফিফা বেস্টের জন্য জাতীয় দলের কোচ, অধিনায়ক, সাংবাদিক এবং অনুরাগীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘আন্তর্জাতিক জুরি’ বোর্ড কাজ করে।

স্বাভাবিকভাবেই, ট্রফিগুলোও আলাদা। ব্যালন ডি’অর হল এক আকর্ষণীয় সোনার বল, যা পাইরাইট বেস দিয়ে তৈরি করা হয়। আর ফিফার দ্য বেস্ট ট্রফি প্লাটিনাম এবং কার্বন দিয়ে বানানো হয়, যা ফুটবলে সর্বোচ্চ পুরষ্কারে এবং দেখতে অনেকটা বিশ্বকাপের মতো। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর (যা আগে ফরাসি গোল্ডেন বল হিসেবে পরিচিত ছিল) দেয়া হয়। আর ফিফা বেস্ট শুরু হয় ২০১৭ থেকে।

ফিফা কি ব্যালন ডি’অরের সাথে জড়িত ছিল?
ফিফা আগে ব্যালন ডি’অরের সাথে জড়িত ছিল, ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যখন সংস্থাটি ফ্রান্স ফুটবলের সাথে যোগ দিয়েছিল। বিশ্ব সংস্থাটি ১৯৯১ সাল থেকে ফিফার ‘ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’ পুরষ্কার দিয়ে আসছিল, তবে তারা ব্যালন ডি’অরের সাথে মিশে গেলে তা অচল হয়ে পড়ে।

নতুন একীভূত পুরষ্কারে ফিফা শব্দটি সামনে রেখে করা হয়েছে। ব্যালন ডি’অরের সমস্ত বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে এটিকে ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক অর্থে ফিফার নতুন ‘বেস্ট’ পুরষ্কার প্রতিষ্ঠা করা আসলে পুরানো ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’র এক ধরনের পুনরুত্থান।

Bellow Post-Green View